নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: চাপড়া ব্লকের হাটখোলা পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্যার স্বামী ও ভাইকে অপহরণের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। থানায় অভিযোগের পরই তৎপর হয় পুলিস। অপহরণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অপহৃত হান্নান মণ্ডল ও তাঁর শ্যালক জাহিদুল মেওয়াজিকে উদ্ধার করে পুলিস। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আজিজুল শেখ ও শিল্পী শেখ নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। বাকিরা পলাতক। ধৃতদের বাড়ি চাপড়ার ব্রহ্মনগর এলাকায়। শনিবার ধৃতদের কৃষ্ণনগর আদালতে পেশ করা হয়। তাদের জেল হেফাজতে পাঠিয়ে আগামী সোমবার ফের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন বিচারক। এই ঘটনার পিছনে কী কারণ রয়েছে, তা পুলিস খতিয়ে দেখছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৭ জুলাই রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা হান্নান সাহেবের কাছে যায়। বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলার অছিলায় তারা হান্নান সাহেব ও তাঁর শ্যালককে সঙ্গে নিয়ে যায়। এরপর এক নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তাঁদের দু’জনকে বেধড়ক মারধর করা হয়। মোবাইল ফোন ভেঙে দেওয়া হয়। রাত বাড়লেও তাঁরা বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন পরিবারের লোকজন খোঁজখবর শুরু করেন। পরেরদিন সকালে একটি অজানা নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয়, হান্নান সাহেব ও তাঁর শ্যালককে অপহরণ করা হয়েছে। এরপরই হান্নান সাহেবের স্ত্রী পারভিনা মণ্ডল চাপড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিস তদন্তে নেমে জানতে পারে অভিযুক্ত আজিজুল শেখ একটি গাড়িতে অপহৃতদের নিয়ে ঘুরছে। পরে পুলিস জানতে পারে ব্রহ্মনগরের একটি বাড়িতে হান্নান সাহেবকে আটকে রাখা হয়েছে। কিন্তু, পুলিস ওখানে গিয়ে কাউকে পায়নি। ওখান থেকে শিল্পীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর আজিজুলের মোবাইল লোকেশনের সূত্র ধরে পুলিস জানতে পারে গাড়িটি শিয়ালদহের দিকে যাচ্ছে। সেই সময় কোর্টের কাজে কলকাতায় ছিলেন চাপড়া থানার আইসি অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায়। তিনিই গাড়িটিকে ধরতে তৎপর হন। সেই খবর অপহরণকারীরা পেয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে ফের মুর্শিদাবাদ অভিমুখে রওনা দেয়। মাঝে চাপড়া থানার একটি দল গাড়িটি ধরতে তৎপর হয়। এই সময় অপহরণকারীরা গাড়ি নিয়ে নদীয়ার করিমপুর রোড ধরে ব্রহ্মনগরের একটি পাটখেতে লুকিয়ে পড়ে। পুলিস গাড়ি চালক আজিজুলকে পাকড়াও করে হান্নান সাহেব ও জাহিদুলকে উদ্ধার করে। বাকিরা পালিয়ে যায়।
চাপড়া থানার আইসি বলেন, দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে অপহৃতদের উদ্ধার করা হয়েছে।