নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: জয়রামবাটি-কামারপুকুর উন্নয়ন পর্ষদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে বৈঠকটি হয়। তাতে ছিলেন মঠের অধ্যক্ষ তথা বোর্ডের চেয়ারম্যান স্বামী লোকত্তরানন্দজি মহারাজ, জয়রামবাটি মাতৃ মন্দির থেকেও মহারাজরা আসেন। পূর্ত দপ্তরের সচিব অন্তরা আচার্য, আরামবাগের সাংসদ মিতালি বাগ, হুগলির জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি, বাঁকুড়ার জেলাশাসক সিয়াদ এন সহ পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারাও হাজির ছিলেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কামারপুকুর চটি এলাকায় এসেছিলেন। সেখানে একটি সভাও করেন। ওই সভা থেকেই তিনি জয়রামবাটি কামারপুকুর উন্নয়ন পর্ষদ গঠনের ঘোষণা করেন। পাশাপাশি উন্নয়ন খাতে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ ঘোষণাও সেদিনের মঞ্চ থেকেই করেন। তারপর গঠিত হয় উন্নয়ন পর্ষদ। মঙ্গলবার ওই পর্ষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় কামারপুকুর মঠে। তাতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী সহ রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা যোগ দেন।
বৈঠক শেষে পূর্তদপ্তরের সচিব প্রস্তাবিত কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের পার্কিং জোনের কাজ দেখতে যান। তাঁর সঙ্গে পূর্তদপ্তরের হুগলি জেলার ইঞ্জিনিয়াররাও ছিলেন। সেখানে সচিব বলেন, পার্কিং জোনটি পূর্ত দপ্তর করছে। সম্প্রতি কাজ শুরু হয়েছে। টার্মিনাসের কাজটি আগামী মার্চ মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করছি। আপাতত জায়গাটি সমান করার কাজ চলছে। তারপর পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। তারপর অতিথি নিবাস ও প্রসাদ গৃহ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। পার্কিং জোনের কাজ শেষ হলে বাকিগুলি হবে। আরামবাগ রামকৃষ্ণ সেতু প্রসঙ্গে সচিব বলেন, সেতুতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এখন কাজ চলছে। ওই কাজ দু’মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। নতুন সেতু তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সেজন্য ডিটেল প্রজেক্ট রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে। তার আগে আরামবাগের সংযোগকারী রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে। কাজের তদারকিও করা হচ্ছে।
এদিন নবান্ন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী উন্নয়ন পর্ষদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজকর্ম নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি তিনি এদিনের বৈঠকের ব্যাপারে নিজস্ব ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও লেখেন। তিনি লিখেছেন, বাংলায় মা-মাটি-মানুষের সরকার আসার পর থেকে কামারপুকুর ও জয়রামবাটির উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা অনেক উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করেছি। এই দুই স্থানের সামগ্রিক উন্নয়নের পরিকল্পনা এবং রূপায়নের জন্য গত সেপ্টেম্বর মাসে আমরা ‘জয়রামবাটি-কামারপুকুর ডেভেলপমেন্ট বোর্ড’ তৈরি করেছি। ইতিমধ্যেই এই বোর্ডকে ১০ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে। আমি আশা করছি, এই বোর্ড জয়রামবাটি এবং কামারপুকুরের পরিকাঠামো উন্নয়নে আগামী দিনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া বিগত দিনে কামারপুকুর ও জয়রামবাটিতে বিভিন্ন কাজের খতিয়ানও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। নিজস্ব চিত্র