নিজস্ব প্রতিনিধি, সূতি: মুর্শিদাবাদ জেলায় এবার নতুন মহকুমা। ফরাক্কা, সামশেরগঞ্জ ও সূতি বিধানসভা নিয়ে নতুন মহকুমা তৈরি হবে। ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এতদিন এই তিন বিধানসভা জঙ্গিপুর মহকুমার অন্তর্গত ছিল। বিস্তীর্ণ এলাকা হওয়ায় জঙ্গিপুর মহকুমা শাসকের পক্ষে প্রশাসনিক কাজকর্ম চালাতে সমস্যা হতো। সাধারণ মানুষকেও এসডিও অফিসে গিয়ে কোনও কাজ মেটাতে সমস্যায় পড়তে হতো। মুখ্যমন্ত্রী এক নিমিষেই সেই সমস্যার সমাধান করলেন। মজবুত প্রশাসন গড়ার লক্ষ্যে মঙ্গলবার সূতির ছাবঘাটির কেডি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সরকারি অনুষ্ঠান থেকে নতুন মহকুমার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর করতালিতে ফেটে পড়ে সভাস্থল।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ফরাক্কা, ধুলিয়ান(সামশেরগঞ্জ) ও সূতি বিধানসভা মালদহ দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ জেলার মধ্যে পড়ে। এই জায়গায় প্রশাসনকে আরও মজবুত করার জন্য সূতি ধুলিয়ান ও ফরাক্কা নিয়ে নতুন মহকুমা তৈরি করা হচ্ছে। এক মাসের মধ্যে নতুন মহকুমার কাজ শুরু হবে। স্থানীয় মানুষদের কষ্ট করে আর দূরে যেতে হবে না। সূতি, ফরাক্কা ও ধুলিয়ানের মধ্যবর্তী কোনও জায়গায় এই সাবডিভিশনের অফিস তৈরি হবে। স্বাভাবিকভাবেই খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন মহকুমা তৈরির এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সূতির বিধায়ক ইমানী বিশ্বাস বলেন, সত্যি এটা আমাদের খুব বড় প্রাপ্তি। মুখ্যমন্ত্রী সারপ্রাইজ গিফট দিলেন। আমরা সবাই খুব অবাক হয়ে গিয়েছি। তিনটি বিধানসভা এলাকা নিয়ে আলাদা একটি মহকুমা হওয়ায় সবার ভালো হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই ফারাক্কার এসডিপিও অফিসে নতুন মহকুমা শাসকের বসার জন্য তোড়জোড় শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, জঙ্গিপুর মহকুমায় দু’টি পৃথক পুলিস মহকুমা আগে থেকেই আছে। জঙ্গিপুর এবং ফারাক্কায় দু’জন এসডিপিও আছেন। এবার নতুন মহকুমা একজন নতুন এসডিও পাবেন। জঙ্গিপুরে সাংসদ তৃণমূলের খলিলুর রহমান বলেন, দিদি যখনই আসেন জেলার জন্য কিছু না কিছু নতুন চমক আনেন। আমরা কেউই ভাবতে পারিনি উনি এমন একটা ঘোষণা করবেন।
এদিন প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী ৭১৮কোটি টাকার নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তা ও পানীয় জল প্রকল্পে নজর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, জেলাজুড়ে বিভিন্ন ব্লকে বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো নির্মাণের জন্য ৪৪কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা খরচ করা হয়েছে। কান্দি মহকুমা হাসপাতালে ১০০ বেডের ইন্ডোর ও জরুরি বিল্ডিং, ছ’টি বেডের ডায়ালিসিস সেন্টার চালু করা হল। এজন্য খরচ হয়েছে ১২ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে ২০বেডের ডায়ালিসিস সেন্টার, লেভেল ২ ট্রমা কেয়ার ইউনিট, ১২ বেডের বার্ন কেয়ার ইউনিটের জন্য পাঁচ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। জেলাজুড়ে ১৫টি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। চার কোটি ৮২ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে এখানে। সামশেরগঞ্জে হাসপাতাল হয়েছে। এখানে বিড়ি শিল্পের সঙ্গে কর্মীর সংখ্যা বেশি। তাঁদের জন্য হাসপাতালে ১০০টি বেড বাড়ানো হয়েছে।
জেলার বেশকিছু রাস্তার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া বহরমপুর ভগবানগোলা, লালগোলা ও রঘুনাথগঞ্জের প্রায় ২০কিলোমিটার রাস্তার মানোন্নয়ন হবে বলে ঘোষণা করেছেন। এজন্য ৫২কোটি ৮০লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ইসলামপুর থেকে রানিনগরের কাতলামারি পর্যন্ত ১৯কিলোমিটার রাস্তার জন্য ৩৯ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে।