Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সদ্যোজাতের মৃত্যু: ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, মানল মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ

সদ্যোজাতর মৃত্যু বিভ্রাট কাণ্ডে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করল জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ

সদ্যোজাতের মৃত্যু: ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, মানল মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ
  • ১৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: সদ্যোজাতর মৃত্যু বিভ্রাট কাণ্ডে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করল জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। ঘটনায় ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হয়েছে, মানল হাসপাতাল। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেজন্য হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের চরম সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি গোটা বিষয়টি স্বাস্থ্যভবন সহ জেলা প্রশাসনের কর্তাদের জানানো হয়েছে মেডিক্যালের তরফে।

Advertisement

অভিযোগ, জীবিত সদ্যোজাতকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করা হয় জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাবের তরফে। পরে দেহ নিতে গিয়ে পরিবার দেখে, শিশুটি বেঁচে আছে। যদিও শেষপর্যন্ত ওই সদ্যোজাতর মৃত্যু হয়। কোচবিহারের চ্যাংরাবান্ধার বাসিন্দা ওই সদ্যোজাতর পরিবারের দাবি, জটিলতার জেরে দু’বার করে ডেথ সার্টিফিকেট লেখে হাসপাতাল। প্রথমে ১৫ মার্চ শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়। পরে মৃত্যুর তারিখ বদলে করা হয় ১৬ মার্চ।
এনিয়ে জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের সুপার কল্যাণ খাঁ বলেন, যাকে সদ্যোজাত বলা হচ্ছে, সেটি আসলে প্রি-ম্যাচিওর শিশু। পাঁচশো গ্রামের কম ওজন হলে আমরা তাকে সদ্যোজাত বলি না। প্রোডাক্ট অব কনসেপশন বলা হয়। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। গর্ভাবস্থায় ২৮ সপ্তাহ না থাকলে সেই শিশুর ফুসফুসের গঠন ঠিকমতো হয় না। এক্ষেত্রে আগেই হাসপাতালেই প্রসব হয়ে গিয়েছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে শিশুটির বাঁচার কোনও সম্ভাবনা থাকে না। তাই হয়তো হাসপাতালের তরফে প্রসূতির পরিবারকে ‘মৃত সন্তান’ হয়েছে বলে কেউ খবর দিয়েছিলেন। কিন্তু যেই ওই খবর দিন না কেন, তড়িঘড়ি প্রসূতির পরিবারকে তা জানানো ঠিক হয়নি। কারণ, চিকিৎসক, নার্সরা প্রি ম্যাচিওর ওই শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন। সেকারণে ওই সদ্যোজাতকে ওয়ার্মারের নীচে রাখা হয়েছিল। শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক একবার দেখেও গিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর তাঁর আবার দেখতে আসার কথা ছিল। এরই মধ্যে প্রসূতির পরিবার কোনওভাবে লেবার রুমে ঢুকে ওই সদ্যোজাতকে দেখে। এবং শিশুটি ‘বেঁচে আছে’ বলে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দেয়। পরে যদিও শিশুটির মৃত্যু হয়।
সুপারের দাবি, ওই সদ্যোজাত সম্পর্কে প্রসূতির পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় কোথাও একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তবে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে যাতে না ঘটে, সেদিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে সবাইকে। ঘটনার সময় যেসব চিকিৎসক ও নার্স ডিউটিতে ছিলেন, তাঁদের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে এদিন। 
প্রসূতির পরিবার কীভাবে লেবার রুমে ঢুকে পড়ল, তা নিয়েও কৈফিয়ত তলব করেছেন সুপার। তিনি বলেন, আমরা গোটা বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সবটা জানানো হয়েছে। দু’বার ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করার অভিযোগ প্রসঙ্গে সুপারের বক্তব্য, এক্ষেত্রে ডেথ সার্টিফিকেট তো হওয়ারই কথা নয়। তদন্তে সবটাই উঠে আসবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ