নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: জেলা সফরে এসে প্রায় ৯০০ জন ভূমিহীনের হাতে জমির পাট্টা তুলে দেবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্ধমানের মঞ্চ থেকে পশ্চিম বর্ধমানেরও কয়েকজনকে পাট্টা দেওয়া হবে। পরে ওই জমিতে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ঘর তৈরি করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, একসঙ্গে এতজন জেলায় পাট্টা পাওয়ার রেকর্ড কম রয়েছে। ওইদিন তিনি রাস্তা সংস্কার সহ বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। মঞ্চ থেকে উপভোক্তাদের হাতে নানা ধরনের সামগ্রী তুলে দেবেন। পড়ুয়াদের সবুজ সাথী প্রকল্পের সাইকেল দেওয়া হবে। এছাড়া ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ প্রকল্পের প্রচার করতে হেলমেট দেওয়া হবে। সম্প্রতি জেলায় দুর্ঘটনায় বিহারের ১১জন মারা গিয়েছেন। ৩৮জন জখম হয়েছেন। জখম ও নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। জেলায় দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন আধিকারিকরা। মঞ্চ থেকে সেফ ড্রাইভ সেভ লাইভ নিয়ে প্রচার করা হতে পারে।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, জেলাপরিষদ দুঃস্থ পরিবারগুলিকে বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে তালিকা তৈরি হয়েছে। এই প্রকল্পের উদ্বোধনও মুখ্যমন্ত্রীর হাত দিয়ে হবে। জেলাজুড়ে রাস্তা সংস্কারের কাজের সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর হাত দিয়ে করানো হবে। জেলাপরিষদ ছাড়া, এসআরডিএও সংস্কারের কাজ করবে। বর্ধমান শহরের রাস্তা বেহাল হয়ে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আসার খবর পেয়ে যুদ্ধকালীন ভিত্তিতে জিটি রোড সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এই রাস্তা ধরেই শহরে আসবেন। সৌন্দর্যায়নের জন্য গাছ রোপণের কাজ শুরু হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর হাত দিয়ে বহু প্রকল্পের উদ্বোধনও করা হবে। অনাময় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হবে। তবে সব থেকে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে পাট্টা বিলিতে। সরকার চাইছে, সকলের মাথা গোঁজার ঠাঁই হোক। সেই কারণে পাট্টা দেওয়া হয়েছে। জমি পাওয়া গেলে অনেকে ধীরে ধীরে বাড়ি তৈরি করতে পারবেন। পরে সরকারও বাড়ি তৈরি করে দেবে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি পরিবার এই সুবিধা পেয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার আবাস যোজনা প্রকল্পের টাকা বন্ধ করে রেখেছে। কিন্তু, রাজ্য সরকার উদ্যোগ নিয়ে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ঘর তৈরি করে দিচ্ছে। প্রতিটি জেলাতেই এই প্রকল্পে বাড়ি তৈরির কাজ প্রাথমিকভাবে শেষ হয়ে গিয়েছে। তবে টাকা অ্যাকাউন্টে যাওয়ার পরও যাঁরা বাড়ি তৈরি করেননি, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাড়ি তৈরির জন্য তাঁদের একাধিকবার নোটিস করা হয়। তারপরও কাজ না করায় টাকা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের টাকা অন্য কোনও খাতে খরচ করা যাবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।