Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুবরাজপুরে দু’দশক বন্ধ চাষিমঙ্গল সমবায়ের হিমঘর

প্রায় এক দশক আগে একবার গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল, দুবরাজপুরে বন্ধ থাকা চাষিমঙ্গল সমবায় হিমঘর পুনরায় চালু হতে চলছে

দুবরাজপুরে দু’দশক বন্ধ চাষিমঙ্গল সমবায়ের হিমঘর
  • ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৮:১২
Prefer us on Google

পিনাকী ধোলে, সিউড়ি: প্রায় এক দশক আগে একবার গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল, দুবরাজপুরে বন্ধ থাকা চাষিমঙ্গল সমবায় হিমঘর পুনরায় চালু হতে চলছে। হিমঘর নিশ্চয়ই খুলবে, এই বিশ্বাস থেকেই অপেক্ষার প্রহর গুনছিলেন এলাকার কৃষকরা। কিন্তু তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। দীর্ঘ প্রায় দু’যুগ পার হতে চললেও আজও দুবরাজপুরের একমাত্র হিমঘর বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। সংস্কারের জন্য ৫০লক্ষ টাকা বরাদ্দ হলেও লাল ফিতের ফাঁসে আটকে যায় প্রকল্পের কাজ। চাষিদের দাবি, হিমঘর চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিক সরকার। 

Advertisement


স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অনুপ সাহা বলেন, দুবরাজপুরে হিমঘর না থাকার কারণে চাষিরা ব্যাপক সমস্যার মধ্যে আছেন। আমি নিজে বিধানসভায় বহুবার এই হিমঘর চালুর ব্যাপারে সওয়াল করেছি। কিন্তু রাজ্য এব্যাপারে বিশেষ হেলদোল দেখায়নি। বেসরকারিভাবে কেউ করতে চাইলে করতে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন কৃষিমন্ত্রী। স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৭৯সাল নাগাদ চার হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন হিমঘরটি চালু হয়। হিমঘর চালুর পিছনে তৎকালীন স্থানীয় বিধায়ক ভক্তিভূষণ মণ্ডলের অক্লান্ত পরিশ্রম আজও স্মরণ করেন এলাকার বাসিন্দারা। হিমঘর পরিচালন করার দায়িত্বে ছিল সমবায় সমিতি। ১৯৯৫সাল নাগাদ সমিতি সিদ্ধান্ত নিয়ে হিমঘরটিকে ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট কো-অপারেটিভ এগ্রিকালচারাল রুরাল ডেভলপমেন্ট ব্যাঙ্ককে পাঁচ বছরের জন্য লিজ দেয়। তখন অবশ্য ব্যাঙ্কের নাম ছিল সেন্ট্রাল ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক। পরে আরও দু’বছর লিজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু ২০০২ সালের পর ওই ব্যাঙ্ক আর লিজের মেয়াদ বাড়াতে রাজি হয়নি। তারপর থেকেই বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে হিমঘরটি। 
স্থানীয় চাষিরা জানান, শুরুর দিকে দুবরাজপুর এলাকায় যে পরিমাণ চাষ হতো তা দিয়ে হিমঘর ভরত না। বাইরে থেকে আলু এনে ভরাতে হতো। তবে হিমঘর তৈরির পর চাষিরা নতুন উদ্যমে আলুচাষ শুরু করেছিলেন। হিমঘরও চলছিল ভালোই। স্থানীয় চাষি অসীম ঘোষ, রামকৃষ্ণ গড়াইরা বলেন, এমনিতেই মাঠ থেকে আলু তোলার সময় খুব বেশি দাম পাওয়া যায় না। তাই ভবিষ্যতে দাম পেতে আলু হিমঘর রাখতে হয়। কিন্তু এলাকার একমাত্র হিমঘর বন্ধ থাকায় খুবই সমস্যা মধ্যে আছি। বর্ধমান বা বীরভূমের সাঁইথিয়ায় হিমঘর থাকলেও আলু পাঠাতে খরচ বেশি হয়। অবিলম্বে হিমঘরটি চালু করা হোক। তাছাড়া, এই হিমঘরকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল একটা আস্ত পাড়া। চাষিদের পাশাপাশি সেই কোল্ডস্টোর পাড়ার লোকজনও চাইছেন, হিমঘরটি চালু হোক। 


বছর দশেক আগে একবার হিমঘর চালু হবে বলে আশার আলো তৈরি হয়েছিল। শোনা যায়, হিমঘরটি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য নাবার্ড প্রায় ৫০লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছিল। তবে হিমঘর পরিচালনের জন্য কোনও বৈধ নির্বাচিত বোর্ড না থাকার কারণে সেই টাকা খরচ হচ্ছিল না। হিমঘরের সংস্কারের কাজের দেখভালের জন্য একটি কমিটিও তৈরি হয়। সেই কমিটির আহ্বায়ক মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, প্রায় এক দশকের বেশি সময় আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি প্রশাসনিক সভা থেকে হিমঘরটি পুনরুজ্জীবিত করার আশ্বাস দেন। তারপর ৫০লক্ষ টাকা বরাদ্দও হয়। কিন্তু প্রশাসনিক তৎপরতার অভাবেই এবং নানান জটিলতায় সেই টাকা আর খরচ হয়নি। এনিয়ে বহু জায়গায় চিঠি পাঠিয়েছি। কিন্তু বিশেষ কিছু হয়নি। বর্তমানে হিমঘরটির অবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে। যন্ত্রপাতিও অধিকাংশ খারাপ হয়ে গিয়েছে। তবে, স্থানীয় কৃষকদের জন্য হিমঘরটির সংস্কার আবশ্যক হয়ে পড়েছে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ