নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: আজ, বুধবার জগদ্ধাত্রী পুজোর অষ্টমীকে কেন্দ্র করে মেতে উঠবে কৃষ্ণনগর। অথচ, পুজোয় সেইভাবে দাপট দেখাতে ব্যর্থ পদ্মশিবির। কৃষ্ণনগর শহরের মতো গেরুয়া কেন্দ্রেই কার্যত উধাও বিজেপি। বরং জগদ্ধাত্রী পুজো ঘিরে শহরজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাব স্পষ্ট। আজ শহরের পাঁচটি পুজো দর্শন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যপূর্ণ চাষাপাড়া বারোয়ারির বুড়িমা এবং পাত্রবাজারের স্বীকৃতি ক্লাবের পুজো মণ্ডপে মুখ্যমন্ত্রীর ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকার কথা ছিল। পরবর্তীতে সেই তালিকায় কাঁঠালপোতা বারোয়ারির ছোটমা, বাঘাডাঙা বারোয়ারি এবং আমিনবাজার বারোয়ারি যুক্ত হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেলের দিকেই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হবে। সেইমতো মঙ্গলবার প্রশাসনের আধিকারিকরা সংশ্লিষ্ট পুজো মণ্ডপগুলি পরিদর্শন করেন। এই প্রথমবার কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, আজ কৃষ্ণনগর শহরের কালীনগর সহ দু’টি পুজো কমিটির উদ্বোধনে রাজ্য বিজেপির দুই নেতার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
বাঘাডাঙা বারোয়ারির পুজো উদ্যোক্তা সুমিত ঘোষ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আমাদের পুজোয় ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকবেন। এর চেয়ে বড় পাওনা কিছু হয় না। মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আমাদের পুজো আরও সমৃদ্ধ হবে।
কৃষ্ণনগর লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, জগদ্ধাত্রী পুজো কৃষ্ণনগরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। মৃৎশিল্পের এই শহর পুজোর আনন্দে ও উৎসবে প্রাণ ফিরে পায়। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী কৃষ্ণনগরের পাঁচটি জগদ্ধাত্রী পুজোয় ভার্চুয়ালি যুক্ত হচ্ছেন। এব্যাপারটি নিঃসন্দেহে আমাদের শহরের জন্য এক গর্বের বিষয় ও বড় প্রাপ্তি।
প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী অংশ নিচ্ছেন কৃষ্ণনগরের প্রাণের উৎসব জগদ্ধাত্রী পুজোয়। অতীতে তিনি একাধিকবার চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধন করেছেন। তবুও এতদিন পর্যন্ত বাংলায় জগদ্ধাত্রী পুজোর উৎসস্থল কৃষ্ণনগর সেই তালিকার বাইরেই ছিল। অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটল। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, কৃষ্ণনগরে একাধিক পুজো কমিটিতে মুখ্যমন্ত্রীর সক্রিয় উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবেও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
এদিকে, কৃষ্ণনগর দীর্ঘদিন ধরেই গেরুয়া শিবিরের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে শহরে বিজেপির একচ্ছত্র প্রভাব দেখা গিয়েছে। তবে, জগদ্ধাত্রী পুজোর ময়দানে যেন সেই দাপট কার্যত উধাও। বিপুল জনসংযোগের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পুজোকে ঘিরে রাজনীতির মঞ্চে দেখা মিলছে না পদ্মশিবিরের সক্রিয় উপস্থিতি। শহরের পুজোয় কিছু বিচ্ছিন্ন উদ্যোগে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ কয়েকজন যুক্ত থাকলেও, সামনের সারিতে তাঁদের তেমন দেখা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, শহরের প্রায় প্রতিটি বড় পুজোর সঙ্গেই তৃণমূলের কাউন্সিলার ও নেতৃবৃন্দ যুক্ত রয়েছেন। যেমন, বাঘাডাঙা বারোয়ারির সঙ্গে তৃণমূল কাউন্সিলার সুমিত ঘোষ, গোলাপট্টি বারোয়ারির সঙ্গে যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি ও কাউন্সিলার অয়ন দত্ত যুক্ত রয়েছেন। স্বীকৃতি ক্লাবের পুজোয় সক্রিয় শহর তৃণমূল সভাপতি সৌমাল্য ঘোষ।
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, কালীনগরের একটি পুজোর উদ্বোধন করবেন অর্জুন সিং। উদ্বোধনের জন্য রাজ্য থেকে নেতা আসার কথা রয়েছে। কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজো বহু পুরনো। সামনে বিধানসভা নির্বাচন, তাই মুখ্যমন্ত্রী এখন পুজোয় ভার্চুয়ালি যোগ দিচ্ছেন। মানুষ সবকিছুই বোঝে।