সংবাদদাতা, কান্দি: চন্দ্রবোড়ার উপদ্রবে চাষের দফারফা। একেবারে প্রাণ হাতে করে জমিতে নামতে হচ্ছে চাষিদের। সাপ থেকে বাঁচতে হাতে লাঠি নিয়ে জমিতে যেতে হচ্ছে। এমনকি, আমন ধানের শিষেও চন্দ্রবোড়ার বাচ্চা জড়িয়ে থাকছে! তাই ফসল ফলাতে গিয়ে ভরতপুর ১ ব্লকের গড্ডা মৌজার চাষিদের জীবন বিপন্ন। কান্দির রেঞ্জ অফিসার আনন্দ বিশ্বাস জানান, এমন খবর আমাদের কাছে আসেনি। তবে বন দপ্তরের একটি দল ভরতপুরের গড্ডা মৌজায় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যাবে।
এলাকার চাষিদের সূত্রে জানা গিয়েছে, এবছর বন্যার পর থেকেই গড্ডা মৌজায় সাপের উপদ্রব বেড়েছে। বিশেষ করে চন্দ্রবোড়া সাপের চরম উপদ্রব জমিতে। মাঠ ছাড়াও গ্রামের ভিতরেও সাপের উপদ্রব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এমনকি, বিভিন্ন সময় সাপে কামড়ানোর ঘটনাও সামনে আসছে। তবে প্রায় দেড় মাস ধরে সাপের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসেনি বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
কিন্তু এই সাপের উপদ্রব চাষিদের ক্ষেত্রে এককথায় সমস্যা ও আতঙ্কের হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাষিরা জানাচ্ছেন, এবার বন্যার পর এলাকায় ব্যাপকভাবে চাষিরা আমন চাষ করেছেন। সেই ধান কাটার এখনও কিছুদিন বাকি থাকলেও সাপের উপদ্রব চিন্তা বাড়িয়েছে। সন্ধ্যার পর জমির পাশ দিয়ে হাঁটাও ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
গড্ডা গ্রামের চাষি মিনারুল শেখ বলেন, ধানের জমিতে যাওয়া মানে তো জীবনের ঝুঁকি। হাতে বড় বড় লাঠি নিয়ে ধানের জমিতে যেতে হচ্ছে আমাদের। প্রায় দিন মাঠের মধ্যেই সাপ মারা পড়ছে। শিশুদের তো মাঠ দিয়ে যেতে দিতেই ভয় লাগছে।
গ্রামের আর এক চাষি মিলন আলি বলেন, বৈদ্যনাথপুর, শ্যামপুর, চাঁচোয়া ও গড্ডা গ্রামের চাষিদের এই মৌজায় জমি রয়েছে। সমস্যা আরও হল জমিতে কাজ করার জন্য শ্রমিকরা আসছেন না সাপের ভয়ে। অথচ এই সময় কীটনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ না করলে ধান বাঁচাতে পারব না।
প্রাক্তন গড্ডা পঞ্চায়েত প্রধান ভুলি বেগম মোল্লার স্বামী আতাই শেখ বলেন, সাপের উপদ্রবে চাষিরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। বিশেষ করে দূরের জমিগুলিতে এই সমস্যা বেশি।
গড্ডা গ্রামের চাষি সবুজ মোল্লা, কিতাবুদ্দিন শেখ, আতাহার মিঞারা বলেন, সাপের উপদ্রব এতই বেড়ে গিয়েছে যে, জমির আলপথ দিয়েও যাতায়াত করা যাচ্ছে না। জমি তো বটেই, এমনকি ধানের শিষেও জড়িয়ে থাকছে চন্দ্রবোড়ার বাচ্চা। বিশেষ করে সকালের দিকে ধানের শিষে চন্দ্রবোড়ার বাচ্চাদের দেখা যাচ্ছে। তাই ওই এলাকায় চাষিদের লাঠি হাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জমিতে নামতে হচ্ছে।