দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: দেশের বিভিন্ন আইটিআইয়ের (ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট) মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণ করেছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। তার নাম ‘প্রধানমন্ত্রী স্কিলিং অ্যান্ড এমপ্লয়াবিলিটি থ্রু আপগ্রেডেড আইটিআই’ (পিএম সেতু)। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনক্রমেই এব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পে সাড়া নেই দেশের কোনো রাজ্যেই। বিজেপি সাংসদেরই প্রশ্নের উত্তরে খোদ একথা স্বীকার করে নিয়েছে মোদি সরকার। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মাথায় হাত পড়েছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের। প্রশ্ন উঠছে, কেন্দ্রের প্রকল্পে এমনকি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিও কি আর ভরসা রাখতে পারছে না?
দেশের বিভিন্ন আইটিআইয়ের মানোন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে লোকসভায় লিখিত প্রশ্ন করেছিলেন বিজেপি সাংসদ ই রাজেন্দর। তারই লিখিত জবাবে লোকসভায় কেন্দ্রীয় শ্রম রাষ্ট্রমন্ত্রী শোভা করন্দলাজে স্পষ্টই জানিয়েছেন যে, এখনও পর্যন্ত এব্যাপারে কোনো রাজ্য সরকার আগ্রহ প্রকাশ করেনি। সেইমতো রাজ্য সরকারগুলির কাছ থেকে কোনোরকম প্রস্তাবও আসেনি। লোকসভায় কেন্দ্রীয় শ্রম রাষ্ট্রমন্ত্রী শোভা করন্দলাজে জানিয়েছেন, এর মাধ্যমে আইটিআইগুলোর পাশাপাশি ন্যাশনাল স্কিল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (এনএসটিআই) প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিকাঠামোগত মানোন্নয়ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিল্প জগতের চাহিদা মেনেই কর্মকুশলতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত সেই মানোন্নয়ন হবে। প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদী এবং স্বল্পমেয়াদী বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে পড়ুয়াদের। সবমিলিয়ে দেশের এক হাজার আইটিআইয়ের মানোন্নয়ন হবে। অন্যদিকে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন হবে দেশের পাঁচটি এনএসটিআইয়ের। এই কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে পাঁচ বছরের জন্য। মোদি সরকারের দাবি, এই পাঁচ বছরের কর্মসূচিতে প্রায় ২০ লক্ষ যুবক যুবতীর প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে। পাঁচ বছরের জন্য এই স্কিমের অনুমোদিত বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। শ্রমমন্ত্রক জানিয়েছে যে, এর মধ্যে কেন্দ্র দেবে ৩০ হাজার কোটি টাকা। রাজ্যকে দিতে হবে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১০ হাজার কোটি টাকা দেবে সংশ্লিষ্ট ইন্ডাস্ট্রি পার্টনার। রাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব থেকেই স্পষ্ট যে, কোনো রাজ্য সরকার এব্যাপারে এখনও পর্যন্ত রাজি না হওয়ায় এহেন ‘যৌথ’ কর্মসূচি শুরু করতে পারছে না কেন্দ্রের মোদি সরকার। ফলে তৈরি হয়েছে জল্পনা।