সংবাদদাতা, বালুরঘাট: সপ্তাহখানেক পর বালুরঘাট শহরে ফিরলেন পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক মিত্র। রবিবার জেলায় ফিরে সোজা যোগ দিলেন দলীয় কর্মসূচিতে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল কংগ্রেস কমিটিতে শনিবার আবার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন অশোক। কাজেই ঘরে বসে না থেকে দলীয় কর্মসূচিতে মাঠে নেমে পড়লেন তিনি। চেয়ারম্যানের পদ নিয়েও আত্মবিশ্বাসী অশোক। ইস্তফার ব্যাপারে এখনই কিছু ভাবছেন না বলে দাবি করেছেন। অশোক এদিনও বলেছেন, আমি দলের অনুগত সৈনিক। দল যা নির্দেশ দেবে, তাই করব।
রবিবার রাজ্যের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকে চেয়ারম্যান সহ তাঁর অনুগামীরা পুরসভা থেকে যোগ দেন। টাউন সভাপতি সুভাষ চাকী ও চেয়ারম্যান অশোককে পাশাপাশি আসনে বসে থাকতে দেখা যায়। তবে বিদ্রোহী ১৫ জন কাউন্সিলারের সঙ্গে চেয়ারম্যানের মুখ দেখাদেখি হয়নি। তাঁরা পুরসভার বাইরে থেকে অভিষেকের বৈঠকে যোগ দেন।
অশোককে চেয়ার থেকে সরাতে তৃণমূলের সিংহভাগ কাউন্সিলার অনাস্থা প্রস্তাব আনায় কয়েকদিন ধরে বালুরঘাট পুরসভায় ডামাডোল পরিস্থিতি। একসপ্তাহ ধরে পুরসভায় নানা কাজকর্ম থমকে রয়েছে বলে অভিযোগ।
পুরসভায় এই অচলাবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বামেরা। তবে অনাস্থা ইস্যুতে কার্যত চুপ বিজেপি। বালুরঘাট পুরসভায় ২৫ জন কাউন্সিলার। তারমধ্যে দুজন বামেদের। পুরসভায় দলের কোনও কাউন্সিলার না থাকলেও গত লোকসভা ভোটে শহরে লিড পায় বিজেপি। পুরসভার অচলাবস্থা নিয়ে সরাসরি ময়দানে নামছে বামেরা। আগামী ৩০ ডিসেম্বর এসডিও অফিস অভিযান করবে বাম নেতৃত্ব। আরএসপির জেলা কার্যকরী কমিটির সদস্য প্রলয় ঘোষ বলেন, এই অনাস্থার জেরে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার। মানুষ পরিষেবা পাচ্ছেন না। এদিকে, তৃণমূল কাউন্সিলারদের নাটক শেষ হচ্ছে না। আমরা চাই দ্রুত এই অচলাবস্থা কেটে যাক। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বাপি সরকারের বক্তব্য, আমাদের যেহেতু কোনও কাউন্সিলার নেই, তাই আমরা সরাসরি কিছু করছি না। তবে আমরাও চাই, পুরসভার এই অচলাবস্থা দ্রুত কেটে যাক।