সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম সুপার ক্রিটিকাল থার্মাল পাওয়ার ইউনিট উদ্বোধন হল সাগরদিঘি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে। বৃহস্পতিবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করেন। ফলে সাগরদিঘি পিডিসিএল থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট এবার বাংলার সর্ববৃহৎ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে পরিণত হল।
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৬৬০মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই পঞ্চম ইউনিট থেকে আরও ১৬লক্ষ ৭০হাজার পরিবারকে বিদ্যুৎ পরিষেবা দেওয়া যাবে। এটির উদ্বোধন উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে রাজ্যের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আখরুজ্জামান, জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া, পুলিশ সুপার অমিতকুমার সাউ ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জিএম অলোককুমার মাইতি উপস্থিত ছিলেন। এই ইউনিট চালুর ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৬হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। এখন রাজ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়ায় শিল্পে বিনিয়োগও আসছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা থেকে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
আটবছর আগেই পঞ্চম ইউনিট গড়ার কথা ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। অবশেষে ছ’মাস আগে নতুন ইউনিটের কাজ সম্পূর্ণ হয়। তবে ইউনিটের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজের জন্য উদ্বোধনের সময় ছ’মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
প্রায় দু’সপ্তাহ আগে বহরমপুরের জনসভা থেকে এই সুপার ক্রিটিকাল ইউনিট উদ্বোধনের কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আগে থেকেই ইউনিটের ট্রায়াল শুরু করে দেয় কর্তৃপক্ষ। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ১০ডিসেম্বর এই ইউনিট উদ্বোধনের কথা ছিল। তবে নানা কারণে সেটি এদিন উদ্বোধন হয়েছে। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ইউনিট চালু হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে গতি বাড়বে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত হওয়ায় এটি থেকে তেমন দূষণও হবে না।
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এক আধিকারিক বলেন, রাজ্যে এই প্রথম ৬৬০ মেগাওয়াটের ইউনিট গড়ে উঠেছে। আরও আগেই এটি চালু হওয়ার কথা ছিল। সমস্ত দিক ভালোভাবে পরীক্ষা করার পরই সেই কর্মযজ্ঞ শুরু হল। এই ইউনিট চালু হওয়ায় মুর্শিদাবাদ সহ আশপাশের আরও কয়েকটি জেলার মানুষ উপকৃত হবে। বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থাকে এখানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দেওয়া হবে। তারা বিভিন্ন গ্রিডকে সেই বিদ্যুৎ বিক্রি করবে। এই ইউনিটে বহু বেকার যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থান হবে।
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে দাহ্য কয়লা থেকে নির্গত ধোঁয়ায় প্রচুর পরিমাণে সালফার ডাই-অক্সাইড থাকে। প্রচুর ছাইও তৈরি হয়। তবে এই নতুন ইউনিটে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এই ইউনিটে নির্গত গ্যাস চুন ও সিমেন্ট তৈরিতে ব্যবহার করা হবে। অন্য গ্যাস নষ্ট করে দেওয়া হবে বলে পিডিসিএল জানিয়েছে। সুপার ক্রিটিকাল ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলায় নয়া ইউনিটে দূষণের তেমন সম্ভাবনা নেই। দূষণ নিয়ন্ত্রণের পরিকাঠামোর জন্য প্রায় আড়াইহাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। সবমিলিয়ে, সাগরদিঘিতে নতুন করে প্রায় ৪৫০০কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে রাজ্য সরকার।