Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দাঁত তোলার পরই হঠাৎ শুরু খিঁচুনি, মৃত্যু ৪ বছরের শিশুর

চিকিৎসকের প্রাইভেট ক্লিনিকে দাঁত তোলার পরই খিঁচুনি।

দাঁত তোলার পরই হঠাৎ শুরু খিঁচুনি, মৃত্যু ৪ বছরের শিশুর
  • ১৬ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: চিকিৎসকের প্রাইভেট ক্লিনিকে দাঁত তোলার পরই খিঁচুনি। চার বছরের শিশুর মৃত্যু। ঘটনায় চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে সরব পরিবার। চিকিৎসকের শাস্তির দাবিতে অভিযোগ দায়ের হয়েছে জলপাইগুড়ির কোতোয়ালি থানায়। যদিও চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ডেন্টাল সার্জন। শুক্রবার মৃত ওই শিশুর দেহের ময়নাতদন্ত হয় জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের মর্গে। কোতোয়ালি থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত বলেন, শিশুর পরিবারের অভিযোগ পেয়েছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। সেইমতো পদক্ষেপ করা হবে। এদিকে, একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর মাল থানার গজলডোবা ১০ নম্বর এলাকার বাসিন্দা ওই শিশুর পরিবার। শিশুটির বাবা পরিযায়ী শ্রমিক। বেঙ্গালুরুতে কাজে গিয়েছিলেন। খবর পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিনি।  

Advertisement

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৩ তারিখ বাড়িতে সিঁড়ি থেকে পড়ে যায় শিশুটি। এরই জেরে দাঁত ভেঙে মাড়িতে গেঁথে যায়। প্রচুর রক্তক্ষরণও হয়। বাড়ির লোকজন ভাঙা দাঁত তোলার জন্য প্রথমে শিশুটিকে ওদলাবাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জানিয়ে দেওয়া হয়, তারা ওই চিকিৎসা করতে পারবে না। মাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল কিংবা শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে নিয়ে যেতে হবে। সেইমতো পরিবার শিশুটিকে ওইদিন সন্ধ্যা নাগাদ উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে নিয়ে যান।
শিশুটির দাদু শম্ভু সরকারের অভিযোগ, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে চিকিৎসক না পেয়ে তাঁরা ফিরে আসতে বাধ্য হন। এরপর শিশুটিকে জলপাইগুড়ি শহরের এক ডেন্টাল সার্জনের চেম্বারে নিয়ে আসেন। ওই চিকিৎসক জানতে চান, শিশুটি শারীরিকভাবে সুস্থ কি না। চিকিৎসককে জানানো হয়, কিছুদিন আগে জ্বর, সর্দি ছিল। সিঁড়ি দিয়ে পড়ে গিয়ে দাঁত ভেঙে গেঁথে গিয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণও হয়েছে।
রোগীর পরিবারের অভিযোগ, শিশুটির অবস্থা সম্পর্কে সবটা শোনার পর ওই ডেন্টাল সার্জন কোনওরকম পরীক্ষানিরীক্ষা ছাড়াই শিশুটির দাঁত তুলে দেন। এরপরই শিশুটির খিঁচুনি শুরু হয়। চোখ উল্টে যায়। চিকিৎসক নিজেই শিশুটির চোখে-মুখে জল দিতে থাকেন। এরপরই পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শিশুটিকে জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের অধীন সদর হাসপাতালে রেফার করেন ওই চিকিৎসক। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেও শিশুটির খিঁচুনি হতে থাকে। এরপর হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পরিবারের দাবি, দাঁত তোলার সময় চিকিৎসার গাফিলতিতেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তারা অভিযুক্ত চিকিৎসকের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন। যদিও ওই ডেন্টাল সার্জনের দাবি, শিশুটির মুখের ভিতর দাঁত ভেঙে নড়ছিল। তা তুলে ফেললে সমস্যা হতো। সেকারণে ট্রপিক্যাল অ্যানাস্থেশিয়া দিয়ে শিশুটির ওই ভাঙা দাঁত তোলা হয়। তখন শিশুটি ঠিকই ছিল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ