নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ ও সংবাদদাতা, হবিবপুর: পুলিশের একের পর এক অভিযানে কারবার ধাক্কা খেয়েছে অনেকটা। কিছুটা দমলেও নিত্যনতুন পন্থা বের করে জালনোটের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশি পাচারকারীরা। সেই তালিকায় নবতম সংযোজন শিশুদের ব্যবহার।
নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ ও সংবাদদাতা, হবিবপুর: পুলিশের একের পর এক অভিযানে কারবার ধাক্কা খেয়েছে অনেকটা। কিছুটা দমলেও নিত্যনতুন পন্থা বের করে জালনোটের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশি পাচারকারীরা। সেই তালিকায় নবতম সংযোজন শিশুদের ব্যবহার।
ইংলিশবাজার ব্লকের মহদিপুর সীমান্ত থেকে দক্ষিণ দিক ধরে একে একে আকন্দবেরিয়া, শসানি, চরিঅনন্তপুর, শুকদেবপুর, সফদরপুর, দৌলতাপুর, শোভাপুর। এই এলাকাকে এখন পুলিশ জালনোট পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে বিএসএফের শসানি বর্ডার আউটপোস্টের পর থেকে চরিঅনন্তপুর, শুকদেবপুর ও সফদরপুর সীমান্ত দিয়েই বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি জালনোট পাচার হয় ভারতে।
এখানে সীমান্তের দু’পাশেই কাঁটাতারের প্রায় গা ঘেঁষে বাড়িঘর। ফলে কোনও শিশু যদি ওপার থেকে জালনোটের বান্ডিল ছুঁড়ে দেয়, সহজেই সেটি ভারতে এসে পড়বে। এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে বাংলাদেশি চোরাকারবারিরা। সেজন্য বৈষ্ণবনগর সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির দিকে এখন বাড়তি নজর পুলিশের। পাচারকারীদের পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে তৈরি হচ্ছে ব্লু প্রিন্ট। মালদহের পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জালনোটের কারবার বন্ধ করতে আমরা সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়েছি। কাউকে রেয়াত করা হবে না।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ওপার থেকে বাংলাদেশের চোরাচালানকারীরা এপারের ভারতীয় শিশুদের টার্গেট করে। তাদের চকলেট বা অন্য কিছু খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্তের কাছাকাছি টেনে আনছে। এরপর ওপার থেকে প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগে ভারতীয় জালনোটের বান্ডিল ছুঁড়ে দেয় এপারে। বাচ্চারা সেই বান্ডিল শাহাবাজপুরে বাইক নিয়ে অপেক্ষারত নির্দিষ্ট ব্যক্তির হাতে তুলে দেয়। সেই পাচারকারী নোটগুলি নিয়ে সুযোগ বুঝে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে মালদহের বিভিন্ন বাজার, হাটে। এরপর ট্রেন, বাসে করে জালনোট চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
গোয়েন্দাদের দাবি, সীমান্তের ওপারে চাঁপাই নবাবগঞ্জে ভারতীয় জালনোট তৈরি হচ্ছে। এক সময় জালনোটের কারবার রুখতে ফরাক্কায় শিবির করেছিল এনআইএ। ভারতে নোট বাতিলের পর জালনোটের কারবার জোর ধাক্কা খেলেও ফের মাথা তুলছে। প্রতীকী চিত্র