সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়া মহকুমাজুড়ে জল জীবন মিশন প্রকল্পে পানীয় জলের পাইপলাইন বসানো হয়েছে। বহু জায়গায় জল সরবরাহ শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে অনেক জায়গায় কাজের গতি শ্লথ হয়ে গিয়েছে। কোথাও রির্জাভার তৈরির কাজ অর্ধেক হয়ে বন্ধ রয়েছে, আবার কোথাও পাইপলাইন বসানোর কাজ অর্ধেকটা হয়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার টাকা না দেওয়ায় কাটোয়া মহকুমাজুড়ে জলজীবন মিশনের কাজ বন্ধ করে দিচ্ছেন বহু ঠিকাদার। কোটি কোটি টাকার বিল বকেয়া রয়েছে।
পূর্ব বর্ধমান জেলার পিএইচইর এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার গোপেন পাল বলেন, জলজীবন মিশন প্রকল্পের কাজে অর্ধেক করে শেয়ার রয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের। প্রথমদিকে রাজ্য সরকার যা টাকা দিয়েছিল সেইমতো কাজ হয়েছে। কিন্তু এখন কেন্দ্রীয় সরকার টাকা না দেওয়ায় কাজের গতি শ্লথ হয়ে গিয়েছে। জেলায় ২৫০কোটি টাকা ঠিকাদারদের বিল বকেয়া রয়েছে। আমরা রাজ্যস্তরে বিষয়টি জানিয়েছি।
পূর্ব বর্ধমান জেলায় দু’হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এখনও পর্যন্ত ১৬০০-র কাছাকাছি গ্রামে পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার অনেক আগেই কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পূর্ব বর্ধমান জেলাজুড়ে ২২০০টি গ্রাম রয়েছে। এখনও প্রায় ৬০০টি গ্রামে পানীয় জল পৌঁছতে বাকি রয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে টাকা দেওয়ার কথা ছিল। ২০২৮সাল পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার টাকা না দেওয়ায় বহু ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। তাই গ্রামে গ্রামে পানীয় জল পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটছে। জেলায় নতুন করে ২৬০টি রিজার্ভার তৈরি করা হয়েছে। কাটোয়া মহকুমাজুড়েও জলপ্রকল্প তৈরি করা হয়েছে।
পিএইচই সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া মহকুমার মঙ্গলকোটের নিগন, বনকাপাশি এলাকায় রিজার্ভার অর্ধেক তৈরি করে ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। কাটোয়া-১ ব্লকে পাঁচটি, কাটোয়া-২ ব্লকে তিনটি, কেতুগ্রাম-১ ব্লকে দু’টি, কেতুগ্রাম-২ ব্লকে একটি ও মঙ্গলকোটে দু’টি জায়গায় কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন ঠিকাদাররা। কাটোয়া মহকুমায় ১৫জন ঠিকাদারের প্রায় ৭০কোটি টাকার বিল বকেয়া রয়েছে। পিএইচইর এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ঠিকাদাররা ঠিকমতো বকেয়া বিলের টাকা না পেলে তাঁরাই বা কাজ করবেন কীভাবে? এতদিনে জল জীবন মিশনের কাজ শেষ হয়ে যেত। কেন্দ্রীয় সরকার টাকা না দেওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পুজোর আগেও জেলার সব গ্রামে জল পরিষেবা ঠিকমতো দিতে পারব কিনা চিন্তায় রয়েছি। কেতুগ্রামের বিধায়ক শেখ শাহনেওয়াজ বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রাজ্যের বিপুল টাকা পাওনা হয়ে রয়েছে। ওরা বাংলাকে বঞ্চনা করছে। তাই এখন পিএইচইর কাজ বন্ধ করে দিচ্ছেন বহু ঠিকাদার। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার কাজেও টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা জরুরি ভিত্তিতে বিধায়ক তহবিল থেকে গ্রামে রাস্তা তৈরি করে দিচ্ছি। নিজস্ব চিত্র