Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিলিগুড়ির চম্পাসারির এটিএম লুটের ঘটনা, প্রাণ হাতে নিয়ে নুহতে প্রধাননগর থানার টিম

এ যেন নব্বইয়ের দশকের বলিউড সিনেমার কুখ্যাত ভিলেনদের ডেরা। যেখানে ঢুকতে পুলিসেরও বুক কাঁপত। নায়কের সেই ডেরায় এন্ট্রি হলে হাততালি পড়ত থিয়েটারে।

শিলিগুড়ির চম্পাসারির এটিএম লুটের ঘটনা, প্রাণ হাতে নিয়ে নুহতে প্রধাননগর থানার টিম
  • ৩০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

তারক চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: এ যেন নব্বইয়ের দশকের বলিউড সিনেমার কুখ্যাত ভিলেনদের ডেরা। যেখানে ঢুকতে পুলিসেরও বুক কাঁপত। নায়কের সেই ডেরায় এন্ট্রি হলে হাততালি পড়ত থিয়েটারে। শিলিগুড়ির চম্পাসারির এটিএম লুট কাণ্ডে জড়িত দুষ্কৃতীদের ডেরাতে ঢুকতে গিয়েও একই ধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হল প্রধাননগর থানার পুলিসকে। একজনকে ধরতে স্থানীয় ৪০ জন পুলিসের সহযোগিতা নিতে হয় প্রধাননগর থানার পাঁচ পুলিসকর্মীকে। 

Advertisement

হরিয়ানার নুহ থেকে এক মাস্টারমাইন্ডকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে পুলিস। মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দ্রুত এলাকা ছাড়তে হয়েছে পুলিসকে। হরিয়ানায় চালানো ওই অপারেশন নিয়ে বলতে গেলে বুক কাঁপে প্রধাননগর থানা থেকে ওই রাজ্যে যাওয়া পুলিসের বিশেষ টিমের সদস্যদের। তবে বারবার বলা সত্ত্বেও স্থানীয় পুলিস কর্মীরা কিছুতেই রাতে ওই এলাকায় ঢুকতে রাজি হননি। তাই বিকেলেই অপারেশন শেষ করে ফেরেন প্রধাননগর থানার পুলিস কর্মীরা। 
এ প্রসঙ্গে প্রধাননগর থানার আইসি বাসুদেব সরকার বলেন, আমাদের দলের সদস্যরা স্থানীয় ৪০ জন পুলিসকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ওই এলাকায় ঢুকেছিলেন। ওই ডেরায় ঢোকা হবে জানানো হতেই রীতিমতো চমকে উঠেছিলেন সেখানকার পুলিস প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। যাই হোক, আমরা এটিএম লুট কাণ্ডের তিনজনকে ধরতে পেরেছি। 
১৮ জুন গভীর রাতে চম্পাসারির একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কাউন্টারের জোড়া এটিএম লুট হয়। তদন্ত করতে নেমে পুলিস জানতে পারে হরিয়ানার নুহ এলাকার কুখ্যাত অপরাধীরা ঘটনাটি ঘটিয়েছে। লুট করার পরেই তারা সড়কপথে নুহতে পালিয়েছে। এই তথ্য হাতে পেয়ে হরিয়ানা যায় পুলিসের পাঁচ সদস্যের একটি দল। হরিয়ানার নুহ এলাকাটি দিল্লি-আলওয়ার সড়কের ধারে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে গিয়ে ঘটনার কথা জানাতেই পুলিস জানায় এটিএম লুটের ঘটনায় সিদ্ধহস্ত ওই এলাকার একাধিক দুষ্কৃতী দল থাকে। এলাকার প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই রীতিমতো প্রশিক্ষণ হয়। প্রধাননগর থানার পুলিস এলাকাতে গিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হতেই জানতে পারে সেখানে মুম্বই ও ওড়িশা পুলিসের দল তাদের এলাকার এটিএম লুটের তদন্তে সেখানে রয়েছে। 
মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে প্রধাননগর থানার পুলিস জানতে পারে গ্যাংয়ের এক মাস্টারমাইন্ড নুহতেই আছে। তা নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের কাছে সাহায্য চায় শিলিগুড়ির টিম। রাতে অপারেশন চালানো হবে, প্ল্যান করা হয়। আর এতেই বেঁকে বসেন স্থানীয় পুলিস আধিকারিকরা। কোনওভাবেই রাতে অপারেশন চালানো যাবে না বলে জানান তাঁরা। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাতে সেখানে গেলে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকতে পারে। সেই কারণে দিনের আলোতেই অপারেশন চালাতে হবে। অতীতেও ওই এলাকায় অপারেশন চালাতে গিয়ে বিভিন্ন রাজ্যের পুলিসকে আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছিল বলে জানান স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। 
এরপর পরিকল্পনা বদলে ফেলে ৪৫ জন পুলিসকর্মী একসঙ্গে গিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীকালে তাকে জেরা করে দু’জনকে গ্রেপ্তার করে প্রধাননগর থানার পুলিস। ধৃত তিনজনকেই শিলিগুড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ