ঢাকা: শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অশান্ত বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু নির্যাতনের ঘটনায় প্রতিবাদের মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। এরজন্য অন্তর্বর্তী সরকারের জমানায় গ্রেপ্তার হতে হয় তাঁকে। জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে গত বছর ৩০ অক্টোবর চট্টগ্রামে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়। অবশেষে বুধবার বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী জামিন পেলেন। শুনানি শেষে এদিন বিচারপতি মহম্মদ আতোয়ার রহমান ও মহম্মদ আলি রেজাকে নিয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে।
রাষ্টদ্রোহের এই মামলায় জামিন চেয়ে ইস্কনের প্রাক্তন নেতা চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট গত ৪ ফেব্রুয়ারি রুল জারি করেছিল। আবেদনকারীকে (চিন্ময়) কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছিল আদালত। এরপর গত ২৩ এপ্রিল হাইকোর্টে সেবিষয়ে শুনানি হয়। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছিল ৩০ এপ্রিল, অর্থাৎ বুধবার। সেই সূত্রেই এদিনের শুনানিতে অবশেষে চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের জামিনের আর্জি মঞ্জুর করে হাইকোর্ট।
গত বছর অক্টোবরে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান কোতোয়ালি থানায় চিন্ময়কৃষ্ণ দাস সহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করেন। অভিযোগ, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার উপরে হিন্দুত্ববাদী গেরুয়া ধ্বজা উত্তোলন করা হয়। যদিও অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করেন ইস্কনের এই প্রাক্তন নেতা। এই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ সহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাংলাদেশে অশান্তির রেশ গিয়ে পড়ে আদালতে বিচারের প্রক্রিয়াতেও। মৌলবাদীদের হুমকি ও মারধরের মুখে পড়তে হয় চিন্ময়কৃষ্ণের আইনজীবীকে। নিম্ন আদালত থেকে অবশেষে হাইকোর্টে যায় মামলা। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করল।