Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চিত্তরঞ্জনের পুজোয় এবার আনন্দে ভাটা

সিএলডব্লুর ১৭ হাজার স্থায়ী শ্রমিকের আবাসস্থল রেল শহর চিত্তরঞ্জন একটা সময়ে শিল্পাঞ্চলের ক্রীড়া ও সংস্কৃতির রাজধানী ছিল।

চিত্তরঞ্জনের পুজোয় এবার আনন্দে ভাটা
  • ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চিত্তরঞ্জন: সিএলডব্লুর ১৭ হাজার স্থায়ী শ্রমিকের আবাসস্থল রেল শহর চিত্তরঞ্জন একটা সময়ে শিল্পাঞ্চলের ক্রীড়া ও সংস্কৃতির রাজধানী ছিল। চিত্তরঞ্জনের পুজো মণ্ডপগুলি শিল্পাঞ্চলের অন্যতম সেরা হয়ে উঠত। কে কাকে টেক্কা দেয়, তা নিয়েও জোর প্রতিযোগিতা চলত। এবার পুজোর আগে চিত্তরঞ্জনে সেই জাঁকজমকের লেশমাত্র নেই। সিএলডব্লুতে দীর্ঘদিন নতুন করে স্থায়ী নিয়োগ হয়নি। তার উপর চলতি বছরে রেলের উচ্ছেদ অভিযান শহরকে যেন আরও নিঃসঙ্গ করে দিয়েছে। কোয়ার্টার থেকে জবরদখল তোলার পাশাপাশি বহু দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বহু পরিবার রেলশহর ত্যাগ করেছে। স্বাভাবিকভাবে বসতি কমে যাওয়ায় পুজো মণ্ডপগুলির চাঁদা সংগ্রহ কমছে। ক্রমশ ছোট হচ্ছে পুজোর বৃত্ত। সৃষ্টিশীল চিত্তরঞ্জনবাসী তাও অল্প বাজেটে ছোট প্যান্ডেলে ফুটিয়ে তুলছেন নানা থিম।

Advertisement

রেল শহরের আনাচে কানাচে কান পাতলে আরও একটি বিষয় শোনা যাচ্ছে। নরেন্দ্র মোদির প্রিয় বিজেপি নেতা অশ্বিনী বৈষ্ণবের হাতে থাকা রেলমন্ত্রক এখনও পুজোর বোনাস ঘোষণা করেনি। এদিকে পুজোর আর তিনদিন বাকি। তাও মন্ত্রকের এহেন উদাসীনতা রেলকর্মীদের বিষণ্ণ করেছে। তাই মণ্ডপে মায়ের আগমন হলেও রেল শহরের ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠার অন্ত নেই।
চিত্তরঞ্জনের এরিয়া-১ এলাকার বড় বাজার ফতেপুর। সেই ফতেপুরে রয়েছে ওভাল মাঠ। নামী ক্রিকেট মাঠের নামানুসারেই চিত্তরঞ্জনের গ্যালারি সহ এই মাঠের নামকরণ করা হয়েছে। সেই মাঠেই বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে পুজো করত ফতেপুর সর্বজনীন দুর্গা, লক্ষ্মী ও কালী পুজো কমিটি। একসময় নানা থিমের মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সেই পুজো মণ্ডপ এখন জৌলুস হারিয়েছে। ছোট মণ্ডপেই রাজস্থানী থিম ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। কিন্ত কেন এমন দশা? পুজো উদ্যোক্তা রাজেশকুমার মণ্ডল বলেন, আগে এই এলাকায় ৯০০টি কোয়ার্টারে বাসিন্দারা থাকতেন। তাঁরা সবাই চাঁদা দিতেন। এখন ৩৮০টি কোয়ার্টারে মানুষ রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই পুজোর বাজেট এক তৃতীয়াংশ হয়ে গিয়েছে। ছ’য়ের পল্লির পুজো কমিটির উদ্যোক্তা বাপ্পা কুণ্ডু বলেন, শুধু স্থায়ী বাসিন্দা কমছে তা নয়। বাজারগুলিকেও ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। দোকানপাট কমে গিয়েছে। সেখান থেকেও পুজো বাবদ পর্যাপ্ত চাঁদা আসছে না। বাজেট কমানোর জেরে ঝিলপাহাড়ীর পুজো প্রত্যন্ত গ্রামের বারোয়ারি দুর্গাপুজোর থেকেও ছোট হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, সিমজুড়ির পুজো উদ্যোক্তা আবীর গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আগে আমরা ১২০০টি কোয়ার্টার থেকে চাঁদা সংগ্রহ করতাম। এখন সেখানে মাত্র ৫৫০টি কোয়ার্টারে লোক থাকে। ফলে আমরা বড় রকম সমস্যায় পড়েছি।
আইএনটিইউসি নেতা নেপাল চক্রবর্তী বলেন, চিত্তরঞ্জনে এখন কার্যত ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি চলছে। নতুন নিয়োগ করা নিয়ে আমরা বার বার সরব হয়েছি। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি।
সিটু নেতা রাজীব গুপ্ত বলেন, নতুন স্থায়ী নিয়োগ নেই। এখনও পর্যন্ত বোনাস ঘোষণা করা হল না। শ্রমিকরা উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। পুজোর জৌলুস বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারই ফিকে করে দিচ্ছে। 
এনিয়ে সিএলডব্লুর জনসংযোগ আধিকারিক চিত্রসেন মণ্ডলকে ফোন করা হলে কেটে দেন। মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক অমিতাভ চৌধুরী ফোন ধরেননি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ