নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: এক লাফে বাঁকুড়ায় কেজিপ্রতি মুরগির মাংসের দাম বাড়ল ৬০ টাকা। তিনদিন আগেও এক কেজি মুরগির মাংস ২০০টাকায় বিক্রি হয়েছে। বুধবার তারই দাম হয় ২৬০ টাকা। ফলে ক্রেতাদের পকেটে টান পড়ে। জোগান কমে যাওয়ায় দাম বেড়ে গিয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। এমনিতেই বাঁকুড়ায় বর্তমানে শাক-সবজি ও আনাজপাতি অগ্নিমূল্য। মুরগির মাংস কিছুটা কম দামে পাওয়া যাওয়ায় মধ্যবিত্তের কিছুটা সুরাহা হচ্ছিল। এভাবে দাম বাড়লে মুরগির মাংস গরিব মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন। সামনেই আবার বিশ্বকর্মা পুজো। ফলে অনেকে বাজেটে কাটছাঁট করছেন।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিসের এনফোর্সমেন্ট বিভাগ ও টাস্ক ফোর্স নিয়মিত অভিযান চালিয়ে থাকে। মুরগির মাংসের দাম হঠাৎ করে কেন এতটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। বাজারে কৃত্রিম অভাব সৃষ্টি করে দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সতীঘাট এলাকার মাংস বিক্রেতা প্রদীপ গড়াই বলেন, কোম্পানি ভেদে দামের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। মাংসের স্বাদও ভিন্ন হয়। আমার দোকানে থাকা সংস্থার মুরগির মাংস এদিন ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। শ্রাবণ মাসে প্রতি কিলোগ্রাম মাংসের দাম ১৮০ টাকায় নেমে গিয়েছিল। তিনদিন আগেও ২০০ টাকায় মাংস বিক্রি করেছি। এদিন দাম বেশ চড়া ছিল। জোগান বাড়লে দাম কিছুটা কমবে।
বাঁকুড়া শহর লাগোয়া একটি ব্রয়লার ফার্মের মালিক বিশ্বনাথ ঘোষ বলেন, শ্রাবণ মাসে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় অনেকে নিরামিষ খেয়ে থাকেন। ফলে একমাস ধরে মুরগির মাংসের চাহিদা খুবই কম থাকে। গতবার মুরগি বিক্রি করতে সমস্যা হয়েছিল। আমাদের ফার্মের মুরগি বিহার, ঝাড়খণ্ডেও যায়। কিন্তু, সেখানেও শ্রাবণ মাসে মাংসের চাহিদা কমে যায়। গতবারের মতো পরিস্থিতি এড়াতে এবার আমরা জৈষ্ঠ-আষাঢ় মাস থেকেই ফার্মে মুরগির বাচ্চার সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছিলাম। ফলে বর্তমানে উৎপাদন কমে গিয়েছে। ফের বাচ্চার সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগামী দু’মাসের মধ্যে উৎপাদন স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, মুরগির মাংসের পুষ্টিগুণ বেশি থাকায় অনেকেই তা খেয়ে থাকেন। বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসকরা খাসি বা পাঁঠার মাংস (রেড মিট) খেতে নিষেধ করেন। পরিবর্তে পরিমিত মুরগির মাংস খেতে বলা হয়। ফলে সারাবছরই মুরগির মাংসের চাহিদা বেশি থাকে। সহজলভ্যতা ও কম দামের কারণে পোলট্রি মুরগির কদর বেশি। বছরের মধ্যে একমাত্র শ্রাবণ মাসেই মুরগির মাংসের চাহিদা ব্যাপকহারে কমে যায়। শিবের ব্রত পালনের কারণে অনেকেই ওই মাসে আমিষ খান না। বিশেষ করে মুরগির ডিম ও মাংস বেশিরভাগ পুণ্যার্থী এড়িয়ে চলেন। সেই কারণে ওইসময় মুরগির মাংসের দাম কমে যায়। তবে এক লাফে এতটা বাড়ে না বলেই বিক্রেতারা জানিয়েছেন।