Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বালুরঘাট ভূমিদপ্তরে ‘চালান দুর্নীতি’, আগামী সপ্তাহে তদন্তে আসছে বিশেষ টিম

তলায় তলায় জল অনেক দূর গড়িয়েছে। তদন্তের গতিপ্রকৃতি যেদিকে এগচ্ছে, তাতে স্পষ্ট রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতির শিকড় ছড়িয়ে গেলেও কারও কোনও হেলদোল ছিল না।

বালুরঘাট ভূমিদপ্তরে ‘চালান দুর্নীতি’, আগামী সপ্তাহে তদন্তে আসছে বিশেষ টিম
  • ১৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সোমেন পাল  গঙ্গারামপুর

Advertisement

তলায় তলায় জল অনেক দূর গড়িয়েছে। তদন্তের গতিপ্রকৃতি যেদিকে এগচ্ছে, তাতে স্পষ্ট রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতির শিকড় ছড়িয়ে গেলেও কারও কোনও হেলদোল ছিল না। কলকাতা থেকে যদি ইন্টারনাল অডিট টিম না আসত, আদৌ কি দ্রুত ধরা পড়ত বালুরঘাট বিএলআরও অফিসে সম্ভাব্য কোটি টাকার চালান দুর্নীতি!
দপ্তর সূত্রে খবর, কিছুদিন আগে কলকাতার একটি টিম এসেছিল রুটিন অডিটের জন্য। তাঁরাই প্রথম গরমিলের বিষয়টি লক্ষ্য করেন। এই চক্র কতদূর জাল বিছিয়েছে, তার তদন্ত করতে আগামী সপ্তাহে অর্থ দপ্তর থেকে আসছে বিশেষ টিম। এতে স্পষ্ট হয়েছে, রাজ্য এই দুর্নীতির শিকড় পর্যন্ত গিয়ে প্রতারকদের কঠোর শাস্তি দিতে মরিয়া। সেক্ষেত্রে কাদের নাম উঠে আসে, তা জানতে উদগ্রীব জনতা।
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে,জমির কনভার্সন রয়্যালটি ও বিভিন্ন জরিমানার অর্থই বেশি আত্মসাত্ করা হয়েছে। উপভোক্তাদের রাজস্ব চালান জমার পর তার কপি অফিসে জমা করার কথা। কিন্তু বালুরঘাট ভূমি সংস্কার দপ্তরে জমা হওয়া অধিকাংশ চালানে অর্থের পরিমাণ এডিট করা। দেখা গিয়েছে, যত রাজস্ব জমা হওয়ার কথা, তার সিকিভাগও সরকারের কোষাগারে যায়নি।  
দপ্তর  সূত্রে খবর, ইন্টারনাল অডিট টিম গরমিলের বিষয়টি ধরার পরই জেলা ভূমি সংস্কার দপ্তরকে জানায়। প্রায় এক সপ্তাহ ভূমি দপ্তর তদন্ত করলেও প্রতারকদের চিহ্নিত করতে পারেনি। ব্লক ভূমি দপ্তরে জমা হওয়া চালান মিলিয়ে দেখার জন্য দায়িত্ব দেওয়া থাকে একজনকে। তিনি কি দিনের পর দিন যথাযথ দায়িত্ব পালন করেননি? উঠছে সেই প্রশ্নও। কারণ, অনলাইনে চালানের জিআরএন নম্বর দিলেই পুরো তথ্য পাওয়া যায়। তবুও কেন সেসব করা হয়নি, তা নিয়ে সন্দেহ জেরালো হচ্ছে। 
বালুরঘাট ভূমি দপ্তরের আধিকারিক রণেন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, এবিষয়ে কিছু বলা যাবে না। অফিসে এসে তথ্য নিতে হবে। 
এদিকে সূত্রের খবর,এই চক্রে বি এল আরও অফিসের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি এবং আমিন, মুহুরিদের একাংশ জড়িত থাকতে পারে। কেউ কেউ লিঙ্কম্যানের কাজ করত। এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ বলছেন, ওই লিঙ্কম্যানরা সম্প্রতি অনেক সম্পত্তি করে এখন বিলাসবহুল জীবনযাপন করতে শুরু করেছেন। দুর্নীতিতে জড়িয়ে যাওয়ার পরই হয়তো তাদের জীবনযাত্রায় এই আমূল বদল এসেছে। এখন জেলা প্রশাসন কীভাবে এই দুর্নীতির পর্দাফাঁস করে ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকে তাকিয়ে জেলাবাসী। 
শুধুই কি চালান দুর্নীতি, নাকি মিউটেশনের নামেও দুর্নীতি করা হয়েছে, তার তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে। তদন্তের গতিপ্রকৃতির বিষয়ে জানতে অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি) হারিস রশিদকে ফোন ও মেসেজ করা হলেও তিনি কোনও  মন্তব্য করতে চাননি। 
বালুরঘাটের এসডিএলআরও ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন, সরকারি নিয়ম মেনেই বালুরঘাটের দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ