Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এক বছর বন্ধ চোপড়ার চন্দন চা বাগান, পরিচর্যা করেই চলছে শ্রমিকদের পেট

চোপড়ার দাসপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার চন্দন চা বাগান এক বছর ধরে বন্ধ। এর জেরে প্রায় ১ হাজার ৫০০ শ্রমিক চরম অনিশ্চয়তার মুখে।

এক বছর বন্ধ চোপড়ার চন্দন চা বাগান, পরিচর্যা করেই চলছে শ্রমিকদের পেট
  • ২৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, চোপড়া: চোপড়ার দাসপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার চন্দন চা বাগান এক বছর ধরে বন্ধ। এর জেরে প্রায় ১ হাজার ৫০০ শ্রমিক চরম অনিশ্চয়তার মুখে। ২০২৪ সালের জুন মাস থেকে লোকসানের কারণ দেখিয়ে বাগান কর্তৃপক্ষ ফ্যাক্টরির গেটে নোটিস টাঙিয়ে দেয়। তখন থেকেই বাগানটি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ১ হাজার ৫০০ শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। অনেকেই কাজের সন্ধানে অন্যত্র যেতে বাধ্য হয়েছেন। বাগানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ২০টিরও বেশি গ্রামের মানুষের জীবন-জীবিকায় প্রভাব পড়েছে।

Advertisement

শ্রমিক ললিতা তির্কির কথায়, আগে তাঁরা চায়ের কুঁড়ি তোলা থেকে শুরু করে ফ্যাক্টরিতে প্রক্রিয়াকরণ পর্যন্ত বিভিন্ন কাজ করতেন। যা এখন সম্পূর্ণ বন্ধ। মোকসেদ আলম নামে আর এক শ্রমিক জানিয়েছেন, বাগান খোলার বিষয়ে একাধিকবার বৈঠক হলেও সমাধান সূত্র মেলেনি। কাজ না থাকলেও শ্রমিকরা  কয়েক মাস ধরে নিজেদের উদ্যোগে গোষ্ঠী করে বাগান পরিচর্যা করছেন। সংগৃহীত চা পাতা বিক্রি করে কিছু অর্থ বাগানের পরিচর্যার জন্য রেখে বাকিটা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিচ্ছেন। তা সত্ত্বেও এক বছর ধরে কাজ হারানো এই শ্রমিকরা দিশেহারা হয়ে রয়েছেন। পরিবারকে খাওয়ানো, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগার করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 
শ্রমিক ধর্ম বারাইক হতাশার সঙ্গে বলেন, বাগান খোলার আশা ছেড়ে দিয়ে এখন বাইরের রাজ্যে শ্রমিকের কাজ করতে যেতে হচ্ছে। বাগান খোলার বিষয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে যতবার বৈঠক হয়েছে, বেশিরভাগ সময়ই বকেয়া মজুরি দিতে রাজি হননি। শ্রমিক সংগঠনগুলি বকেয়া বেতনের উপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
সিটু নেতা দবিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বাগান খোলার বিষয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। তৃণমূলের শ্রমিক নেতা কালু সিংহ বলেন, বাগান খোলার বিষয়টি বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হয়েছে এবং মালিকপক্ষের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। এব্যাপারে ইসলামপুর জয়েন্ট লেবার কমিশনার দীপনারায়ণ ভাণ্ডারী বলেন, মালিকপক্ষের সঙ্গে পাঁচবার বৈঠক হলেও বাগান খোলায় আগ্রহ দেখায়নি। চন্দন চা বাগান বন্ধ হয়ে থাকায় এলাকার অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ