সংবাদদাতা, মানকর: মঙ্গলবার বীরভূমের ইলামবাজার থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে অজয় নদের উপর বহু প্রতীক্ষিত জয়দেব সেতু উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন শিবপুরের দিকে সেতুর উপর অস্থায়ী অনুষ্ঠান মঞ্চ করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক পোন্নমবলম এস, এডিডিএর চেয়ারম্যান কবি দত্ত প্রমুখ।
পাশাপাশি, এদিন সেতু উদ্বোধনের পর নতুন বাস রুটের ঘোষণা করা হয়। এই রাস্তা দিয়ে দুর্গাপুর-সিউড়ি বাস চলবে। বিষয়টি নিয়ে প্রদীপবাবু বলেন, সেতু উদ্বোধনের সঙ্গে বাস চলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মানুষ স্বস্তি পাবে। শুধু নদের দুই পাড়ের বাসিন্দা নয়, বহু মানুষ সুবিধা পাবে। এসবিএসটিসির চেয়ারম্যান সুভাষ মণ্ডল বলেন, বাসটি দুর্গাপুর থেকে সিউড়ি যাবে। পানাগড়, ইলামবাজার হয়ে ঘুরে সিউড়ি যেতে হতো। সেটা সরাসরি এখন শিবপুর থেকে যাওয়া যাবে। প্রায় ১২০ কিমি রাস্তা কমে যাবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে কাঁকসার একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী অজয়ের উপরে এই নতুন সেতু তৈরি কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেতুটি শিবপুর এলাকায় শুরু হয়ে ইলামবাজারের টিকরবেতায় শেষ হয়েছে। সেতুটির মোট দৈর্ঘ্য ২.৭৩৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে নদীর উপর মূল অংশের দৈর্ঘ্য ১০৫৭ মিটার। সেতু তৈরিতে খরচ হয়েছে ১৩৮ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা। স্থানীয়রা জানান, বীরভূমের বহু মানুষ দুর্গাপুরের বিভিন্ন এলাকায় যেতে এই রাস্তা ব্যবহার করেন। অস্থায়ী সেতু জলে ভেসে গেলে দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি হতো। অস্থায়ী সেতুতে যাতায়াত বন্ধ হলে ইলামবাজার হয়ে ঘুরে দুর্গাপুরের মুচিপাড়া যেতে হতো। তাতে ২৫ কিমি রাস্তা বেশি যেতে হয়। স্থায়ী সেতু হওয়ায় রাস্তা অনেকটাই কমে গেল। ফলে সময় ও অর্থ অপচয় আর হবে না। স্থানীয় বাসিন্দা সৈয়দ হিজবুল্লাহ বলেন, সেতু হওয়ার ফলে যা উপকার হল তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। অস্থায়ী সেতুতে জল বাড়লে জীবন হাতে নিয়ে পারাপার করতে হতো। ব্যবসার ক্ষতি হতো। খুব ভালো হল। সেতুর নামও সার্থক হয়েছে।-নিজস্ব চিত্র