নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: জেলা জুড়ে আশিটি শিশু ‘অতি’ অপুষ্টিতে ভুগছে। বেশ কিছু এলাকায় শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টির ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। যারজেরে উদ্বেগ বাড়ছে জেলায়। ‘অতি’ অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতে আসানসোলে পুষ্টি পুনর্বাসন কেন্দ্র গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আসানসোলে জেলা হাসপাতালেই তা করার তৎপরতা শুরু হয়েছে। যেখানে শিশুদের রেখে চিকিৎসা করিয়ে পুষ্টিকর খাবার খাইয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানো হবে। শিশু ও গর্ভবতী মহিলারা পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছেন কিনা তা দেখার জন্যও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হচ্ছে।
জেলাশাসক পোন্নমবলম এস বলেন, ডিস্ট্রিক্ট নিউট্রিশনাল কমিটির বৈঠক হয়েছে। আইসডিএস কেন্দ্র ও মা ও শিশুদের পুষ্টির মান নিয়ে চর্চা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার আসানসোল জেলাশাসক অফিসে ডিস্ট্রিক্ট নিউট্রিশনার কমিটির বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। জেলাশাসক ছাড়াও অতিরিক্ত জেলাশাসক সঞ্জয় পাল, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শেখ মহম্মদ ইউনুস, আসানসোলের মহকুমা শাসক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য, আইসিডিএসের জেলা প্রকল্প আধিকারিক সহ সিডিপিওর হাজির ছিলেন। সেখানেই জেলার প্রতিটি আইসিডিএস প্রজেক্ট নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ চর্চা হয়। তখনই জেলায় অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের পরিসংখ্যান সামনে এসেছে। যা দেখে জেলাশাসক দ্রুত আসানসোলে এনআরসি গড়ার নির্দেশ দেন জেলা মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিককে। জানা গিয়েছে, জেলার কাঁকসায় একটি এনআরসি রয়েছে। সেখানে আসানসোল মহকুমার শিশুদের নিয়ে যাওয়া যথেষ্ট উদ্বেগের। তাই নতুন কেন্দ্র দ্রুত গড়ার তৎপরতা শুরু হয়েছে। এখানে মা ও শিশুকে রেখে চিকিৎসা করানো হবে।
শিশুদের পুষ্টিতে কোথায় ঘাটতি থাকছে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেক্ষেত্রে কিছু ক্ষেত্রে নজরদারির ত্রুটিও ধরা পড়েছে। বিশেষ করে, গর্ভবতী মহিলা ও শিশুদের পুষ্টিকর খাবার সেখানে খাওয়ানো হচ্ছে কিনা তা দেখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। সেই কারণে আইসিডিএস কেন্দ্রগুলিতে আরও নিবিড়ভাবে পরিদর্শন করতে বলা হয়েছে। এরপাশাপাশি যে সব কেন্দ্রগুলি ভগ্নপ্রায় তার তালিকা চাওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিটি কেন্দ্রে নলবাহিত পরিস্রুত পানীয় জল দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। পর্যায়ক্রমে আইসিডিএস কেন্দ্রগুলিতে এনপিজি সংযোগ, ওয়াটার পিউরিফায়ার ও টিভি দেওয়ার কাজও চলছে।
অতিরিক্ত জেলাশাসক সঞ্জয় পাল বলেন, অতি অপুষ্ঠিতে আক্রান্ত শিশুরা দু’প্রকার হয়। যে সব শিশুরা কোন রোগে আক্রান্ত তারাও অপুষ্টির শিকার হবে। দ্বিতীয় কারণ অবশ্যই পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার না পাওয়া। এনআরসিতে তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব।
অপুষ্টি নিয়ে উদ্বেগের মাঝেই শিশু ও গর্ভবতী মেয়ের পুষ্টির মান যাচাই দুটি পঞ্চায়েত সাফল্য পেয়েছে। সালানপুর ব্লকের দেন্দুয়া ও জামুড়িয়া ব্লকের শ্যামলা গ্রাম পঞ্চায়েত সুপোষিত গ্রাম পঞ্চায়েত হিসাবে মনোনীত হয়েছে।