আজ ১৫ আগস্ট। অসংখ্য বিপ্লবীর প্রাণের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা লাভ করেছি। অরবিন্দ ঘোষ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ছেলেবেলার কাহিনি শোনালেন সমৃদ্ধ দত্ত।
আজ ১৫ আগস্ট। অসংখ্য বিপ্লবীর প্রাণের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা লাভ করেছি। অরবিন্দ ঘোষ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ছেলেবেলার কাহিনি শোনালেন সমৃদ্ধ দত্ত।
অরবিন্দ ঘোষ: পরিবারের সকলের কাছে তাঁর নাম ‘অরো’। অরোকে নিয়ে পিতা-মাতার অনেক স্বপ্ন। আর সত্যি বলতে কী সেই স্বপ্ন দেখার কারণও আছে। এরকম বাল্যকালে মেধার প্রকাশ, মনীষার বিচ্ছুরণ সচরাচর দেখা যায় না। নিছক সাধারণ স্কুলে পাঠিয়ে সেই আদি অনন্ত পাঠচক্রের মধ্যে ছেড়ে দিলে এই প্রতিভার প্রতি অবিচার করা হবে। তাই পিতা স্থির করলেন একেবারে শুরু থেকেই বিদেশি ও ভারতীয় দুই ভাষা, আচার, সংস্কৃতি আর সহবৎ শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে তাঁর প্রিয় পুত্র ‘অরো’কে।
বাবা কৃষ্ণধন ঘোষ ছিলেন পরিচিত চিকিৎসক। আর বিখ্যাত রাজনারায়ণ বসুর কন্যা স্বর্ণলতা দেবী মা। কৃষ্ণধন ঘোষ প্রথম থেকেই ছিলেন পাশ্চাত্যপ্রেমী। অর্থাৎ ব্রিটিশদের আচার-আচরণ, সামাজিক রীতি, বিশেষ করে পোশাক পরিধান পদ্ধতির মধ্যেই যেন রয়েছে একটি বিশেষ উন্নত সংস্কৃতির পরিচয়।
পিতার নির্দেশ, বাড়ির মধ্যে বাংলা কথা বলা যথাসম্ভব কম হবে। তিনি বুঝতে পারছিলেন, যেভাবে বাংলা আর ভারত চলেছে, আগামী দিনে ইংরেজি ভাষা হবে এই দেশ এবং জগৎজয়ের অস্ত্র। কিন্তু নিছক ইংরেজি ভাষা কোনোমতে শিখে নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের দপ্তরে ছোটো অথবা বড়ো সামান্য কেরানির কাজ করবে পুত্ররা, এরকম তিনি চাইছেন না। তিনি জানেন, তাঁর পুত্রদের মধ্যে সরাসরি সর্বোচ্চ পদে বসে অন্যদের পরিচালনা করার বৈশিষ্ট্য আছে।
স্বাভাবিকভাবেই কলকাতায় পড়াশোনা করানোর প্রশ্নই নেই। অরো যাঁর ডাক নাম, তাঁর প্রকৃত নাম অরবিন্দ ঘোষ। দুই দাদা বিনয়ভূষণ ও মনমোহনের সঙ্গে তাঁকেও পাঠানো হল দার্জিলিং লোরেটো কনভেন্ট স্কুলে। সম্পূর্ণ ইংরেজিয়ানায় বড়ো হতে হবে। এই ছিল লক্ষ্য। এর পর তাঁদের পাঠানো হল সরাসরি ইংল্যান্ডে। ম্যানচেস্টারে রেভারেন্ড উইলিয়ম ড্রিউইট ছিলেন উচ্চশিক্ষিত পাদ্রী। তাঁর পরিবারের অভিভাবকত্বে থাকবেন এই তিন ভাই। সহজ কারণ হল, কোনো ভারতীয় ছাত্রের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগই থাকবে না।
অরবিন্দ ম্যানচেস্টারে পাদ্রীর তত্ত্বাবধানে পেলেন রূপকথার জগতের সন্ধান। সেই রূপকথা হল বই। তিনি শুধু ইংরেজি নয়, লাতিন শিখে নিলেন দ্রুত। মাত্র ন’বছর বয়সেই। শেক্সপিয়ার, মিলটন, শেলির কাব্যপ্রতিভার সঙ্গে যেমন পরিচিত হচ্ছেন, তেমনই ইতিহাস তাঁকে টানছে। কিন্তু সেই স্বপ্নটা পিছু ছাড়ছে না।
মাত্র পাঁচ বছর বয়স থেকে বারংবার ঘুরে ফিরে অরবিন্দের নিদ্রায় আসে সেই স্বপ্ন। একটি অন্ধকার অবয়ব, ঘাসের মধ্যে থেকে হেঁটে চলে বেড়াচ্ছে। ধীরে ধীরে সেটি ঘাসের সবুজকে গ্রাস ও আচ্ছন্ন করে নিল। কেন এই স্বপ্ন? এই বইয়ের জগতে এসে বালক অরবিন্দ বুঝলেন, ওই অন্ধকার আসলে অজ্ঞানতা আর পরাধীনতার রূপক। পরাধীনতা শব্দটি ইতিহাস বই থেকে জানলেন তিনি। আর শব্দটি ক্রমেই মস্তিষ্কে বাসা বাঁধল। স্বয়ং ড্রিউইটের কথায় বুঝলেন, তাঁর নিজের দেশও আসলে পরাধীন। আর সেই উপলব্ধি ক্রমেই বৃদ্ধি পেল বাবার চিঠি পেয়ে। যে কৃষ্ণধন ঘোষ ছিলেন ব্রিটিশ সভ্যতার সবথেকে বড়ো অনুগামী, তিনিই হয়ে পড়েছেন ব্রিটিশ বিরোধী। ব্রিটিশ সরকারের দমনপীড়নে বীতশ্রদ্ধ হয়ে তিনি সবিস্তারে নিজের মোহভঙ্গের কথা অরবিন্দকে চিঠিতে জানাতেন। ভারতের প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদাধিকার ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অত্যুত্তম ফল করেন অরবিন্দ। গ্রিক ও লাতিন ভাষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিলেন। কিন্তু যাতে ব্রিটিশের অধীনে কাজ করতে না হয়, তাই তিনি ঘোড়দৌড়ের পরীক্ষায় (হর্স রাইডিং টেস্ট) ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করে আসেন। অথচ তিনি হর্স রাইডিং খুব ভালো শিখেছিলেন। অরবিন্দ ঘোষের জীবন সম্পূর্ণ পালটে গেল। পুরোদস্তুর সাহেবিয়ানার অরবিন্দ দেশে ফিরে হলেন বিপ্লবী অরবিন্দ ঘোষ। আর তারপর আবার পরিবর্তন। জীবনের বাঁকবদলে তিনি হলেন ঋষি অরবিন্দ!
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার: রানির সবথেকে প্রিয় দিদিমণি হলেন ঊষাদিদি। ইতিহাসের শিক্ষিকা। এমন সুন্দরভাবে গল্পের মতো করে ঊষাদি ইতিহাসের কাহিনিগুলির বিবরণ দেন যে, রানি মন্ত্রমুগ্ধের মতো শোনেন ক্লাসরুমে। নিয়ম করে ইতিহাসের কাহিনি বলার ফাঁকেই ঊষাদি এদেশের বিল্পবীদের কথাও বলার চেষ্টা করেন। রানি সরল মনে সেই সাহসিকতার কথাগুলো বাড়িতে ফিরে বলেন। কিন্তু পরিবারের মানুষজন তো আঁতকে উঠলেন। সর্বনাশ এসব কথা বাইরের কেউ জানতে পারলে সর্বনাশ হবে। তাঁরা বললেন, ‘ওরা ডাকাত। ওদের কথা বলবি না।’
স্কুলে এসে ঊষাদিকে আলাদাভাবে রানি ফিসফিস করে বললেন, ‘দিদি, আমাকে মা বলেছে, ওরা ডাকাত। ডাকাতের গল্প শুনব কেন?’ ঊষাদি হেসে রানির পিঠে হাত রেখে বলেন, ‘যাঁরা দেশপ্রেমিক, যাঁরা দেশকে স্বাধীন দেখতে চান, তাঁরা কি ডাকাত হতে পারেন? ওঁদের বলে স্বদেশি! বুঝলে! সবথেকে সেরা ভালোবাসার নাম স্বদেশকে ভালোবাসা। আজ থেকে নয়। পরাধীনতার বিরুদ্ধে আত্মসম্মানের সঙ্গে লড়াই করা ভারতের ঐতিহ্য অনেকদিনের। আচ্ছা, আমি তোমাকে একটি বই দেব। সেটি পড়বে বাড়িতে গিয়ে। তোমার ডাক নাম রানি। আর এক রানির কাহিনি পড়তে হবে। তোমাদের স্কুলের বইতে এঁদের কথা নেই। এঁদের কথা যাতে তোমরা জানতে না পারে, সেই কারণে এসব বই গোপন। তাই সাবধানে রাখবে বাড়িতে।’
ঊষাদি যে বই দিয়েছেন, তার নাম ‘ঝাঁসির রানি’। ব্যস! রানির ঘুম, খাওয়া, পড়াশোনা সব চলে গেল। তিনি চোখ বন্ধ করলেই দেখতে পান ঘোড়ায় চড়ে তরবারি হাতে চলেছেন এক মহারানি। লক্ষ্মীবাই। সামনে গোরা সেনাবাহিনী। তাদের সঙ্গে লড়াই শুরু হল। আর রানির দীপ্ত তেজে যেন ঝলসে উঠলেন স্বয়ং দেশমাতৃকা। রানি আনন্দমঠ পড়েছেন। তিনি জানেন দেশমাতৃকার রূপ কেমন। ঊষাদি তাঁকে শিখিয়েছেন বন্দেমাতরম ধ্বনির মাহাত্ম্য। হঠাৎ রানির স্বপ্নে যেন লক্ষ্মীবাইয়ের মুখমণ্ডল পালটে যায়। তিনি চমকে ওঠেন। দেখতে পান তরবারি হাতের অশ্বারোহীর মুখ তাঁর নিজেরই। তিনি নিজের অবচেতনে নিজেকেই লক্ষ্মীবাই হিসেবে ভাবছেন। তাঁর মনে পড়ে আর একটি বইয়ের কথা। তাঁদের বাড়িতেই রেখে গিয়েছিল কেউ। সেই বই নাকি রাখতে হবে গোপনে। অশেষ কৌতূহলে সেই বই রানিকে আকর্ষণ করছে। বইয়ের নাম বীর ক্ষুদিরাম। রানির শুধু যে চোখের জল তিনদিন ধরে বাঁধ মানেনি, তাই নয়, তিনি শুধু সারক্ষণ ভেবেছেন কীভাবে সম্ভব ওই অল্প বয়সে এত বড়ো এক আত্মত্যাগ! ঊষাদি পরে বলেছিলেন, ‘দেশপ্রেম আর আত্মত্যাগ— এই দু’টি কিন্তু একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত রানি। এটা তোমাকে সারাক্ষণ মনে রাখতে হবে।’
হঠাৎ খুব হইচই চট্টগ্রামে। রেলদপ্তরের টাকা ভরতি গাড়ি লুটপাট করেছে কয়েকজন। পুলিশ খুঁজছে তাঁদের। ঘটনাটি ঘটেছে পাহাড়তলি এলাকায় অসম বেঙ্গল রেলওয়ে দপ্তরের কোষাগারে। ১৭ হাজার টাকা লুট করেছেন কয়েকজন তরুণ। তবে ১৯২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর যখন ঘটনা নিয়ে গোটা শহর তোলপাড়, তখন রানির বয়স মাত্র ১২ বছর। কিন্তু একমাসের মধ্যে বাবা হন্তদন্ত হয়ে বাড়িতে এসে বললেন, ‘সাংঘাতিক ব্যাপার। যে স্বদেশিরা এসব করেছেন, তাঁদের নেতা কে জানো? এক মাস্টারমশায়। ভাবা যায়! পুলিশ খুঁজছে সবাইকে। পেয়েও যাবে শুনছি।’
‘মাস্টারমশায়?’ রানির মা বিস্মিত! বললেন,
‘কোন স্কুল?’
পিতা বললেন, ‘উমাতারা। অঙ্কের টিচার। সূর্য সেন।’
মাস্টারমশাই স্বদেশি! রানি পাশেই ছিল। শুনেই তাঁর ঊষাদির কথা মনে পড়ল। তার মানে শিক্ষিতরা স্বদেশি হতে পারে! রানিকে ঊষাদি বলেছিলেন, ‘আমাদের সকলকেই স্বদেশি মন্ত্র নিতে হবে। রানি মনে মনে সেদিনই ঠিক করল, আমার মন্ত্র স্বদেশি!’
সেই রানির নাম প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। আর ওই মাস্টারমশাই, সকলের প্রিয় মাস্টারদা সূর্য সেনের একান্ত অনুগত মন্ত্রশিষ্য হয়েছিলেন এবং দিয়েছিলেন চরম আত্মবলিদান!
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু: কটকের র্যাভেনশ প্রোটেস্ট্যান্ট ইউরোপীয় স্কুলের ছাত্র সুভাষচন্দ্র বসুর প্রথম যেটা চোখে লাগল এবং ক্ষোভের কারণ হল, সেটি হল বৈষম্য। তিনি দেখলেন অ্যাংলো ইন্ডিয়ান আর ব্রিটিশ— উভয় শিক্ষকরাই ব্রিটিশ ছাত্রদের যেন বিশেষ সুবিধা দেন। তাদের অপরাধও নরমভাবে দেখা হয়। সুভাষ পিতা জানকীনাথ বসুকে তো বললেনই, শিক্ষক বেণীমাধব দাসের কাছেও নালিশ করলেন। বেণীমাধব দাস বুঝলেন, এই বালকের মনে এই বয়সেই সৃষ্টি হয়েছে আত্মসম্মান। আর আত্মসম্মানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকবে স্বাজাত্যবোধ আর স্বদেশ প্রীতি। অতএব তিনি একইসঙ্গে সুভাষের মধ্যে নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের বীজ বপন করলেন।
সুভাষচন্দ্রকে আজীবন তাড়া করে বেরিয়েছে বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার আকুলতা। স্বামী বিবেকানন্দের লেখা পেলেন কটকের গ্রন্থাগারে। একটি বাক্য তাঁর মনে গেঁথে গেল, ‘জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।’ তার মানে জীবকে ভালোবাসাই আসলে ঈশ্বরকে ভালোবাসা! সুভাষ স্থির করলেন ধনী পিতার আবাসে যে বিলাসিতার জীবন সেই জীবনের বাইরের জগৎকে দেখতে হবে। বুঝতে হবে। সেই বালক বয়সেই সুভাষ জীবসেবাই নিজের লক্ষ্য হিসেবে পরিণত করল। কটকের গ্রামে গ্রামে কলেরা, বসন্ত, প্লেগ যখন তখন হানা দিচ্ছে। সাধারণ চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা ও ক্ষমতা নেই গ্রামবাসীদের। তাই সহজাত নেতা সুভাষ স্কুলের বন্ধুদের নিয়ে দল গঠন করলেন। সেবার দল। কিশোরের দল গ্রামে গ্রামে গিয়ে এই ভয়ংকর রোগাক্রান্ত রোগীদের সেবা করছে দেখে শিউরে উঠল কটক শহর!
আমরা পুজোর দিনগুলিতে আনন্দ করি। কিন্তু ওরা কেন দূরে দূরে থাকে? ওদের পাড়ায় পুজো হয় না? বাড়িতে প্রশ্ন করেছিলেন সুভাষচন্দ্র। কটক শহরের প্রান্তে বসতি, নোংরা, ঘিঞ্জি জনবসতির লোকগুলোর কাছে যেন পুজোর পাঁচদিন বছরের অন্য পাঁচটি দিনের মতোই। অনেক বাঙালি আছে। তারা ধনীদের পুজোর বাইরে এসে দূর থেকে প্রণাম করে চলে যায়। কিন্তু খাদ্যপ্রসাদ পায় না। অতএব সুভাষ স্থির করলেন ওদেরও পুজোর ভোজ দিতে হবে। তিনি শুরু করলেন ভিক্ষা। সন্ন্যাসীরা তো ভিক্ষা করেন! তাহলে সেটি গৌরবের। পবিত্র কাজে সংগ্রহ করা ভিক্ষান্ন প্রসাদের সমতুল। চাল, ডাল, সবজি দিয়ে আয়োজন করলেন সেই বসতিগুলিতে আনন্দভোজ।
জানকীনাথ বসু ছিলেন বিখ্যাত আইনজীবী। পিতার চেম্বারে টেবিলে রাখা একটি ফাইল খুলে পড়তে শুরু করলেন তিনি। দেখলেন এমন একটি মামলা যেখানে দরিদ্র কৃষকের জমি শক্তিশালী ধনী জমিদার নিছক কাগজপত্র তৈরি করে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। সুভাষচন্দ্রের ভিতরের আগুন জ্বলে উঠল। তিনি সোজা পিতাকে বললেন, আপনি এই জমিদারের পক্ষ নিয়ে মামলায় লড়াই করলেন জমিদারই জয়ী হবে আমি জানি। কিন্তু কৃষকের কথা ভাবুন তো! তার গোটা পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে। ওই সামান্য জমিই তো তার সম্বল! পিতা জানকীনাথ বসু স্তম্ভিত হয়ে যান পুত্রের এই দরিদ্রপ্রীতি নরম মন এবং অন্যায়বিরোধী অবস্থানে। তিনি পুত্রের প্রতি সম্মানেই যেন, সিদ্ধান্ত বদলে ফেললেন। এবং জমিদারের পরিবর্তে, সেই দরিদ্র কৃষকের হয়ে লড়াই করলেন। কৃষকই জয়ী হল আদালতে। বাল্যকালের সেই চারিত্রিক শক্তি আজীবন যিনি বহন করেছেন সেই মহাবিপ্লবীর নাম সুভাষচন্দ্র বসু।