ম্যান সিটি- ৩ : বোর্নমাউথ- ১
ম্যান সিটি- ৩ : বোর্নমাউথ- ১
ম্যাঞ্চেস্টার: ম্যাচের বয়স ৬৯ মিনিট। ক্যাপ্টেন আর্মব্যান্ড খুলে রুবেন ডিয়াজকে পরিয়ে দিলেন কেভিন ডি ব্রুইন। তারপর শেষবারের মতো এতিহাদ স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচাকে বিদায় জানালেন বেলজিয়াম তারকা। গোটা গ্যালারি করতালিতে ক্লাব ইতিহাসের অন্যতম সেরা মিডিওকে ধন্যবাদ জানাতে ব্যস্ত। সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কোচ পেপ গুয়ার্দিওলার চোখ ছলছল করছে। মাঠ ছাড়ার মুহূর্তে কোচকে জড়িয়ে ধরে আবেগতাড়িত হয়ে পড়লেন ডি ব্রুইনও। চলতি মরশুম শেষেই ম্যাঞ্চেস্টার সিটি ছাড়ছেন তিনি। আর মঙ্গলবার শেষ হোম ম্যাচে মাঠে নেমেছিল সিটিজেনরা। ডি ব্রুইনের বিদায়ী ম্যাচে বোর্নমাউথকে ৩-১ গোলে হারাল পেপ ব্রিগেড। সেই সঙ্গে আগামী মরশুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে যোগ্যতা অর্জনের আশা জিইয়ে রাখল নীল ম্যাঞ্চেস্টার। ৩৭ ম্যাচে ৬৮ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত তৃতীয় স্থানে সিটিজেনরা। এদিন ম্যাচে বিজয়ী দলের হয়ে জাল কাঁপান যথাক্রমে ওমার মারমৌসি, বের্নার্ডো সিলভা ও নিকো গঞ্জালেস। বোর্নমাউথের একমাত্র গোলটি ড্যানিয়েল জেবিসনের।
২০১৫ সালে উলভসবার্গ থেকে ম্যান সিটিতে যোগ দেন ডি ব্রুইন। পরের বছরই সিটিজেনদের দায়িত্ব নেন পেপ। গত আট বছরে জুটি বেঁধে তাঁরা জিতেছেন ছ’টি প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, এফএ কাপ, লিগ কাপ। এই পর্বে ম্যান সিটির মাঝমাঠের নিউক্লিয়াস হয়ে উঠেছিলেন বেলজিয়াম তারকা। তবে চলতি মরশুমের শুরু থেকেই চোটের কারণে ভুগতে হয় তাঁকে। তাই ডি ব্রুইনের সঙ্গে চুক্তি নবীকরণের ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহ দেখায়নি ক্লাব। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে নিজেই ক্লাব ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি। তাই মঙ্গলবার মরশুমের শেষ হোম ম্যাচে গোটা এতিহাদ স্টেডিয়াম হয়ে উঠেছিল ডি ব্রুইনময়। ম্যাচের শুরুতেই গ্যালারিতে নামানো হয় এক বিশাল টিফো। তাতে লেখা ছিল, ‘কিং কেভ’। এরপরই ক্যাপ্টেন আর্মব্যান্ড পরে বাচ্চাদের হাত ধরে মাঠে নামেন ডি ব্রুইন। ম্যাচ শেষে গোটা দল তাঁকে কাঁধে তুলে ম্যাচ জয়ের সেলিব্রেশন সারে। সতীর্থদের কাছ থেকে এমন ভালোবাসা পেয়ে আপ্লুত ডি ব্রুইন।