Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাঁকসা-জয়দেবের মাঝে অজয়ে সেতুর উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে কাঁকসা-জয়দেবের মাঝে অজয় নদের উপর বহু প্রতীক্ষিত সেতুর উদ্বোধন হতে চলেছে।

কাঁকসা-জয়দেবের মাঝে অজয়ে সেতুর উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী
  • ২৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানকর: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে কাঁকসা-জয়দেবের মাঝে অজয় নদের উপর বহু প্রতীক্ষিত সেতুর উদ্বোধন হতে চলেছে। আগামী ২৮ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী বীরভূম সফরে আসছেন। ২৯ জুলাই ইলামবাজারে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের শিলান্যাসের পাশাপাশি ভার্চুয়ালি এই সেতুটির উদ্বোধন তিনি করবেন। তার আগে শনিবার সেতু পরিদর্শন করেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক পোন্নমবলম এস, দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক সৌরভ চট্টোপাধ্যায়, গলসির বিধায়ক নেপাল ঘড়ুই প্রমুখ। জেলাশাসক বলেন, পূর্তদপ্তর এই সেতু সম্পূর্ণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী আগামী ২৯ তারিখ সেতু ও অ্যাপ্রোচ রোড উদ্বোধন করবেন। সেদিন প্রশাসনের কর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

Advertisement

দুর্গাপুজোর আগেই সেতু উদ্বোধনের খবরে খুশির হাওয়া কাঁকসায়। পশ্চিম বর্ধমানের শিবপুর ও বীরভূমের জয়দেব-কেঁদুলির মাঝখান দিয়ে বয়ে গিয়েছে অজয় নদ। বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমানের বহু মানুষকে বিভিন্ন প্রয়োজনে অজয় নদ পারাপার করতে হয়। হিউম পাইপ, মোরাম, বোল্ডার দিয়ে যাতায়াতের জন্য নদের বুকে প্রতিবছর অস্থায়ী সেতু তৈরি করা হয়। কিন্তু, বর্ষার শুরুতেই ওই রাস্তা ভেসে যায়। তখন যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। কিন্তু, বর্ষায় অজয়ের ভয়াল রূপ উপেক্ষা করে নৌকা চালানোও সম্ভব হয় না। তাই অজয়ের জল বাড়লে ভোগান্তিও বাড়ে। সেই সমস্যার এবার সমাধান হতে চলেছে। স্থানীয়দের দাবি মেনে অজয়ের উপর স্থায়ী সেতু তৈরি হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে কাঁকসায় একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ১৬৫ কোটি টাকা খরচে অজয়ের উপর নতুন সেতু তৈরির কথা ঘোষণা করেন। জমিজট সহ নানা সমস্যা মিটিয়ে সেই সেতুর কাজ শেষ হয়েছে। এবার উদ্বোধনের অপেক্ষা। তার আগেই শনিবার সেতু পরিদর্শন করেন প্রশাসনের কর্তারা। সেতুটি শিবপুর এলাকা থেকে শুরু হয়ে ইলামবাজারের টিকরবেতায় শেষ হয়েছে। সেতুটির দৈর্ঘ্য ২.৭৩৮ কিলোমিটার। এরমধ্যে নদীর উপর মূল অংশের দৈর্ঘ্য ১০৫৭ মিটার। 
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বীরভূমের বহু মানুষ দুর্গাপুরের বিভিন্ন এলাকায় যেতে অস্থায়ী সেতু ব্যবহার করেন। সেটি জলে ভেসে গেলে দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি হতো। স্থায়ী সেতুটি চালু হলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে দূরত্ব অনেকটাই কমে যাবে। ইলামবাজার হয়ে ঘুরে দুর্গাপুর-মুচিপাড়া যেতে হলে কমপক্ষে ২৫ কিমি রাস্তা বেশি যেতে হয়। সেতুটি চালু হলে মুচিপাড়া-শিবপুর রাস্তা ধরে শান্তিনিকেতন যাওয়ার দূরত্ব প্রায় ২২-২৫ কিমি কমে যাবে।
কাঁকসার বাসিন্দা তন্ময় চক্রবর্তী বলেন, সেতুটি চালু হলে উত্তরবঙ্গের সবক’টি জেলার সঙ্গে পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর যাওয়ার পথ সুগম হবে।  প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয়দের দাবি মেনে সেতুর নাম ‘জয়দেব-নীলকণ্ঠ সেতু’ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমানের দুই খ্যাতনামা সাধক শিল্পী কবি জয়দেব ও নীলকণ্ঠ মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করতেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ভবানী ভট্টাচার্য বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। এই সেতুর ফলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে তা নয়, এলাকার অর্থনীতিতেও পরিবর্তন আসবে। • নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ