নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: শুক্রবার দুর্গাপুর ব্যারাজ সংস্কারের কাজ পরিদর্শনেএসে কেন্দ্রের বঞ্চনা নিয়ে সরব হলেন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। তাঁর অভিযোগ, ২০১৫ সাল থেকে ব্যারাজ সংস্কারে একটা কানাকড়িও বাংলাকে দেয়নি কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার। সব খরচ করছে রাজ্য। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন,সেচদপ্তরের রাজস্ব আদায় হতো ২২ হাজার কোটি টাকা। সেটা এখন বেড়ে হয়েছে এক লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকা। সেই টাকা থেকেই ব্যারাজ সংস্কার সহ নানা কাজ করা হচ্ছে। ১৯৫৫ সালের পর এই প্রথম এতবড় সংস্কারের কাজ হল দুর্গাপুর ব্যারাজে। হায়দরাবাদ থেকে রাবার সিল আনা হচ্ছে। এক্সপেনশন জয়েন্টগুলির ঢালাই অংশে সেগুলি লাগানো হবে। মাত্র ৪৫ দিনের মাথায় ব্যারাজ সংস্কারের কাজ শেষ হয়েছে। এরজন্য নিজের দপ্তরের পাশাপাশি পুলিস ও প্রশাসনকেও ধন্যবাদ জানান মানসবাবু।
এদিন, দুর্গাপুরে মানসবাবু আগাগোড়াই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে গিয়েছেন। বঞ্চনা দিয়ে শুরু করে শেষ করেছেন একতরফাভাবে জল ছাড়ার অভিযোগ তুলে। সেচমন্ত্রী বলেন, দুর্গাপুর ব্যারাজে কেন্দ্র ড্রেজিং করলে গভীরতা ৪৩৫ ফুট হতো। ১২ বছর কেন্দ্রে ক্ষমতায় বিজেপি। তাদের বার বার বলা সত্ত্বেও ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেয়নি। ঝাড়খণ্ডের তেনুঘাটে যাতে নিয়ন্ত্রিত জল ছাড়ে, তা নিয়েও সর্তক করা হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন,ব্যারাজ সংস্কারের জন্য দেড় মাস জল ছাড়া সম্ভব হয়নি। এখন সবার সঙ্গে সমন্বয় করেই একটু একটু করে জল ছাড়া হচ্ছে। সমস্যা বাধিয়ে দিয়েছে কয়েকদিনের ব্যাপক বৃষ্টিপাত। মানসবাবুর বঞ্চনার অভিযোগ খণ্ডন করে বিজেপির রাজ্য সম্পাদক লক্ষণ ঘোড়ুই বলেন, যে সব কাজে তৃণমূল সরকার খরচের হিসেব দিতে পারেনি, সেইসব কাজে টাকা আটকে দিয়েছে কেন্দ্র। তৃণমূলের দুর্নীতি রুখতেই এই সিদ্ধান্ত। এদিকে, দুর্গাপুর ব্যারাজের পাশেই একটি বিকল্প সেতুর দাবি বেশ কয়েকবছর ধরে উঠছিল। এদিন সেচমন্ত্রীকে পাশে পেয়ে সেই দাবি আরও জোরালভাবে তুলেছেন দুর্গাপুর ও বাঁকুড়া জেলার বড়জোড়া ব্লকের বাসিন্দারা।ব্যারাজের রাস্তা অত্যন্ত সংকীর্ণ। তাতেই দিনে ২৫ থেকে ৩০ হাজার গাড়ি, লরি, বাস যাতায়াত করে। এদিন, এলাকার শিক্ষক, অধ্যাপক, চিকিৎসক থেকে ব্যবসায়ী সহ সর্বস্তরের মানুষ গণস্বাক্ষর সম্বলিত একটি স্মারকলিপি মন্ত্রীকে দেন। বড়জোড়ার বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায়প্রতিনিধি হয়ে মন্ত্রীর হাতে তা তুলে দিয়েছেন। মানসবাবু বলেন, এখানে বিকল্প একটি সেতুর দাবি সর্বস্তর থেকেই এসেছে। সঠিক জায়গায় এই নিয়ে আলোচনা করব। সেচমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে বাঁকুড়ার এমপি অরূপ চক্রবর্তীও গন্ধেশ্বরী জল প্রকল্প গড়ার বিষয়ে দরবার করেন।
দুর্গাপুর ব্যারাজ সংস্কার নিয়ে কয়েক মাস ধরে বিরাট কর্মযজ্ঞ চলার পর এখন সব মহলই খানিক স্বস্তিতে। সংস্কারের কাজ শুরুর ঠিক আগেই সেচমন্ত্রী এলাকা পরিদর্শনে এসে আশাপ্রকাশ করেছিলেন, নির্দিষ্ট সময়ে তাঁর দপ্তর কাজ সম্পন্ন করবে। সেটা হয়ে যাওয়ায় দৃশ্যত খুশি ছিলেন মানসবাবু। এদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাঁকুড়ার জেলাশাসক সিয়াদ এন, বাঁকুড়ার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি, পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক পোন্নমবলম এস, ডিসি ট্রাফিক ভিজি সতীশ পশুমূর্তি প্রমুখ।