Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরা হোক লালগোলাকে, দাবি শহরবাসীর

প্রশাসনিক নজরদারি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে লালগোলার একাধিক ঐতিহাসিক নিদর্শন কোনওমতে টিকে রয়েছে।

পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরা হোক লালগোলাকে, দাবি শহরবাসীর
  • ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ: প্রশাসনিক নজরদারি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে লালগোলার একাধিক ঐতিহাসিক নিদর্শন কোনওমতে টিকে রয়েছে। শহরবাসীর দাবি, এভাবে আরও কয়েক বছর অতিবাহিত হলে বেশকিছু নিদর্শন লালগোলার মাটি থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে। এব্যাপারে প্রশাসন উদ্যোগী হয়ে সংস্কার শুরু করলে নিদর্শনগুলি রক্ষা করা সম্ভব হবে। পর্যটকরাও আসবেন। ফলে একদিকে যেমন কর্মস্থান হবে, তেমনই জেলা তথা রাজ্যের মানচিত্রে লালগোলা অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসবে। জেলা পর্যটনের আধিকারিক সব্যসাচী খান বলেন, মুর্শিদাবাদ জেলাজুড়ে দর্শনীয় ও ইতিহাস সমৃদ্ধ স্থানগুলিকে সংস্কার করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। লালগোলাকেও সাজিয়ে তোলা হবে।

Advertisement

ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তঘেঁষা পদ্মাপাড়ের প্রাচীন জনপদ লালগোলা। এখানে রয়েছে লালগোলা রাজবাড়ি। যা বর্তমানে পূর্ব ভারতের একমাত্র মুক্ত সংশোধনাগার। পাশেই রয়েছে লালগোলা রাজপরিবারের দুই শতাধিক বছরের প্রাচীন কালীমন্দির। মন্দিরের দেবী শৃঙ্খলিত কালী বা রাজরাজেশ্বরী নামে পরিচিত। কালীমন্দির চত্বরে রয়েছে প্রায় ভগ্নদশাপ্রাপ্ত রাজ অতিথিশালা। ১৮৭৪ সালের শেষের দিকে সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র লালগোলার তৎকালীন রাজার আতিথ্য গ্রহণ করে এই অতিথিশালায় প্রায় তিনমাস ছিলেন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের বীজমন্ত্র ‘বন্দেমাতরম’ গান রচনা এবং আনন্দমঠ উপন্যাসের সূচনা লালগোলার কালীবাড়ির মায়ের সামনে বসেই বঙ্কিমচন্দ্র শুরু করেছিলেন। এমনই দাবি মুর্শিদাবাদের একাধিক ইতিহাস গবেষক ও লালগোলার প্রবীণ বাসিন্দাদের। কালীবাড়ির পাশে রাজাদের দানক্ষেত্র রয়েছে। তবে, সেটি জীর্ণ হয়ে যাওয়ায় সম্প্রতি নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে। মন্দিরের পাশে রয়েছে উপবন। এছাড়াও রয়েছে আড়াইশো বছরেরও বেশি প্রাচীন রঘুনাথ মন্দির, শতাধিক বছরের জৈন মন্দির, দুই শতাধিক বছরের লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির সহ বেশকিছু মন্দির। এই সমস্ত স্থাপত্য নিদর্শনের পাশাপাশি খাঁদুয়ার পদ্মার সৌন্দর্য অবর্ণনীয়। স্থানীয়দের দাবি, বিকেলে এলাকাবাসী মানুষজন পদ্মাপাড়ে ভিড় জমালেও পর্যটকরা আসেন না। স্থানীয় বাসিন্দা উত্তম জৈন বলেন, জেলা পর্যটন ও তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর লালগোলার পর্যটনকে তুলে ধরতে এখনও পর্যন্ত সেভাবে উদ্যোগ নেয়নি। ফলে মুর্শিদাবাদের পর্যটন লালবাগকেন্দ্রিক হয়ে রয়েছে। লালগোলাবাসী হিসেবে আমাদের দাবি, লালগোলাকে পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরা হোক।
ইতিহাসের গবেষক তথা স্থানীয় বাসিন্দা সুমনকুমার মিত্র বলেন, লালগোলায় একাধিক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। অথচ প্রচারের অভাবে লালগোলা পর্যটন মানচিত্রে ব্রাত্য হয়ে রয়েছে। জেলা ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের তরফে দর্শনীয় স্থানগুলি সংস্কারের জন্য পর্যটন দপ্তরে একাধিকবার দরবার করা হয়েছে। সংস্কার ও সঠিক প্রচার হলে পর্যটকরা লালগোলায় আসবেন। তাছাড়া, কলকলি নদীকে সংস্কার করে বোটিং এবং উপবনকে পার্ক হিসেবে গড়ে তুললে পর্যটকদের আকর্ষণ আরও বাড়বে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ