সংবাদদাতা, মানিকচক: গ্রাম পঞ্চায়েতের নিজস্ব তহবিল বাড়াতে কোপ সাধারণ মানুষের উপর। ওয়ারিশন ও জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র, দোকান ঘর ভাড়া সহ বিভিন্ন খাতে নেওয়া হচ্ছে টাকা। পাঁচ-দশ টাকা নয়, নেওয়া হচ্ছে একশো টাকা। এমনটাই অভিযোগ ভূতনির দক্ষিণ চণ্ডীপুর পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে।
এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত এলাকাবাসী। যদিও প্রশাসনিক নিয়ম মেনে টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি পঞ্চায়েত প্রধান শক্তি মণ্ডলের। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন মানিকচকের বিডিও অনুপ চক্রবর্তী।
গত মঙ্গলবার পঞ্চায়েতের একটি ১০০ টাকা আদায়ের রসিদ ঘিরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে। রসিদে উল্লেখ রয়েছে, গ্রাম পঞ্চায়েতের উন্নতির জন্য ওই টাকা নেওয়া হচ্ছে। জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র ও দোকান ঘর ভাড়া দেওয়ার জন্যও টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, আগে এই ধরনের কোনও টাকা নিত না পঞ্চায়েত। সাত মাস ধরে এই টাকা আদায় করা হচ্ছে। না দিলে শংসাপত্র আটকে রাখা হচ্ছে। গৌরাঙ্গ মণ্ডল, নাসিম আলির বক্তব্য, আগে ওয়ারিশন সার্টিফিকেটের জন্য কোনও টাকা নেওয়া হত না। এখন ১০০ টাকা দিতে হয়। পঞ্চায়েতের নিজস্ব তহবিল বাড়াতে সাধারণ মানুষের টাকা লুট করা হচ্ছে। প্রতিদিন বহু মানুষ টাকার বিনিময়ে ওয়ারিশন সার্টিফিকেট, জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র সংগ্রহ করেন। এভাবে টাকা নেওয়া একেবারে অন্যায়। কোথায় সেই টাকা খরচ হয়, আমরা সেটা জানতে চাই। পঞ্চায়েত প্রধান শক্তি মণ্ডল বলেন, ট্রেড লাইসেন্স বাবদ প্রথমে যে টাকা পাওয়া যেত, তা পঞ্চায়েতের নিজস্ব তহবিলে থাকত। কিন্তু বর্তমানে ট্রেড লাইসেন্স অনলাইনে হওয়ায় সেই টাকা সরাসরি রাজ্য সরকারের কাছে পৌঁছয়। পঞ্চায়েতের নিজস্ব তহবিলে কোনও টাকা থাকে না। তাই গ্রাম পঞ্চায়েতের তহবিল বাড়াতে সমস্ত সদস্যের অনুমোদনে রেজোলিউলেশন করে এই টাকা আদায়ের সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পঞ্চায়েতেই এভাবে টাকা নেওয়া হয়।