নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাল, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে শহর সাফ করে ফেলতে হবে! পুজোর সময় রাস্তার দুধারে অস্থায়ী বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য বাঁশের কাঠামো তৈরি করা হয়। পোস্টার, ব্যানার, পুজোর বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে বাঁধা বাঁশ, সবটাই খুলে ফেলতে হবে এই সময়সীমার মধ্যে। এর জন্য বিভিন্ন পুজো কমিটি ও বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থাকে সতর্কতামূলক নোটিস ধরানো হয়েছে। মঙ্গলবার সেই নোটিস দিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। তাৎপর্যপূর্ণ হল, এই কাজে নজিরবিহীনভাবে পুরসভার ছ’টি বিভাগকে একত্রে নামানো হয়েছে। যা আগে কোনোদিন হয়নি।
গত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, রাস্তার ধারের ওই কাঠামোসহ পুজোকেন্দ্রিক বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং বা ব্যানার খোলা নিয়ে কড়াকড়ি করছে পুরসভা। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে হোর্ডিং-ব্যানার না খোলায় একাধিক বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থাকে জরিমানাও করা হয়েছে। এবছরও পুরসভা যথারীতি নোটিস দিয়ে জানিয়েছিল, আগামী ২৮ অক্টোবর অর্থাৎ বিজয়া দশমীর সাত দিনের মধ্যে এই ধরনের সব বিজ্ঞাপন সম্পূর্ণ খুলে ফেলতে হবে। সেই মতো ইতিমধ্যে শহরের অনেকাংশে অস্থায়ী বিজ্ঞাপন ও কাঠামো খুলে ফেলার কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু, ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় শহরের রাস্তা থেকে ব্যানার, বাঁশের কাঠামো খুলতে গত শনিবার থেকেই ময়দানে নামে পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগ। ফলে বেশিরভাগ জায়গা থেকেই পুজো সংক্রান্ত প্রায় সমস্ত বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং, ব্যানার, ফ্লেক্স সরিয়ে ফেলা হয়েছে। কিন্তু, অনেক জায়গায় এখনও রয়ে গিয়েছে বাঁশের কাঠামো। এগুলি সরাতে বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থা ও পুজো কমিটিগুলি গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় পুরসভা নোটিস দিয়ে জানিয়েছে, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে সব খুলে ফেলতেই হবে। তড়িঘড়ি বাঁশের কাঠামো খোলা বা ভাঙার কাজ করতে বিজ্ঞাপন বিভাগ ছাড়াও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, উদ্যান, আলোক, বিল্ডিং এবং জঞ্জাল সাফাই ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগকে একযোগে কাজে নামানো হয়েছে। আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, বিজ্ঞাপন বিভাগই লোক লাগিয়ে এসব কাজ করে। কিন্তু এভাবে চটজলদি সাফাইয়ের কাজ করতে গেলে আরও লোক দরকার। তাই এতগুলি বিভাগকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।-নিজস্ব চিত্র



