নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: রাজ্যে পালা বদলের পর থেকেই প্রতিটি জেলায় পৃথকভাবে উন্নয়নের ক্ষেত্রে জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও উন্নয়নের কাজে কোনও খামতি রাখেননি। বিভিন্ন সময় জেলা সফরে মুখ্যমন্ত্রীকে কল্পতরুর ভূমিকায় দেখা গিয়েছে। বীরভূম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এবারও তার অন্যথা হবে না। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী আনুমানিক এক হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন। বোলপুর মহকুমার ইলামবাজারে মিলডাঙা ময়দানে ইতিমধ্যে অনুষ্ঠান মঞ্চ বাঁধার কাজ শেষ হয়ে এসেছে। সেই সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই স্বাস্থ্য, শিক্ষা সহ একাধিক ক্ষেত্রের প্রায় এক হাজারটি নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা হবে। যার মধ্যে অন্যতম সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ২৪ বেডের হাইব্রিড সিসিইউ চালু হবে। তা হলে জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ঘটবে। এছাড়াও নতুন প্রকল্পের সুবাদে জেলার বাণিজ্য, যোগাযোগ সহ শিক্ষা পরিকাঠামোয় অনেকটাই উন্নত হতে চলেছে।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ইলামবাজারে অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস হবে। পাশাপাশি ওই মঞ্চ থেকেই একাধিক সরকারি প্রকল্পের পরিষেবা প্রদানেরও কথা রয়েছে।
আজ, সোমবার বোলপুরের গীতাঞ্জলি প্রেক্ষাগৃহে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী। পরবর্তীতে ভাষা আন্দোলনের প্রথম পদযাত্রায় যোগ দেবেন। পরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী ইলামবাজারের মিলডাঙা ময়দানে সরকারি মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী প্রায় ৮০০টি নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। ওই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আনুমানিক ৬৫০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। উদ্বোধনী তালিকায় থাকা প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে অজয় নদের উপর গড়ে ওঠা সেতু সহ একাধিক রাস্তা, পানীয় জল প্রকল্প, সৌর চালিত সেচপ্রকল্প, নয়া সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র, অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ, সাংস্কৃতিক মঞ্চ, মিড ডে মিল শেড। এছাড়াও ওই মঞ্চ থেকেই নতুন প্রায় ২০০টি প্রকল্পের শিলান্যাস করা হবে। সেই তালিকায় রাস্তা, সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র, কবরস্থানের প্রাচীর, অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ, সেচপ্রকল্প, জলজীবন মিশন, কমিউনিটি সোলার গ্রিড, পথবাতি সহ সৌন্দর্যায়ন সহ একাধিক প্রকল্প রয়েছে। এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকা খরচ হবে।
এই প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাসের পাশাপাশি সরকারি পরিষেবা প্রদানের জেরে আখেরে লাল মাটির জেলার বাসিন্দারা উপকৃত হতে চলেছেন। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটির চেয়ারপার্সন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা বলেন তাই করেন। উদ্বোধন ও শিলান্যাস হতে চলা প্রতিটি প্রকল্পই জনস্বার্থ সম্বলিত। সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন সেই প্রকল্পগুলিরই উদ্বোধন ও শিলান্যাস হবে। সবটাই মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষের দিকে তাকিয়েই করেন।