নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সরকারি ব্যাঙ্ক আইডিবিআইয়ের বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যাবে। সেই প্রস্তুতি তুঙ্গে। তার মধ্যেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক এলআইসি বেসরকারিকরণের সবুজ সংকেত দিয়েছে। ২০২২ সালে এলআইসির শেয়ার বিক্রি করা হয়েছিল। সেই শেয়ার বিক্রি করে ২১ হাজার কোটি আয় করে মোদি সরকার। বর্তমানে সরকারের কাছে এলআইসির ৯৬ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। এরমধ্যে ফের অন্তত ৪ শতাংশ শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
যদিও এলআইসির শেয়ার ক্রয় করেও লগ্নিকারীদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে বিগত কয়েক বছরে। কারণ ওই শেয়ার যে দামে প্রথমে কেনা হয়েছিল সেই তুলনায় প্রাথমিকভাবে কমে যায়। তারপরও অগ্রগতি নেই। ৯৩৭ টাকা দিয়ে যে শেয়ার আইপিও মারফৎ লগ্নিকারীরা ২০২২ সালে ক্রয় করেছেন, বৃহস্পতিবার সেই শেয়ারের দাম ৯২৭ টাকা গিয়েছে। এমতাবস্থায় সেই এলআইসির শেয়ার আবার বিক্রি করতে সরকার উদ্যোগী কেন? প্রত্যাশিত সাড়া এবার কি পাওয়া যাবে? এই প্রশ্ন উঠলেও অর্থমন্ত্রক ইতিমধ্যেই অনুমোদন দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই শঙ্কা দানা বাঁধছে যে, এভাবে মাঝেমধ্যেই কি এলআইসির মালিকানায় অংশিদারিত্ব কমিয়ে আনবে সরকার? দীর্ঘমেয়াদে এটাই পরিকল্পনা? দুই ফরম্যাটে বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একটি হল লাভজনক সংস্থার শেয়ার বিক্রি। দ্বিতীয় পন্থা হল, সরাসরি পূর্ণাঙ্গ বেসরকারিকরণ। এই দ্বিতীয় তালিকায় রাখা হচ্ছে দুটি ব্যাঙ্ক এবং একটি সরকারি বিমা সংস্থা আইডিবিআই ব্যাঙ্কের বেসরকারিকরণ সম্পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর বাকি দুই ব্যাঙ্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। পাশাপাশি একটি বিমা সংস্থা বিক্রি। বেসরকারিকরণের মাধ্যমে সরকার চলতি আর্থিক বছরে ৫১ হাজার কোটি টাকা আয় করতে চায়। তার মধ্যে এলআইসির শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে অন্তত ২৫ হাজার কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা। অ্যাসেট মানিটাইজেশন অর্থাৎ বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার জমিবাড়ি সম্পদ বিক্রি করা ইতিমধ্যেই চলছে। পাশাপাশি চলছে ব্যাঙ্ক ও বিমা সংস্থার বেসরকারিকরণের রূপরেখা তৈরি।