কাজলকান্তি কর্মকার, ঘাটাল: ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণের দায়িত্ব ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের। এতবছর ধরে আমরা বারবার জানিয়েছি, অনুরোধ করেছি। তবু কেন্দ্রীয় সরকার কোনও উদ্যোগ নেয়নি। ঘাটালের মানুষ প্রতি বছর বন্যায় ভাসেন, অথচ দিল্লি নির্বিকার। মঙ্গলবার ঘাটাল মহকুমায় বন্যা পরিদর্শনে এসে এভাবেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘাটাল শহরের চাতালে বন্যার জলে দাঁড়িয়েই তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, কেন্দ্রের মুখাপেক্ষী হয়ে না থেকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য আমরা প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট ধরেছি। তার মধ্যে ৫০০কোটি টাকা বরাদ্দও করেছি। কারণ আমরা চাই ঘাটাল ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের দুর্দশা দূর হোক। আগে কেন্দ্রীয় সরকার গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যানের মধ্যে দিয়ে নদী ভাঙনে টাকা দিত। এখন সব বন্ধ। সবটাই আমাদের নিজেদের করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত হলেও রাজ্য সরকার চেষ্টা করবে যাতে কাউকে উচ্ছেদ না করেই এই প্রজেক্ট রূপায়ণ করা যায়। সেইমতোই চেষ্টা চালানো হচ্ছে। স্যাম্পেল সার্ভেও শুরু করা হয়েছে। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের নিয়মিত তদারকি করার জন্য রাজ্যে সেচমন্ত্রী, সেচদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার, জেলাশাসক, এসপি, জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে একটি মনিটারিং কমিটি তৈরি করা হয়েছে। একইভাবে ব্লকস্তরেও একটি মনিটারিং কমিটি তৈরি হয়েছে। বর্ষার পরই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ দ্রুত গতিতে চলবে।
মমতা আরও বলেন, বাংলায় দুর্যোগ বেশি হয়। আর দুর্যোগ বেশি হলে সাধারণ মানুষের যেমন হয়রানির শেষ থাকে না, তেমনই সেই দুর্যোগ মোকাবিলা করতে সরকারের কোষাগারেও টান পড়ে। এবার ডিভিসি যা জল ছেড়েছে, সব রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে। ৫১ হাজার ২ লক্ষ কিউবিক মিটার জল ছেড়েছে। ওরা ১০ বছর ধরে কোনও ড্রেজিং করেনি। তাই এত জল ছাড়তে হচ্ছে। এই জল ছাড়ার প্রতিকার করতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৬এর নির্বাচনের পর ডিভিসি জল ছাড়লে কী করে সেই জলটাকে আটকানো যায়, তার প্ল্যানিং আমরা করব। এতে টাকা লাগে লাগবে। প্রয়োজনে আমাদেরও কয়েকটা ড্যাম করতে হবে। জল ছাড়লে আমরা সেই জল অন্যভাবে পাশ করাব।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বিকেল ৪টে নাগাদ ঘাটালে পৌঁছন। তাঁকে একবার দেখার জন্য রামজীবনপুর থেকে নাড়াজোল পর্যন্ত প্রায় ৬০ কিলোমিটার রাস্তার দু’ধারে কাতারে কাতারে মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন। কোনও কোনও অতি উৎসাহী ভক্তের দল ফুলের তোড়া, ওয়েলকাম বোর্ড নিয়ে তাঁর গাড়ি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন। ক্ষীরপাই মোড়ে, সিংহডাঙায় সমর্থকদের অনুরোধে তাঁকে দাড়াতেও হয়।
চাতালে ঢুকেই তিনি বন্যা কবলিত মানুষদের সঙ্গে কথা বলেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী চারজন সদ্যোজাত সন্তানের মা, দু’জন সাপে কাটা রোগী সহ মোট ন’জন রোগীর সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন। বন্যার জলে দাঁড়িয়েই প্রায় ১৫ মিনিট মাইক্রোফোন নিয়ে কথা বলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী(দেব), সেচমন্ত্রী মানসরঞ্জন ভুঁইয়া, বিধায়ক অজিত মাইতি, মন্ত্রী শিউলি সাহা সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি এবং আধিকারিকরা। ঘাটালে বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী।