ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি: সুযোগ-সন্ধানী চীন। মে মাসের ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাতকে কৌশলে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির প্রয়োজনে ব্যবহার করেছে তারা। কিন্তু কীভাবে? অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন চীনের সেই গুপ্ত ব্লু-প্রিন্ট ফাঁস হয়েছে একটি মার্কিন কমিশনের রিপোর্টে। ভারতের সঙ্গে চার দিনের সামরিক সংঘাতে চীনের থেকে কেনা অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করেছিল পাকিস্তান। মার্কিন কমিশনের দাবি, সেইসব অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বাস্তবে যুদ্ধের জন্য কতটা উপযোগী, পরোক্ষে তা ঝালিয়ে নিয়েছে চীন। ভারত-পাক সংঘাতকে কাজে লাগিয়েই গোটা বিশ্বের কাছে এইসব অস্ত্র কতটা অত্যাধুনিক, তার প্রচার ও বিজ্ঞাপন সেরেছে বেজিং। শুধু তাই নয়, এর ফলে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ও তার বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণও বেজিংয়ের জন্য সহায়ক হবে।
আমেরিকা-চীন অর্থনৈতির ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিশন গত মঙ্গলবার তাদের বার্ষিক রিপোর্টে পেশ করেছিল মার্কিন কংগ্রেসে। এই রিপোর্টেই দাবি করা হয়েছে, অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন চার দিনের সংঘাতে ভারতকে সামরিক শক্তিতে মাত দিয়েছে পাকিস্তান। মার্কিন কমিশনের পেশ করা রিপোর্টের এই দাবি ঘিরে ইতিমধ্যেই ভারতে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এবিষয়ে কেন্দ্রের মোদি সরকারের বক্তব্যের দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। তারই মধ্যে ওই মার্কিন রিপোর্টের আরও কিছু বয়ান সামনে চলে এল। চীন কীভাবে মেঘের আড়ালে বসে ভারত-পাক সামরিক সংঘাত থেকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করেছে, তারই ব্যাখ্যা তুলে ধরেছে ওই রিপোর্ট। সেখানে বলা হয়েছে, ভারত-পাক সংঘাতকে কাজে লাগিয়েই এইচকিউ-৯ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, পিএল-১৫ এয়ার টু এয়ার মিসাইল ও জে-১০ ফাইটার এয়ারক্র্যাফ্টের মতো অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবে যুদ্ধের জন্য কতটা উপযুক্ত, প্রথমবার তা ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে চীন। কারণ চীনের কাছ থেকে কেনা এইসব অস্ত্রশস্ত্রই ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছিল পাকিস্তান। চার দিনের ওই সংঘাত শেষ হওয়ার পর জুন মাসে আরও একাধিক নতুন সামরিক অস্ত্রশস্ত্র পাকিস্তানকে বিক্রির প্রস্তাব দেয় বেজিং। সেই তালিকায় রয়েছে ৪০টি জে-৩৫ ফিফ্থ জেনারেশন ফাইটার জেট, কেজে-৫০০ এয়ারক্র্যাফ্ট ও ব্যালিস্টিক মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম। ভারত-পাক সংঘাত শেষের পরই বিভিন্ন দেশের চীনা দূতাবাসগুলি তাদের তৈরি অস্ত্রশস্ত্রের এই সাফল্য তুলে ধরার কাজে নেমে পড়ে। নিজেদের তৈরি অস্ত্র বিক্রি বৃদ্ধির কৌশল হিসেবেই বেজিং ওই পদক্ষেপ করেছিল বলে দাবি মার্কিন রিপোর্টে।