নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: পুরসভার জমিতে পিপিপি মডেলে তৈরি আবাসনে ফ্ল্যাট কিনতে চেয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন চেয়ারম্যান নবেন্দু মাহালি।
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: পুরসভার জমিতে পিপিপি মডেলে তৈরি আবাসনে ফ্ল্যাট কিনতে চেয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন চেয়ারম্যান নবেন্দু মাহালি।
সোমবার পুরুলিয়া পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে তা নিয়ে শোরগোল পড়ে গেল। বোর্ড মিটিং চলাকালীন চেয়ারম্যান নবেন্দু মাহালির ভূমিকায় দলেরই কাউন্সিলারদের একাংশ প্রশ্ন তুললেন। সরব বিরোধী শিবিরও। অভিযোগ, স্ত্রীর মাধ্যমে আবেদন করিয়ে পুরসভার গেস্ট হাউজ হিসেবে চিহ্নিত ফ্ল্যাট কিনতে চাইছেন খোদ চেয়ারম্যান। ঘটনায় একাধিক শাসক কাউন্সিলার এদিন মিটিং চলাকালীন বিরোধিতার সুর চড়ান। চেয়ারম্যানের সাফাই, ওই ফ্ল্যাটের মিউটেশন এখনও হয়নি। এমনকী সেটি গেস্ট হাউজ হিসেবেও চিহ্নিত নয়। সেক্ষেত্রে ওই ফ্ল্যাট কেনাবেচার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। এনিয়ে চেয়ারম্যানকে দলেরই কাউন্সিলাদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক বছর আগে ১০ নম্বর ওয়ার্ডে পিপিপি মডেলে পুরসভার নিজস্ব জমিতে বহুতল আবাসন গড়ে উঠেছিল। সে সময়ে চুক্তি অনুসারে পুরসভা ১০টি ফ্ল্যাট পেয়েছিল। বোর্ড মিটিংয়ে আলোচনা সাপেক্ষে একে একে ন’টি ফ্ল্যাট বিক্রি করা হয়। অবশিষ্ট থাকে একটি ফ্ল্যাট। ২০২২ সালে বোর্ড মিটিংয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন শেষে খোদ চেয়ারম্যান ওই ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকছেন। কাউন্সিলাদের একাংশের দাবি, সে সময়ে ভাড়া নিয়ে আলোচনাও হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে রেজুলেশনে তার কোনও প্রতিফলন দেখা যায়নি। যা নিয়ে বিতর্কও দানা বাঁধে। যদিও শেষ পর্যন্ত এদিনের বোর্ড মিটিংয়ে ওই ফ্ল্যাটের ভাড়া চূড়ান্ত হয়। পুরসভার চেয়ারম্যানের দাবি, পূর্বের বোর্ড মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে যে কোনও কাউন্সিলার আবেদনের ভিত্তিতে ওই আবাসনের ফ্ল্যাট কিনতে পারবেন৷ ইতিমধ্যে একজন কাউন্সিলার সেখানে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন।
পুরসভার ভাইস চেয়ারপার্সন ময়ূরী নন্দী বলেন, বিশেষ কারণে এদিন মিটিংয়ে যেতে পারিনি। তবে, কাউন্সিলারদের একাংশ আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন। এদিনের বৈঠকে যে ওই বিষয়ে আলোচনা হবে তা আমাদের জানা ছিল না। আচমকাই চেয়ারম্যান প্রস্তাব উত্থাপন করেন। আমরা চাই ওই ফ্ল্যাটটি গেস্ট হাউজ হিসেবেই থাকুক। কারণ, এতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে।
চেয়ারম্যান বলেন, বোর্ড মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই আমি ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে থাকছি। যদিও এতদিন পুরসভার তরফে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়নি। এদিন ফ্ল্যাট কেনার প্রসঙ্গ উঠতেই ভাড়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পরবর্তীতে বোর্ড মিটিংয়ে ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে। সেইসঙ্গে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে আবেদনকারী অর্থাৎ আমার স্ত্রী ওই ফ্ল্যাট কিনতে পারবেন। সবটাই নিয়ম মেনেই হচ্ছে।
পুরসভার বিরোধী দলনেতা প্রদীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, চেয়ারম্যানের এই সিদ্ধান্তের আমরা বিরোধিতা করছি। আর তৃণমূলের কাউন্সিলারদের মধ্যে কোনও মিল নেই৷ চেয়ারম্যান ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহী। কিন্তু দলের কাউন্সিলাররাই বিরোধিতা করছেন। এখন চেয়ারম্যান ব্যাপার উনি কীভাবে ফ্ল্যাট কেনেন।