রাজদীপ গোস্বামী, গড়বেতা; ‘সিপিএমের বিভিন্ন পার্টি অফিস থেকে ২০০৭ সালে যারা নন্দীগ্রামে নতুন রক্তাক্ত সূর্যোদয় করতে গিয়েছিল, তাদের কেস আমি রি-ওপেন করব। একটাকেও ছাড়া হবে না।’ শনিবার গড়বেতার বিডিও অফিস মাঠে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচি থেকে এই হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, আমি এর আগেও ওদের জবাব দিয়েছি। একসময় তপন-শুকুর বলেছিলেন, শুভেন্দু অধিকারী এলাকায় ঢুকলে পা ভাঙব। আমি তিনদিনের মধ্যে চন্দ্রকোণা রোডে এসে সুশান্ত ঘোষের বুকের উপর দাঁড়িয়ে সভা করে গিয়েছিলাম। এখন সিপিএম-তৃণমূল মিলে নৈরাজ্যের দিন ফিরিয়ে আনতে চাইছে। আপনারা রুখে দেবেন তো? একটি বিশেষ গোষ্ঠীর লোকেরা খড়কুসমা, চমকাইতলায় জামা বদল করে লাল জামা পরার চেষ্টা করছে। কারণ, এখন সিপিএমের বেবি ও তৃণমূলের আন্টির মধ্যে ভাব ভালবাসা হয়ে গিয়েছে। আপনাদের এখানে আমরা যখন উন্নয়ন করতে চাইছি, তখন এরা অশান্তি করার চেষ্টা করছে। আগামী দিনে গড়বেতাও মহকুমা হবে।
এদিন গড়বেতার গণতন্ত্র বাঁচাও কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। জনসভায় বিজেপির নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। সেই সভায় বাম শিবিরকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তৃণমূলের নাম ও নিশান উঠে গিয়েছে। আর এর সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে কঙ্কালকাণ্ডের নায়করা। সাবধানে থাকবেন। তপন(ঘোষ) কোথায় এখন? আছে, না পালিয়েছে? এসপি ম্যাডাম, খুঁজে আনতে হবে। ওঁকে আমি জেলে দেখতে চাই।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, লোকসভা ভোটের সময় আমাদের বিনপুরের বিধায়ক প্রণত টুডুর মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিল। আপনাদের মনে আছে? ওই এফআইআরের কপিটা আমাকে পাঠাবেন। আমি দেখব, ক’টা গ্রেপ্তার হয়নি। সেগুলিকে চুলের মুঠি করে জেলে ঢোকাতে হবে।
উল্লেখ্য, এক সময় গড়বেতা ছিল সিপিএমের শক্তঘাঁটি। রাজ্যে পালা বদলের পর এলাকার দখল নেয় তৃণমূল। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তা বিজেপির দখলে আসে। সম্প্রতি গড়বেতায় সিপিএম সংগঠন বাড়ছে। সম্ভবত সে কথা মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রী বামেদের নিশানা করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত।এক বামনেতা বলেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর চন্দ্রকোণা রোড এলাকায় আমাদের মিছিলে ব্যাপক জনসমাগম হয়েছিল। তারপর থেকেই আমাদের নানাভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন পার্টি অফিস ভেঙে দেওয়া হয়েছে। দেড় হাজার কর্মী ঘরছাড়া রয়েছেন। সিপিএমের জেলা সম্পাদক বিজয় পাল বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতা থাকলে গ্রেপ্তার করবেন। মঞ্চের উপর থেকে পুলিশকে যা নির্দেশ দেওয়া হল, সেটা স্বৈরাচারী শাসকের লক্ষণ। ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পর তাঁকে আজীবন জেলেই থাকতে হবে, এটা যেন উনি মনে রাখেন।



