ভারতের স্বাধীনতা দিবস কত তারিখে পালিত হয়? একবাক্যে সবাই বলবে ১৫ আগস্ট। এই একই দিনে বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশে স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন করা হয়। সেই দেশগুলির খোঁজ দিলেন সাগর দাস।
ভারতের স্বাধীনতা দিবস কত তারিখে পালিত হয়? একবাক্যে সবাই বলবে ১৫ আগস্ট। এই একই দিনে বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশে স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন করা হয়। সেই দেশগুলির খোঁজ দিলেন সাগর দাস।
আজ, ১৫ আগস্ট। স্বাধীনতার ৭৯ বছর পূর্ণ করল ভারত। ১৯৪৭ সালের এই দিনটিতেই দু’শো বছরের বিদেশি শাসনের অবসান ঘটে। স্বাধীনতা দিবসের দিনটিতে আকাশে-বাতাসে ভেসে বেড়ায় অন্যরকম আবেগ। লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পতাকা উত্তোলন, স্কুল-কলেজে দেশাত্মবোধক গান, ঘরে ঘরে তেরঙার সাজ। এই দিনটি ভারতীয়দের কাছে শুধু ছুটির দিন নয়, বরং শতবর্ষের সংগ্রাম আর আত্মত্যাগের এক জীবন্ত স্মারক। শুধু ভারত নয়, পৃথিবীর মানচিত্রে আরও কয়েকটি দেশ রয়েছে, যারা ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা বা জাতীয় দিবস পালন করে। মহাদেশ, সংস্কৃতি, ইতিহাস ভিন্ন হলেও সবার একই সুর, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে মুক্তির আনন্দ।
দক্ষিণ কোরিয়া
১৯১০ সাল থেকে কোরীয় উপদ্বীপ ছিল জাপানি সাম্রাজ্যের অধীনে। প্রায় ৩৫ বছরের কঠোর ঔপনিবেশিক শাসনে কোরীয় ভাষা, সংস্কৃতি এমনকি নাম পরিবর্তনের চাপ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয় ঘটে। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জাপানি শাসন থেকে মুক্তি পায় কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ায় এই দিনটি পরিচিত ‘গোয়াংবোকজিওল’ নামে। যার আক্ষরিক অর্থ ‘আলোর প্রত্যাবর্তনের দিন’। ১৯৪৮ সালের এই দিনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেন সিংম্যান রি। পাশাপাশি রাজধানী সিওলে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ও চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জার আয়োজন করা হয়। এদিন শহরের ঐতিহাসিক স্থানগুলিতে বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে।
উত্তর কোরিয়া
কোরীয় উপদ্বীপ বিভক্ত হওয়ার আগেই জাপানি শাসনের অবসান হয়েছিল, তাই স্বাভাবিকভাবেই উত্তর কোরিয়াও ১৫ আগস্টকে গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সেখানে দিনটি পরিচিত ‘স্বদেশ মুক্তি দিবস’ নামে। রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে সামরিক বাহিনীর বিশাল কুজকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। আজ দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়া পৃথক হলেও দু’দেশের মানুষের মধ্যে এক অদৃশ্য সেতু বন্ধন রয়েছে। মনে করিয়ে দেয় তাঁদের শিকড়ের টান। সেই সেতু ১৫ আগস্ট।
কঙ্গো প্রজাতন্ত্র
পশ্চিম-মধ্য আফ্রিকার এই দেশটি একসময় পরিচিত ছিল ‘ফরাসি কঙ্গো’ বা ‘মিডল কঙ্গো’ নামে। প্রায় আট দশক ধরে ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে থাকার পর, ১৯৬০ সালের ১৫ আগস্ট কঙ্গো প্রজাতন্ত্র পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন করে। এই বছরটি আফ্রিকার ইতিহাসে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ একে বলা হয় ‘আফ্রিকার বছর’। এই বছরে আফ্রিকা মহাদেশের ১৭টিরও বেশি দেশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি লাভ করে।
বাহরিন
পারস্য উপসাগরের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র বাহরিনের গল্পটা একটু ভিন্ন। ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট বাহরিন আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। ছ’য়ের দশকের শুরুতে ব্রিটেন যখন সুয়েজের পূর্বাঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়, তখন থেকেই বাহরিনের স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত হতে শুরু করে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় বাহরিনের প্রধান জাতীয় উৎসব পালিত হয় ১৬ ডিসেম্বর।
লিচটেনস্টাইন
ইউরোপের হৃদয়ে অবস্থিত ক্ষুদ্র দেশ লিচটেনস্টাইন। ১৯৪০ সাল থেকেই ১৫ আগস্ট সরকারিভাবে জাতীয় দিবস পালিত হয়ে আসছে। এটি প্রকৃত অর্থে কোনো ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির দিন নয়। শুধুই জাতীয় দিবস।