Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পদ্ম পঞ্চায়েতে রাস্তার ছবি তুলে ভিজিট শেষ, পিপুলবেড়িয়ায় প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রীয় টিমের ভূমিকা

বুধবারও তমলুকের বিজেপি পরিচালিত পিপুলবেড়িয়া-২গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে বসেই ভিজিট সারল ন্যাশনাল লেভেল মনিটরিং টিম।

পদ্ম পঞ্চায়েতে রাস্তার ছবি তুলে ভিজিট শেষ, পিপুলবেড়িয়ায় প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রীয় টিমের ভূমিকা
  • ২৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বুধবারও তমলুকের বিজেপি পরিচালিত পিপুলবেড়িয়া-২গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে বসেই ভিজিট সারল ন্যাশনাল লেভেল মনিটরিং টিম। সকাল ১০টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত বিজেপির সুপারিশ করা গোবিন্দপুর, আমগেছিয়া ও বহিচাড় গ্রাম থেকে উপভোক্তারা আসেন। দুপুর ২টোয় তন্দুরী রুটি, মাশরুম, পনির, আলু-পটলের তরকারি, টকদই দিয়ে লাঞ্চ সেরে প্রধানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেম্বারে বসে কিছুক্ষণ গা এলিয়ে বেলা আড়াইটা টোটোয় চড়ে গোবিন্দপুর গ্রামে একটা ঢালাই রাস্তার ফলকের ছবি তুলে নেন। তারপর দু’জন আবাস উপভোক্তার বাড়ির ফটো তুলে এদিনের মতো ভিজিট শেষ করেন।

Advertisement

কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন দপ্তর থেকে পাঠানো এই টিম তিনটি ব্লকে মোট আটটি গ্রাম পঞ্চায়েত ভিজিট করবে। প্রথম দু’দিন তমলুক ব্লকের দু’টি বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েতে পা রাখে ওই টিম। টিমের সদস্যরা উপভোক্তাদের বাড়িতে না গিয়ে তাঁদের কাছে উপভোক্তাদের হাজির করানোর নির্দেশ দিচ্ছেন। বাড়িতে টোটো পাঠিয়ে জবকার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবই, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর খাতা নিয়ে হাজির হচ্ছেন বিভিন্ন প্রকল্পের উপভোক্তারা। বুধবার পিপুলবেড়িয়া-২গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে দেখা যায়, বিজেপির লোকজন টিমের সামনে চেয়ারে সেঁটে বসে রয়েছেন। উপভোক্তারা যাতে অস্বস্তিকর প্রশ্ন তোলার সুযোগ না পান, সেই জন্য নজরদারি চলছে। সমরেশ চৌধুরী, মণ্টু বেতাল, লক্ষ্মীকান্ত প্রামাণিক সহ অন্যান্য উপভোক্তারা বঞ্চনা নিয়ে এদিন প্রশ্ন করার সুযোগ পাননি।
সাধারণত, ন্যাশনাল লেভেল মনিটরিং(এনএলএম) টিম ভিজিটে এলে গ্রামের উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে যান। কিন্তু, মঙ্গল ও বুধবার ওই টিমে উল্টো কাজ করেছে। পঞ্চায়েত অফিসে বসে উপভোক্তাদের বয়ান নথিভুক্ত করছেন। বুধবার পিপুলবেড়িয়া-২গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে দেখা যায়, বিজেপির তমলুক-৩নম্বর মণ্ডল ইন-চার্জ তথা গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য‌ ভগীরথ মান্না, দলের নেতা অভিজিৎ মাইতি, সঞ্জীব সামন্ত সহ আরও অনেকে ঝাঁক বেঁধে এনএলএম টিমের সামনে সভাকক্ষে বসে আছেন। ভিজিট উপলক্ষ্যে এলাকায় যান বিজেপির জেলা সহ সভাপতি আশিস মণ্ডলও। পঞ্চায়েত প্রধান তৃষ্ণা প্রামাণিক চোখ পাকিয়ে বলেন, ‘এখানে সংবাদ মাধ্যমকে ডাকা হয়নি। টিমের সদস্যরাও সংবাদ মাধ্যমকে কিছু জানাবেন না।’
তমলুক থেকে রাধামণি যাওয়ার সড়ক থেকে দু’কিলোমিটার দূরে পিপুলবেড়িয়া-২গ্রাম পঞ্চায়েত। এই দুই কিলোমিটার চার চাকার গাড়িও ঢোকে না। তাই টিমের সদস্যদের বাইকে বসিয়ে পঞ্চায়েত অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। তমলুক ব্লকে ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে যোগাযোগের এরকম সমস্যা অন্য কোনও গ্রাম পঞ্চায়েতে নেই। তা সত্ত্বেও বিজেপি পরিচালিত ওই গ্রাম পঞ্চায়েতকে ভিজিটের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল। সকাল থেকেই বিজেপি নেতাদের মধ্যে ভীষণ তৎপরতা ছিল। উপভোক্তাদের বেছে বেছে টোটোয় চাপিয়ে অফিসে আনা হয়। পাশাপাশি ভোজের আয়োজন ছিল। টিমের সামনে সেভাবে অস্বস্তিকর প্রশ্ন না ওঠায় বেজায় খুশি বিজেপি নেতারা। বিকেল ৫টা নাগাদ তাঁরা পরস্পরকে ভিক্ট্রি চিহ্ন দেখিয়ে ওই টিমকে বিদায় জানান।
তৃণমূল কংগ্রেসের পিপুলবেড়িয়া-২অঞ্চল সভাপতি রঙ্গলাল রাউত বলেন, ১০০ দিনের কাজ থেকে বাংলার বাড়ি, গরিব মানুষের প্রতিটি স্কিমে কেন্দ্রীয় সরকার বঞ্চনা করে চলেছে। তাই কেন্দ্রীয় টিম ভিজিটে এসে পঞ্চায়েত অফিসে বসেই ভিজিটের কাজ সেরে ফেলছেন। বিজেপি নেতা ভগীরথ মান্না বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে বসে ওই টিম উপভোক্তাদের মুখোমুখি হন। পাশাপাশি লাঞ্চের পর কয়েকটি ঢালাই রাস্তা এবং দু’জন আবাস উপভোক্তার বাড়ি ভিজিট করে ছবি তুলেছেন।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ