নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: রাতভর মৃত প্রেমিকার পাশেই বসেছিল খুনের ঘটনার মূল অভিযুক্ত চেতনারায়ণ দাস। রাগ কমার পরে নিজের কৃতকর্ম নিয়ে চিন্তা করেছিল সে। পরে ছোট শিশুর কান্নায় সম্বিত ফেরে তার। ভোর হতেই শিশুটিকে নিয়ে হোটেলের বাইরে বের হয়ে যায়। সেখান থেকে এনজেপি স্টেশন গিয়ে ট্রেন ধরে বিহারে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে ট্রেনেই এক মহিলাকে শিশুটিকে দিয়ে গা ঢাকা দেয় সে। সেই শিশুর সন্ধানে মঙ্গলবার এনজেপি থানার পুলিশের একটি দল বিহারে রওয়া হয়। শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের লাগাতার জেরায় এই তথ্যই দিয়েছে অভিযুক্ত। যদিও তার দেওয়া তথ্য যাচাই করতে দফায় দফায় চেতনারায়ণকে জেরা করছেন তদন্তকারীরা। মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসিপি রাকেশ সিং বলেন, খুনের ঘটনার অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে খুনের কারণ জানতে জেরা চলছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ অক্টোবর রাতে এনজেপি স্টেশন সংলগ্ন একটি হোটেলের রুম থেকে এক মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তার সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি তাকে খুন করে পালিয়ে যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে গত রবিবার বিহার থেকে গ্রেফতার করা হয় চেতনারায়ণকে। পুলিশের জেরাতে অভিযুক্ত জানায়, তার সঙ্গে সম্পর্ক থাকার পরেও একাধিক পুরুষের সঙ্গে ওই মহিলার প্রেম ছিল। ঘটনার রাতে সেটা জানার পরেই দু’জনের মধ্যে ঝামেলা হয়। পরে রাগের মাথায় প্রেমিকাকে খুন করে পালায় সে।
জেরায় চেতনারায়ণ আরও জানিয়েছে, প্রায় দু’বছর ধরে তাদের সম্পর্ক ছিল। অন্য পুরুষের সঙ্গে ফোনে কথা বলার বিষয়টি টের পেয়েছিল সে। বারবার এই বিষয়ে মিথ্যে কথা বলত তার প্রেমিকা। ঘটনার রাতেও হোটেলের বুমে অন্য এক পুরুষের কণ্ঠের আওয়াজ মেলায় রাগ চেপে থাকতে পারেনি সে। ঝগড়ার মাঝে প্রেমিকা তাকে লাথি মারে। তাতেই রাগ আর সামলে রাখতে পরেনি। প্রেমিকাকে থাপ্পড় মারাতেই সে সংজ্ঞা হারায়। সেই সময় প্রথমবার তাকে গলা চেপে মারার চেষ্টা করেছিল অভিযুক্ত। যদিও পরে প্রায় রাত ১টা নাগাদ যখন সে বুঝতে পারে প্রেমিকা বেঁচে আছে, তখন ফের মারার চেষ্টা করে। এবারে সফল হয়। তবে মৃতদেহ ছেড়ে যেতে পারেনি সে। দেহের পাশেই বসে থেকে রাত কাটিয়েছিল। সকাল হলে গা ঢাকা দেয়।