নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়কে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন শীর্ষ আদালতের আরেক প্রাক্তন বিচারপতি সঞ্জয় কিষান কৌল। নিয়ম অনুযায়ী বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত নাম নিয়ে আলোচনায় বসে সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম। কিন্তু কলেজিয়ামে আলোচনার আগেই প্রস্তাবিত নাম নিয়ে সরকারের সঙ্গে চন্দ্রচূড় আলোচনা করতেন বলে দাবি করেছেন প্রাক্তন বিচারপতি। তাঁর দাবি, এটি কার্যত সরকারের থেকে ‘পূর্ব-অনুমোদন’ নেওয়ার শামিল। চলতি মাসেই প্রকাশিত হতে চলেছে কৌলের আত্মজীবনী ‘উইদাউট ফিয়ার অর ফেভার’। ওই বইয়ে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলেছেন তিনি। বইয়ের কিছু অংশ প্রকাশ্যে আসতেই সরব বিরোধীরা। কংগ্রেসের দাবি, এই বই মোদি সরকারের আমলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। দলের নেতা জয়রাম রমেশ এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘যদি বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের চাপ থাকে অথবা সংবেদনশীল মামলায় বেঞ্চ বদলে দেওয়া হয়, তাহলে তা বিচার বিভাগের উপর চাপ তৈরি ও স্বাধীনতা খর্ব করা ছাড়া আর কী হতে পারে? তিনি লিখেছেন, যে প্রতিষ্ঠানের উপর সংবিধানকে রক্ষার দায়িত্ব রয়েছে, তাকে অবশ্যই ক্ষমতাসীন দলের চাপের ঊর্ধ্বে থাকতে হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অপরিহার্য শর্ত।
আত্মজীবনীতে প্রাক্তন বিচারপতি কৌল লিখেছেন, যে সব বিচারপতির মেরুদণ্ড ‘দৃঢ়’, সেই সব বিচারপতিদের প্রতি সরকারের তরফে অনেক বেশি শ্রদ্ধা ও সম্মান দেখানো হয়। কিন্তু চন্দ্রচূড় সরকারের প্রতি বেশিই ‘নমনীয়’ ছিলেন। এই প্রসঙ্গে কলেজিয়ামের একটি বৈঠকের কথা উল্লেখ করেছেন কৌল। তিনি জানান, কলেজিয়াম পাঁচটি নাম নিয়ে একমত হয়েছিল। কিন্তু তত্কালীন সিজেআই চন্দ্রচূড় শেষ মুহূর্তে ষষ্ঠ একটি নামও অনুমোদন করাতে চান। কিন্তু কৌল বা কলেজিয়ামের তত্কালীন সদস্যরা তা মানতে চাননি। কৌলের বক্তব্য, ‘হতে পারে, ষষ্ঠ নাম সহ অন্যদের নিয়োগের বিষয়ে তিনি (চন্দ্রচূড়) আগেই সরকারের থেকে কোনো ধরনের অনুমোদন নিয়ে রেখেছিলেন।’ একটি সাক্ষাত্কারে কৌল আরও জানিয়েছেন, বৈঠকের ফাঁকে চন্দ্রচূড় আলাদা করে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে জানতে চান, প্রস্তাবিত নিয়োগ নিয়ে সরকারের মতামত জানতে তিনি ফোন করবেন কি না? উত্তরে কৌল জানান, কলেজিয়াম যখন নামগুলি নিয়ে পর্যালোচনা করছে, তখন এমন পদক্ষেপ করা উচিত নয়। তবে, সরকারের থেকে আগাম অনুমোদন নেওয়ার ‘রীতি’ চন্দ্রচূড়ের আগেও হয়েছে এবং পরেও হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কৌল।
আর্থিক তছরূপ প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ) সংক্রান্ত একটি মামলাতেও প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির ‘হস্তক্ষেপ’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কৌল। তাঁর দাবি, পিএমএলএ আইনের মূল বিধানগুলি বহাল সংক্রান্ত রায় পুনর্বিবেচনার জন্য একটি মামলা তাঁর এজলাসে চলছিল। ওই মামলা নিয়ে কৌলকে বেশিদূর না এগতে বা ‘মধ্যপন্থা’ অবলম্বন করতে বলেন চন্দ্রচূড়। কিন্তু কৌল তাতে রাজি হননি। এছাড়া বিচারপতি নিয়োগে বিলম্ব নিয়ে তাঁর বেঞ্চে মামলা চলছিল। কলেজিয়ামের সুপারিশ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকারকে পদক্ষেপের জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। হঠাত্ই সেই মামলাটি অন্য বেঞ্চে সরিয়ে দেওয়া হয়।



