Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাঠ দাপাচ্ছে চন্দ্রবোড়া, ভয়ে কাঁপছেন চাষিরা

বর্তমানে জোরকদমে চলছে মাঠে ধান কাটার কাজ। সেই কাজ করতে গিয়ে চন্দ্রবোড়া সাপের কামড়েও আক্রান্ত হচ্ছে অনেকে।

মাঠ দাপাচ্ছে চন্দ্রবোড়া, ভয়ে কাঁপছেন চাষিরা
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, খাতড়া: বর্তমানে জোরকদমে চলছে মাঠে ধান কাটার কাজ। সেই কাজ করতে গিয়ে চন্দ্রবোড়া সাপের কামড়েও আক্রান্ত হচ্ছে অনেকে। পেটের টানে চোখে মুখে আতঙ্কের ছোপ নিয়েই মাঠে যেতে হচ্ছে চাষি সহ শ্রমিকদের। দক্ষিণ বাঁকুড়ার তালডাংরা, সিমলাপাল ও সারেঙ্গা ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ধানজমিতে উপদ্রব বেড়েছে চন্দ্রবোড়া সাপের। যদিও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে সাপের কামড়ের চিকিৎসার জন্য সব ব্লক হাসপাতাল গুলিতে এভিএস(অ্যান্টি স্নেক ভেনাম) মজুত রয়েছে। সময়মতো হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিলে বিপদ থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

Advertisement

তালডাংরা, সিমলাপাল ও সারেঙ্গা সহ একাধিক ব্লকে জোরকদমে ধান কাটার কাজ করছেন চাষি ও শ্রমিকরা। কখনও মাঠের আলে বা কখনও ধান গাছের মধ্যেই লুকিয়ে থাকছে চন্দ্রবোড়া। বিষধর সাপের কামড়ের শিকার হচ্ছেন চাষি ও শ্রমিকরা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু চন্দ্রবোড়া সাপ নয়, বিভিন্ন সাপের কামড়ে গত আড়াই মাসে তালডাংরা ব্লকে ২৪জনেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। সিমলাপাল ব্লকে ৪৪জন ও সারেঙ্গা ব্লকে ৩৯জনেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। তালডাংরার চাষি শ্যামাপদ দে ও শ্রমিক বাসুদেব রায় বলেন, এখন ধান জমিতে চন্দ্রবোড়া সাপের উপদ্রব অনেক বেড়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির খরিস সাপ সহ চন্দ্রবোড়া সাপ ধান জমিগুলিতে নিরাপদে আশ্রয় নিয়ে থাকছে। চাষিরা কাজ করতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুও হচ্ছে।
এবিষয়ে পরিবেশ কর্মী অনির্বাণ পাত্র বলেন, চন্দ্রবোড়া সাপ মূলত স্যাঁতস্যাঁতে জায়গা পছন্দ করে। এখন তারা পশ্চিমের এলাকাগুলিতে এগিয়ে আসছে। আগে যা হাওড়া, হুগলিতেই বেশি দেখা যেত। পশ্চিমের এলাকাগুলি যত স্যাঁতস্যাঁতে হবে, ততই চন্দ্রবোড়া সাপ এগিয়ে আসবে।  কংসাবতী, জয়পণ্ডা ও শিলাবতী নদী লাগোয়া এলাকাগুলিতে বা ধানজমিতেও বেশি চোখে পড়ছে। সাপ কামড়ালে ওঝার কাছে না গিয়ে ১০০ মিনিটের মধ্যে হাসপাতালে পৌঁচ্ছতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শেই অ্যান্টি স্নেক ভেনাম নিতে হবে। যা সাপের কামড়ের বিষয়ে প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। বর্তমানে ধান কাটার মরশুম চলছে, তাই সকলকে গামবুট পরে কাজ করতে হবে মাঠে। এছাড়াও তিনি বলেন, বর্তমানে বেঙ্গল কেমিক্যালসে অ্যান্টি স্নেক ভেনাম তৈরি বন্ধ হওয়ার কারণে ভিনরাজ্য তথা দক্ষিণ ভারত থেকে যে অ্যান্টি ভেনাম আসে। তা চন্দ্রবোড়ার আক্রমণে সেভাবে কাজ করে না। তাই আক্রান্তদের ডায়ালেসিস এর প্রয়োজন হয়। কেননা দক্ষিণ ভারত এলাকার চন্দ্রবোড়া সাপ আর পশ্চিমবাংলার চন্দ্রবোড়া সাপের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। তাই বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল সহ খাতড়া মহকুমা হাসপাতালেও ডায়ালেসিস ইউনিট শুরু করতে হবে। 
বাঁকুড়ার ডেপুটি সিএমওএইচ স্বজল বিশ্বাস বলেন, চন্দ্রবোড়া সাপ অত্যন্ত ভয়ানক। বিশেষত ধানজমি বা অন্য কোথাও যাওয়ার আগে চারপাশ ভালো করে দেখে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি অ্যান্টি স্নেক ভেনাম যাতে সঠিক কাজ করে তারজন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
                             ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ