Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উৎসবে মেতেছে পাহাড়ের ‘রানি’ দার্জিলিং, বড়দিনের আগেই ক্রিসমাসের আমেজ

বিধ্বংসী দুর্যোগের দু’মাসেই স্বাভাবিক! তাই শীত পড়তেই উৎসবে জমজমাট পাহাড়ের ‘রানি’ দার্জিলিং। দু’দিন ধরে চলছে ঘুম উৎসব।

উৎসবে মেতেছে পাহাড়ের ‘রানি’ দার্জিলিং, বড়দিনের আগেই ক্রিসমাসের আমেজ
  • ১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৭:১২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, দার্জিলিং: বিধ্বংসী দুর্যোগের দু’মাসেই স্বাভাবিক! তাই শীত পড়তেই উৎসবে জমজমাট পাহাড়ের ‘রানি’ দার্জিলিং। দু’দিন ধরে চলছে ঘুম উৎসব। এক সপ্তাহ পরই টি-ফেস্ট উৎসব। ব্যান্ড থেকে ফ্যাশন শো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে রোড রেস। সবমিলিয়ে বড়দিনের আগেই শৈল শহর কার্যত মেতেছে বড়দিনের উৎসবে। এখন থেকেই হোটেল, রেস্তরাঁয় সর্বত্র বড়দিনের প্রস্তুতি তুঙ্গে। এনিয়ে উচ্ছ্বসিত পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকের ব্যাপক ভিড় থাকবে পাহাড়ে। ইতিমধ্যে হোটেল ও লজের ৬৫ শতাংশ রুম বুক হয়েছে।

Advertisement

৪ অক্টোবর প্রবল বর্ষণ, ধস, নদী ও ঝোরার জলোচ্ছ্বাসে তছনছ হয়ে যায় দার্জিলিং। ভয়াবহ সেই ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যেই পাহাড় ও সমতলের মধ্যে চলাচলকারী অধিকাংশ রুট স্বাভাবিক হয়। শৈল শহরের অধিকাংশ পর্যটনকেন্দ্র খুলে যায়। এখন শীত পড়তেই ছবিটা আরও পাল্টে গিয়েছে। পরীক্ষার মরশুম হলেও উৎসবে মেতেছে পাহাড়।
শনিবার পাহাড়ের চৌরাস্তায় ঘুম উৎসবের সূচনা করেছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেল কর্তৃপক্ষ (ডিএইচআর)। এবছর তারা শিক্ষা, পরিবেশ, সমাজসেবা, পর্যটন এবং ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে অবদান রাখায় ছাত্র, ব্যক্তি ও সংস্থাকে স্বীকৃতি প্রদান করছে। ডিএইচআরের এই উৎসব ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। এরপরই ১১ ডিসেম্বর দার্জিলিং জেলা পুলিশের উদ্যোগে চৌরাস্তাতেই সূচনা হবে টি-মেলোফেস্টের। চলবে ১৪ডিসেম্বর পর্যন্ত। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রক ব্যান্ড, ফ্যাশন শো প্রভৃতি থাকবে। ১০ ও ৩১ কিমি দু’টি রোড রেস প্রতিযোগিতা হবে।
স্থানীয়রা বলেন, স্থানীয়দের পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থলে ভিড় করছেন পর্যটকরা। পরীক্ষার মরশুম হওয়ায় ঘরোয়া পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কম রয়েছে। তবে বিদেশি পর্যটকের আনাগোনা শুরু হয়েছে। টাইগার হিল, মহাকাল মন্দির সহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও অনুষ্ঠানে ভিড় করছেন তাঁরা। ট্যুর অপারেটার সম্রাট সান্যাল বলেন, পরীক্ষার মরশুম হলেও পাহাড়ে এখন পর্যটকদের আনাগোনা রয়েছে। বড়দিনের আগেই শৈল শহরে পর্যটকের ভিড় বাড়বে বলেই মনে হচ্ছে।
রবিবার দিনভর পাহাড়ের আবহাওয়া ছিল কুয়াশাচ্ছন্ন। দিনের অধিকাংশ সময় সূর্যের দেখা মেলেনি। কনকনে ঠান্ডা ছিল। সন্ধ্যার পর ঠান্ডার তীব্রতা বাড়ে। এমন আবহাওয়ায় একের পর এক উৎসবে পাহাড়ে বড়দিনের আমেজ শুরু হয়েছে। আলোর মালা, বেলুন, স্টার, ক্রিসমাস-ট্রি প্রভৃতিতে হোটেল, লজ, বাড়ি, গির্জা সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে খবর। 
স্থানীয়রা বলেন, বড়দিনের আগেই পাহাড়ে বড়দিনের উৎসবের মুড। ট্যুর অপারেটার সম্রাট বলেন, পাহাড়ে হোটেল ও লজের সংখ্যা প্রায় ১৫শো। যার ৬৫শতাংশ রুম বুকিং। এটা আরও বাড়বে। 
১৬ ডিসেম্বর থেকে প্রায় ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকের ভিড় থাকবে পাহাড়ে। • নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ