নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদবাসীকে পুজোর উপহার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চারটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য। যা তৈরি করতে খরচ হবে সাড়ে পাঁচ কোটিরও বেশি টাকা। ডোমকল, বেলডাঙা-২, নবগ্রাম ও সামশেরগঞ্জে বহুদিন ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি ছিল মানুষের। প্রতিটি জায়গায় পৃথক ভবন তৈরি করে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা দেবে রাজ্য সরকার। মাস কয়েক আগে মুখ্যমন্ত্রী মুর্শিদাবাদ সফরে এলে জেলার বিধায়করা তাঁর কাছে চারটি নতুন প্রাইমারি হেলথ সেন্টারের আবেদন করেন। সেই আবেদনের সাড়া দিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর আরও চারটি নতুন প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অনুমোদন মিলল।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সন্দীপ সান্যাল বলেন, আরও চারটি প্রাথমিক হেলথ সেন্টার তৈরি করা হবে। এই চারটি জায়গায় রোগীর বেশ চাপ ছিল। মানুষের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে নতুন বিল্ডিং করে হেলথ সেন্টার চালু করব আমরা।
তৃণমূল বিধায়ক তথা জেলা তৃণমূলের সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, স্বাস্থ্য পরিষেবায় মুর্শিদাবাদ জেলাকে আরও এগিয়ে দিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবসময় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী যখন এসেছিলেন তখন রফিকুল ইসলাম, আমিরুল ইসলাম, রবিউল আলম চৌধুরী ও কানাইচন্দ্র মণ্ডল এই চার বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবদার করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী সেই আবেদন খতিয়ে দেখেন। জেলার গরিব মানুষের স্বার্থে নতুন চারটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র চারটি বিধানসভা এলাকায় চালু করা হবে, এটা আমাদের কাছে শারদীয়ার উপহার।
রেজিনগরের তৃণমূল বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সর্বদা মানুষের কথা চিন্তা করেন। মুর্শিদাবাদ জেলায় মেডিক্যাল কলেজ আছে। প্রতিটি মহকুমায় উন্নত হাসপাতাল আছে। প্রতিটি ব্লকেই যে ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি রয়েছে সেগুলিতেও ভালো চিকিৎসা হয়। এর পরে আরও যে চারটি নতুন প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরিতে উনি উদ্যোগী হয়েছেন তাতে আমরা খুশি। এখানকার মানুষের প্রচুর চাহিদা ছিল। আমার বিধানসভার অন্তর্গত মুরুটিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্র নতুন করে চালু করতে ১ কোটি ৪২ লক্ষ টকা ধার্য হওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ। এর ফলে গরিব মানুষরা উপকৃত হবেন।
তবে প্রদেশ কংগ্রেস সহ সভাপতি মাহফুজ আলম ডালিম বলেন, চারটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রর অনুমোদন এসেছে, এটা অবশ্যই ভালো খবর। তবে যে সমস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি বেহাল হয়ে পড়ে আছে, যে সমস্ত হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকরা সেখানে যান না, সেগুলিতে নজরদারি প্রয়োজন। মুর্শিদাবাদ জেলায় জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা যথেষ্ট নয়, এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের।
বিজেপির বহরমপুর জেলা কমিটির সদস্য লাল্টু দাস বলেন, নির্বাচনের আগে এসব গিমিক ছাড়া কিছুই নয়। এত বড় মেডিক্যাল কলেজে অধিকাংশ সময় চিকিৎসক থাকেন না। তারা বাইরে প্রাইভেটে প্র্যাকটিস করেন। আর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ব্লক হাসপাতালগুলির কথা তো ছেড়েই দিন। ওসব জায়গায় ডাক্তারের দেখা পান না রোগীরা।