Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তৃণমূলের কিছু কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে গুন্ডামির অভিযোগ চেয়ারপার্সনের

কাজের হিসাব জানতে গিয়ে ‘গুন্ডামি’ করার অভিযোগ উঠল কৃষ্ণনগর পুরসভার তৃণমূলের কাউন্সিলারদের একাংশের বিরুদ্ধে

তৃণমূলের কিছু কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে গুন্ডামির অভিযোগ চেয়ারপার্সনের
  • ১৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কাজের হিসাব জানতে গিয়ে ‘গুন্ডামি’ করার অভিযোগ উঠল কৃষ্ণনগর পুরসভার তৃণমূলের কাউন্সিলারদের একাংশের বিরুদ্ধে। পুরসভার পূর্তদপ্তরের এক ইঞ্জিনিয়ারকে মারধর ও হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ।‌ শনিবার কৃষ্ণনগর পুরসভার অফিস ঘরের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে। পুরসভার একজন সরকারি কর্মচারীর সঙ্গে কাউন্সিলারদের এই আচরণ নিয়ে ক্ষুব্ধ অনেকেই। কোতোয়ালি থানার পুলিস গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। কাউন্সিলারদের এই আচরণ পুরসভার কর্মচারীদের মধ্যেও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও এনিয়ে উভয়পক্ষের তরফ থেকেই কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। 

Advertisement

কৃষ্ণনগর পুরসভার চেয়ারপার্সন রীতা দাস বলেন, পুরসভার কোনও কর্মচারীর গায়ে হাত ওঠা মানে আমার উপর হাত ওঠা। দীর্ঘদিন ধরে কিছু কাউন্সিলার পুরসভায় অরাজকতা তৈরি করেছেন। কৃষ্ণনগর পুরসভার যে খ্যাতি ছিল, তা তাঁরা ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন। যদি কাজে কোথাও ভুল হয়ে থাকে, তার জন্য অডিট হয়েছে। তারপরেও সন্দেহ থাকলে তাঁরা লিখিত অভিযোগ জমা দিন, আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাব। ‌তা বলে কোনও কর্মচারীর গায়ে হাত দেওয়া শোভনীয় নয়। এটা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কিছু কাউন্সিলরদের জন্য আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। পুরসভায় কিছু কাউন্সিলার গুন্ডামি চালাচ্ছেন।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১১ জুন পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে চেয়ারপার্সনের বিরোধী গোষ্ঠীর কাউন্সিলাররা কিছু কাজের হিসাব নিকাশ চেয়েছিলেন। পুরসভা তার সরকারি কাজে কত পরিমাণ বিটুমিনাস ব্যবহার করেছে, তা জানতে চান কাউন্সিলাররা। তাঁদের হাতে সেই হিসেবে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পুর কর্তৃপক্ষ।‌ এরই‌ মধ্যে শনিবার কৃষ্ণনগর পুরসভার পূর্তদপ্তরে হানা দেন চেয়ারপার্সনের বিরোধী গোষ্ঠীর কাউন্সিলাররা। সেখানে ১২  নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার প্রদীপ দত্ত, ১৩ নম্বরের শিশির কর্মকার, ১৬ নম্বরের সুমিত ঘোষ, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সৌগত কৃষ্ণদেব, ২৪ নম্বরের প্রকাশ দাস এবং ২৫ নম্বরের পলাশ দাস ছিলেন। ‌সেখানে সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সুজিত মন্ডলের ওপর চড়াও হন চেয়ারপার্সনের বিরোধী গোষ্ঠীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের কাউন্সিলার। ইঞ্জিনিয়ারের কলার ধরে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। 
এ ব্যাপারে সুজিতবাবু বলেন, আমরা সকাল থেকে বিটুমিনাস ও পেপার ব্লকের রাস্তার হিসেবে নিকেশের কাজ করছিলাম। সেটাই ওঁরা চাইতে এসেছিলেন। আমরা ওঁদের জানিয়েছিলাম যে, হিসাব করা হচ্ছে। পেপার ব্লকের রাস্তা তৈরির প্রতিটা ওয়ার্ডের হিসাব দিয়েছিলাম। সেখানে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে পেপার ব্লকের রাস্তার কাজের এসটিমেটেড অ্যামাউন্ট দিয়েছিলাম। কিন্তু সেই কাজটা ৬০ শতাংশ টাকার মধ্যেই হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ওঁর ব্লকে কেন টাকার অ্যামাউন্ট বেশি দেখানো হয়েছে, তার জন্য আমার কলার ধরে চড় ও ঘুসি মারে। তখন দপ্তরের বাকি কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন। এই নিয়ে আমি কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ জানিয়েছি। 
এনিয়ে অভিযুক্ত কাউন্সিলার সুমিত ঘোষ বলেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে ভিত্তিহীন। আমার ওয়ার্ডের কিছু কাজে অসঙ্গতি দেখা গিয়েছে। বিগত পাঁচ দিন ধরে এটা নিয়ে আমি ওঁদের কাছে যাচ্ছিলাম। আমার ওয়ার্ডে ১৫ লক্ষ ৫৮ হাজার টাকার পেপার ব্লকের কাজ হয়েছে। কিন্তু সেই কাজে খরচ হয়েছে ৮ লক্ষ ১২ হাজার টাকা। ‌ এছাড়া বিভিন্ন কাজের হিসাব জানতে চাইতে গেলে, সুজিতবাবু আমাকে ধাক্কা মারেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ