সংবাদদাতা, কাটোয়া: জন্ম থেকেই তাঁর শরীরে একটি কিডনি। বাবা মারণ রোগ ক্যান্সারে আক্রান্ত। তীব্র দাবদাহে গুসকরা শহরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ট্রাফিক ডিউটি করতে হয়। গরম থেকে রেহাই পেতে গুসকরা শহরের রাস্তায় হাতে গাছের টব ও অক্সিজেন মাস্ক নিয়ে সচেতন করে চলেছেন সিভিক ভলান্টিয়ার সুরজিৎ পাত্র। দাবদাহের আঁচ থেকে বাঁচতে গাছ লাগানো ও রক্ষা করা কতটা জরুরি তা তিনি সাধারণ মানুষকে বোঝাচ্ছেন।
ডিউটির ফাঁকে প্রতিদিন গুসকরা শহরের রাস্তায় গাছের টব হাতে সুরজিৎকে দেখা যায়। তাঁর একটাই বার্তা, গরম থেকে বাঁচতে গেলে গাছ লাগাতে হবে। সবুজ ধ্বংস করা যাবে না। কারণ গাছই আমাদের অক্সিজেন দেয়। রাস্তায় সুরজিৎকে প্রতিদিন যান নিয়ন্ত্রণের জন্য ট্রাফিক সামলাতে হয়। প্রতিদিন তীব্র রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। গরমে রাস্তায় অনেকেই হাঁসফাঁস করেন। তাঁদেরকে সুরজিৎ বোঝান, আর সবুজ ধ্বংস করবেন না। একটা গাছ কাটলে দশটা গাছ লাগান। বাড়িতে দামি এসি মেশিন না লাগিয়ে গাছ লাগান। তাতে তাপপ্রবাহ কমে যাবে। আপনিও নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন। সিভিক ভলান্টিয়ারের এমন উদ্যোগ দেখে সবাই সাধুবাদ জানান তাঁকে। এলাকার বাসিন্দা শেখ বকুল বলেন, এখন পরিবেশের যা অবস্থা তাতে গাছ লাগানো খুব জরুরি। উনি সিভিক ভলান্টিয়ারের কাজের ফাঁকে সবাইকে সচেতন করছেন এটা খুব ভালো উদ্যোগ।
গুসকরা শহরের ৮নম্বর ওয়ার্ডের চোঙদার পুকুর পাড়ার বাসিন্দা সুরজিৎ। আউশগ্রাম থানার গুসকরা পুলিস ফাঁড়িতে তিনি কর্মরত। বাড়িতে বাবা, মা, স্ত্রী, সন্তান ও ছোট ভাই নিয়ে তাঁর ভরা সংসার। সিভিক ভলান্টিয়ারের কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে বাবার ক্যান্সারের চিকিৎসা ও নিজের ওষুধের পয়সা জোটে না। তাই বাড়তি সময় পেলেই কথা বলা পুতুল নিয়েও স্টেজ শো করতে হয়। প্রতি রাতে দর্শকদের পুতুল নিয়ে মনোরঞ্জন করতে পারলেই কিছু টাকা রোজগার হয়।
২০১৮সালে বাবা রমেশচন্দ্র পাত্রের শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ে। রমেশবাবু রেলে চাকরি করতেন। অবসর নেওয়ার পর যা পেনশন পান তিনি সবটাই নিজের চিকিৎসায় খরচ করতে হয়। ছন্দপতন ঘটে লকডাউনের সময়। সুরজিৎ জানতে পারেন, তাঁর নাকি জন্ম থেকেই একটি কিডনি নেই। তড়িঘড়ি চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নিয়ে ধারাবাহিক চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয় তাঁকে। ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন আউশগ্রাম থানার আইসি শান্তনু অধিকারী। তিনি বলেন, এটা খুব ভালো উদ্যোগ। সুরজিৎ বলেন, বাবা ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসায় অনেক টাকা খরচ হয়। চার বছরের ছেলের চিকিৎসাও রয়েছে। তীব্র গরমে এসি মেশিন কেনার চেয়ে গাছ লাগানো উচিত। এখন রাস্তার দু’ধারে গাছ প্রায় নেই বললেই চলে। অনেকেই গাছ কাটছেন। কিন্তু এমন একটা দিন আসবে যেদিন প্রকৃতি এর প্রতিশোধ নেবে। আমি পথচারীদের সেই বার্তাই দিই।-নিজস্ব চিত্র