নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: তিরুবনন্তপুরম পুরসভা বামেদের থেকে প্রথমবার ছিনিয়ে নেওয়ার পরই কেরল দখলের স্বপ্ন বুনছে বিজেপি। ধর্মের জলে দক্ষিণ ভারতে অন্তত চিঁড়ে ভিজবে না, সেটা বুঝে তাই নামের রাজনীতিতে পা রেখেছে গেরুয়া শিবির। ভোটমুখী কেরলে ভূমিপুত্র মালয়ালিদের ‘ভাবাবেগ’কে ইভিএম পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার মরিয়া চেষ্টায় তাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সায় দিয়ে দিল দক্ষিণের এই রাজ্যের নাম বদলে। এখন থেকে কেরল হবে ‘কেরলম’। ২০২৩ সালে প্রথমবার এবং ২০২৪ সালে দ্বিতীয়বার সিপিএম পরিচালিত কেরল সরকার রাজ্যের নাম বদলের প্রস্তাব পাঠিয়েছিল কেন্দ্রের কাছে। মঙ্গলবার পিএমও’র নয়া ঠিকানা সেবা তীর্থে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সে প্রস্তাবে সায় দিয়েছে কেন্দ্র। তাহলে কেন বঞ্চিত পশ্চিমবঙ্গ? কেন আট বছর আগে রাজ্য বিধানসভায় গৃহীত সর্বসম্মত সর্বশেষ প্রস্তাব—‘বাংলা’য় সায় দেবে না কেন্দ্র? প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে একইসঙ্গে দীর্ঘদিনের দাবি ‘কেরলম’ পূরণ হওয়ায় অভিনন্দনও জানিয়েছেন পিনারাই বিজয়নের রাজ্যের মানুষকে।
প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে নামের মিল থাকায় ‘বাংলা’ নামকরণ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল কেন্দ্র। নবান্নের তরফে পালটা যুক্তি দেওয়া হয়, যদি পাকিস্তানের পাঞ্জাব আর ভারতের পাঞ্জাব পাশাপাশি থাকতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের পাশে বাংলা নয় কেন? এরপর অবশ্য কেন্দ্রের তরফে আর কোনো উচ্চবাচ্য করা হয়নি। রাজ্যের নাম পরিবর্তনে গত ১৫ বছরে পরপর তিনবার পাঠানো প্রস্তাবের অনুমোদন এখনও বিশ বাঁও জলে!
২০১৪ সালের পর থেকে যে কোনো নির্বাচনেই বাংলাদরদী, এমনকি বাঙালি হয়ে ওঠার ‘ভেক’ ধরে পদ্মপার্টির গোটা বহিরাগত ইউনিট। দুর্বোধ্য উচ্চারণে কবিতা আওড়ানো, বাংলায় সম্বোধন, জয় মা কালী, জয় মা দুর্গা, বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি নিয়ে গর্ব অনুভব করা—আপাদমস্তক বাঙালি হয়ে ওঠার যাবতীয় চেষ্টা এবারের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও চলবে। কিন্তু বাঙালি সাজতে যাওয়ার সেই চেষ্টার মাঝে রাজ্যের নাম ‘বাংলা’ করতে আপত্তি কোথায়? সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে সে জবাব এখনও মেলেনি। ক্ষুব্ধ মমতা বলেছেন, ‘যখনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেছি, রাজ্যের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি তুলেছি। তবে আশ্চর্যজনকভাবে কিছুই হয়নি। আমার মনে হয়, তাঁরা এটি অনুমোদন করছেন না, কারণ তাঁরা বাঙালি বিরোধী। তাঁরা বাংলার মনীষী ও পথপ্রদর্শকদের অসম্মান করে। শুধুমাত্র ভোটের সময় নির্বাচনি ফায়দা লুটে বাংলা শব্দটি ব্যবহার করে। আর তাই রাজ্যের নাম পরিবর্তনে অনুমোদন দেয় না।’
রাজ্যের নাম পরিবর্তনের প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা দিয়েছেন মমতা। বলেছেন, ‘রাজ্যের নাম ডব্লু দিয়ে শুরু হওয়ায় সর্বভারতীয় পরীক্ষা বা ইন্টারভিউতে রাজ্যের পড়ুয়া, চাকরিপ্রার্থীদের নাম একদম শেষে ডাকা হয়। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে আমাকেও কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয় সবার শেষে। তাঁর কথায়, রাজ্যের সংস্কৃতির উপর ভিত্তি করে বাংলা নাম রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ওরা (কেন্দ্র) অনুমোদন দেয়নি।’ তাহলে কেরলের নাম পরিবর্তন কেন? বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘কারণ, বিজেপি এবং সিপিএমের মধ্যে একটি জোট গড়ে উঠছে। আজকের পর এই জোট আর অলিখিত রইল না!’