Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কানাকড়িও দেয়নি কেন্দ্র: মুখ্যমন্ত্রী, বিপর্যয় নিয়ে মোদি সরকারকে তোপ

একের পর এক বিপর্যয়। পাহাড়ে ধস, সমতলে বন্যা, নদী ভাঙন। সাইক্লোন। চারবছরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা!

কানাকড়িও দেয়নি কেন্দ্র: মুখ্যমন্ত্রী, বিপর্যয় নিয়ে মোদি সরকারকে তোপ
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: একের পর এক বিপর্যয়। পাহাড়ে ধস, সমতলে বন্যা, নদী ভাঙন। সাইক্লোন। চারবছরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা! বছর বছর কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দরবার করেও লাভ হয়নি। এবারের বিপর্যয়েও দার্জিলিংয়ের জন্য কানাকড়ি দেয়নি। সোমবার উত্তরকন্যায় সংবাদিক সম্মেলনে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিপর্যয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রের এক মন্ত্রীকে তিনি ‘মিরজাফর’, ‘হরিদাস’ বলেও কটাক্ষ করেন। সেইসঙ্গে মমতা বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গৃহ পুনর্নির্মাণ, বিধ্বস্ত জমি চাষযোগ্য করা, কৃষকদের সহায়তা ও পাট্টা প্রদান কর্মসূচির সূচনা করেন। 

Advertisement

উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ লোকসভা ও বিধানসভা আসন পদ্ম শিবিরের দখলে। তারপরেও ৪ অক্টোবরের বিপর্যয়ে কোনও প্যাকেজ ঘোষণা করেনি কেন্দ্র। এনিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর পদ্ম শিবিরের নেতাদের একাংশ চাউর করেছিলেন, ওই দুর্যোগকে রাজ্য এখনও বিপর্যয় ঘোষণা করেনি। অর্থও চায়নি। তাই কেন্দ্র প্যাকেজ ঘোষণা করেনি। এনিয়ে এদিন সুরসপ্তমে তোলেন মমতা। 
মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, ওদের একটা মালপোয়া আছে। ভোট আসলেই কলা, মুলো, লাউ, ডাঁটাশাখ নিয়ে, পাউডার-লিপস্টিক মেখে প্রতিদিন মিথ্যা কথা বলছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অসত্য প্রচার করছে। দার্জিলিংয়ের এতবড় বিপর্যয়ের জন্য এক পয়সাও দেয়নি। তাই এবার আর ওদের কাছে সহযোগিতা চাইনি। সবটা আমরাই করছি। 
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মমতা বলেন, কখন ঝড়, বন্যা, ধস, আবার কখন নদী ভাঙন হবে কেউ বলতে পারে না। অগ্নিকাণ্ডও বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। সাময়িকভাবে পূর্ত সহ বিভিন্ন দপ্তরের সহযোগিতায় বিপর্যয় পরবর্তী পরিস্থিতির মোকাবিলা করা হয়। কাজেই বিপর্যয়ের টাকা বিপর্যেই খরচ হয়। হরিদাসরা কি অফিসার নাকি! এখন ভোট আসছে বলে ডানা মেলছেন। তাঁর কটাক্ষ, ময়ূরের পাখা গুঁজে কাক কখনও ময়ূর হতে পারে না। কাক-ই থাকে। 
ইতিমধ্যে বিপর্যয়ে মৃতদের পরিবারের সদস্যদের ৫ লক্ষ টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। পরিবারের এক সদস্যকে চাকরিও দেওয়া হয়েছে। এবার বাড়ি পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ১৪,৭৯৪টি বাড়ির জন্য ১৬১ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ১ লক্ষ ৩১ হাজার কৃষককে ফসল ও সবজির বীজ, সরঞ্জাম বিলি করা হয়েছে। দার্জিলিং, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারের ৮০৭ জন কৃষকের জমি চাষযোগ্য করতে ৪৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ