Bartaman Logo
৬ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গ্রামীণ হুগলিতে সাফাইয়ের কাজে সমস্যা, বর্ষার মরশুমে ডেঙ্গুর প্রকোপের আশঙ্কা

পঞ্চায়েতে নানা ডামাডোলের জেরে কাজে নজরদারি প্রায় লাটে উঠেছে। ফলে সাফাই থেকে নিকাশি পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

গ্রামীণ হুগলিতে সাফাইয়ের কাজে সমস্যা, বর্ষার মরশুমে ডেঙ্গুর প্রকোপের আশঙ্কা
  • ৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পঞ্চায়েতে নানা ডামাডোলের জেরে কাজে নজরদারি প্রায় লাটে উঠেছে। ফলে সাফাই থেকে নিকাশি পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এছাড়া বর্ষা মরশুমে ডেঙ্গু বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, পঞ্চায়েতে ডামাডোলের জেরে সাফাইকর্মী সহ অন্যান্য কর্মীদের কাজে নজরদারি কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পঞ্চায়েতের কর্মিসংখ্যা কম হওয়া, অন্যান্য কাজে তাঁদের বেশি করে ব্যবহার করার ভূমিকাও ওই ঘটনার পিছনে আছে। সব মিলিয়ে সাফাই নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠছে। নাগরিকদের একাংশের আশঙ্কা, বর্ষায় জল জমার সম্ভাবনা তাতে বেড়ে গিয়েছে। ফলে গ্রামীণ এলাকায় এবারে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়াতে পারে।

Advertisement

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, পঞ্চায়েতের পাশাপাশি ডামাডোল চলছে পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদেও। ফলে উপরতলার নজরদারিতেও ভাটা পড়েছে। যদিও সমস্যার কথা মানতে নারাজ হুগলি জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়া। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে জেলায় পালন করা হয়। গ্রামীণ এলাকায় কোনও সমস্যা যাতে না হয়, সেদিকে আমরা নজর রাখছি। জেলা পরিষদেরই এক জনপ্রতিনিধি বলেন, পরিষদের স্থায়ী সমিতি ওই বিষয়গুলিতে নজরদারি করে। কিন্তু অর্থ স্থায়ী সমিতি থেকে শুরু করে কোনও স্থায়ী সমিতির বৈঠক সাম্প্রতিক সময়ে হয়নি। ফলে গ্রামীণ বাসিন্দাদের উদ্বেগ অমূলক নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হুগলির একটি পঞ্চায়েত প্রধান আরও বড় সমস্যা সামনে এনেছেন। তিনি বলেন, আমি নিয়মিত পঞ্চায়েতে যাই। কিন্তু কর্মিমহলের উপরে যে নিয়ন্ত্রণ আমাদের ছিল, নানা কারণে সেটাই ক্ষীণ হয়ে গিয়েছে। ফলে, সাফাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলার জায়গা থাকলেও তা করা যাচ্ছে না। চুঁচুড়া শহর লাগোয়া এক পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ভাতা নিয়ে সরকারি পদক্ষেপের জেরে সাফাই কর্মীরা কাজ ছেড়ে দিয়েছিলেন। পরে কয়েকজনকে ফেরানো সম্ভব হয়েছে। বিজেপি’র হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, এসব তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েতগুলির ষড়যন্ত্র। সরকারকে বিপাকে ফেলতে সমস্যা তৈরি করা হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি নিয়ে অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না।
এমন আকচাআকচির ফলে বাস্তবে যে কোনো কাজ হচ্ছে না, সেটাই বড় সত্য। গ্রামীণ বাসিন্দাদের বড় অংশের দাবি, গত তিন মাসে একবারও লার্ভা প্রতিরোধী ওষুধ ছড়ানো হয়নি। সাফাই নিয়েও সমস্যা চলছে। পঞ্চায়েতে গিয়ে অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয়নি। কারণ, সেখানে শোনার লোক নেই। এই অবস্থায় সাফাই সঙ্কট এবং তা থেকে ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ে বর্ষা মরশুমে উদ্বেগের মেঘ জমছে।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ