Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

পরমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিদেশিদের হাতে তুলে দিচ্ছে কেন্দ্র, লোকসভায় বিল পাশ

পাশ হয়ে গেল শান্তি বিল। সাসটেনেবল হার্নেসিং অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব নিউক্লিয়ার এনার্জি ফর ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়া বিল, ২০২৫।

পরমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিদেশিদের হাতে  তুলে দিচ্ছে কেন্দ্র, লোকসভায় বিল পাশ
  • ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: পাশ হয়ে গেল শান্তি বিল। সাসটেনেবল হার্নেসিং অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব নিউক্লিয়ার এনার্জি ফর ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়া বিল, ২০২৫। এই বিলকেই সংক্ষেপে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে শান্তি বিল। বুধবার লোকসভায় এই বিল পাশ হয়েছে। যদিও সম্মিলিতভাবে বিরোধীদের দাবি ছিল এই বিলকে এত তাড়াহুড়ো করে পাশ না করিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হোক। আরও যাচাই করে ভাবনাচিন্তা করে তবেই এই আইন চালু করা উচিত। কংগ্রেস, তৃণমূল, এনসিপি, সমাজবাদী পার্টি সহ তাবৎ বিরোধী দল সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, যেভাবে সরকার ভারতের পরামাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষেত্রকে অবাধে দেশি-বিদেশি সংস্থার জন্য খুলে দিতে মরিয়া, সাবধানতা না নিলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। বিরোধীদের অভিযোগ, পরমাণু উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে দুর্ঘটনা সংক্রান্ত দায়বদ্ধতার ব্যবস্থা যথেষ্ট কঠোর নয়। বরং শিথিল। যারা বেসরকারি সংস্থা ও পরমাণু উপকরণ সরবরবাহকারী, বিলে তাদের প্রতি যথেষ্ট দায়বদ্ধতা রাখা হয়নি। এমনকি বড়সড় ছাড় দেওয়া হয়েছে। ভারতে ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনায় শয়ে শয়ে ভারতীয়ের মৃত্যু হয়েছিল এবং বিদেশি সংস্থা ইউনিয়ন র্কাবাইড কোনও বড়সড় সঙ্কটেও পড়েনি। কর্তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। নামমাত্র ক্ষতিপূরণও সকলে পায়নি। অথচ এরকম এক উদাহরণ থাকা সত্ত্বেও ভারতের রাজ্যে রাজ্যে যাতে অবাধে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন হতে পারে, সেই লক্ষ নেওয়া হয়েছে।

Advertisement


কংগ্রেস এমপি মণীশ তিওয়ারি বলেন, আমি এই বিলে একটিও অংশ পাইনি, যেখানে পরমাণু উপকরণ যারা সরবরাহ করবে, দুর্ঘটনা হলে তাদের কোনও দায় নিতে হবে। এনসিপি এমপি সুপ্রিয়া সুলে বলেছেন, সবথেকে আশ্চর্য হল, দুর্ঘটনা হলে কেন্দ্রীয় সরকার ছাড়া কেউ অভিযোগ দায়ের করতে পারবে না। এমনকি রাজ্য সরকারও না। শশী থারুর বলেছেন দায়বদ্ধতাকে সম্পূর্ণ সরিয়ে দিয়ে এভাবে কার স্বার্থ পূরণ করা হবে? যদিও আণবিক জ্বালানি দপ্তরের মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেছেন, পরমাণু বিদ্যুৎ চালিত  বিদ্যুৎ সেক্টর স্থাপনের প্রধান লক্ষ্য হল জিরো এমিশন। অর্থাৎ দূষণ মুক্ত ব্যবস্থা স্থাপন করা। আধুনিকতম বিদ্যুৎ উৎপাদন হল পরমাণু বিদ্যুৎ। ২০২৭ সালের মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা হবে। বিরোধীদের অভিযোগ সঠিক নয়। অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্টের বিশেষ কিছুই বদলায়নি। কমবেশি কিছু সংশোধন ছাড়া একই রয়েছে। তাই আমরা কোনও নতুন জিনিস চাপিয়ে দিচ্ছি না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ