নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘দেখি আমাদের লিগ্যাল টিম কী বলে।’ কয়েকদিন আগে সংসদের অলিন্দে দাঁড়িয়ে এমনই মন্তব্য করেছিলেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। ইস্যু কী? বাংলায় ১০০ দিনের কাজ শুরু করা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ। রায়ে বলা হয়েছিল, আগস্ট মাস থেকে কাজ শুরু করতে হবে। সেই পথে না হেঁটে সময়সীমার ১৮ দিন পর আইনি পথেই গেল মোদি সরকার। বাংলায় ১০০ দিনের কাজ রুখতে হাইকোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করল কেন্দ্র।
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত জানা মাত্রই ক্ষোভে ফেটে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘১০০ দিনের কাজে বাংলাকে বঞ্চিত করছে কেন্দ্র। বকেয়া পাওনা মেটাতে হবে—এটাই আমাদের দাবি। কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেওয়ার পরও ১ আগস্ট থেকে ১০০ দিনের কাজ চালু না করে কেন্দ্র সোজা চলে গেল সুপ্রিম কোর্টে! এতেই প্রমাণ হয়, মোদি সরকারের লক্ষ্য, বাংলার মানুষকে বঞ্চিত রেখে দেওয়া। এই কারণে বিজেপিকে আমরা জনবিরোধী, বাংলা বিরোধী, গরিব বিরোধী, সংবিধান বিরোধী বলি। দেশে একনায়কতন্ত্র চলছে।’ একইসঙ্গে তিনি জানান, ‘রাজ্যের বকেয়া ইস্যুতে আমরা চুপ থাকব না। শিবরাজ সিং চৌহানের সঙ্গে দেখা করে ফের ১০০ দিনের কাজের বকেয়া মেটানোর দাবি তুলব। স্রেফ নারেগাই নয়, বিজেপি সরকার তো রাজ্যের প্রাপ্য জলজীবন মিশনের টাকাও আটকে দিয়েছে। ওই খাতে ২ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা পাবে রাজ্য।’ পাওনা মেটানোর দাবিতে সোমবার কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিলের সঙ্গে তৃণমূলের এক প্রতিনিধিদল দেখাও করেছে। মন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে চার পৃষ্ঠার এক স্মারকলিপি। জলজীবন মিশন তো বটেই, ১০০ দিনের কাজ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার মতো প্রকল্পেও যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ১ কোটি ৯৩ লক্ষ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে না, তা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। জলশক্তিমন্ত্রীর কাছে বাংলায় বন্যার প্রসঙ্গও তুলেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, শতাব্দী রায়, অসিত মাল, খলিলুর রহমান, অরূপ চক্রবর্তীর মতো তৃণমূল প্রতিনিধিরা। রাজ্যকে না জানিয়ে ডিভিসি’র জল ছাড়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সুন্দরবনের ব-দ্বীপ ইস্যুতে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে জলশক্তি মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী রাজভূষণ চৌধুরী লিখিতভাবে জানিয়েছেন, খড়্গপুর আইআইটি’কে দিয়ে সমীক্ষার কাজ করানো হয়েছে। দেখা গিয়েছে, ভাঙন এবং চর সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক এলাকাজুড়ে। নদীর স্বাভাবিক ধর্মেই এটি ঘটে। তবে কীভাবে সুন্দরবনের এই ব-দ্বীপকে রক্ষা করা যায়, তা নিয়ে মন্ত্রীর কোনও স্পষ্ট জবাব নেই।