নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: প্রতি বছরই নানা থিমে একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করে ডায়মন্ডহারবারের বিভিন্ন পুজো কমিটি। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বন্দেমাতরমের ১৫০ বছর উদযাপন থেকে বাংলা হরফ তৈরির ইতিহাস, ডোকরা শিল্পের কাহিনী প্রভৃতি থাকছে এবারের পুজোর থিমে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, থিমের পুজো হলেও একাধিক উদ্যোক্তাদের পছন্দ সাবেকি ঘরানার প্রতিমাই।
নিউটাউন সর্বজনীন দুর্গোৎসব পুজো কমিটির ৫৯ তম বর্ষের থিম সিংহনাদ। উদ্যোক্তাদের দাবি, এই শব্দের অর্থ– বীরের ধ্বনি বা রণহুংকার। বন্দেমাতরমের ১৫০ বছর উদযাপন করাই এবারের এই পুজো কমিটির মূল উদ্দেশ্য। ১০ লক্ষ টাকার মধ্যে পুজো করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ দেবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ঠিক যেভাবে ‘বন্দেমাতরম’ ভারতবাসীর মনে গভীর দাগ কেটেছে, আশা করি ঠিক সেভাবেই আমাদের মণ্ডপে আগত দর্শনার্থীরা বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনাকে অনুভব করতে পারবেন। প্যান্ডেলে আলোর চমক দর্শকদের কাছে একটা নতুন অভিজ্ঞতা হবে। থিমের সঙ্গে মানানসইভাবে এবার প্রতিমা গড়া হচ্ছে।
নতুন পোল যুববৃন্দ ক্লাবের এবার ৫৬ তম বর্ষ। উদ্যোক্তারা জানিয়েছে, বাংলা হরফ তৈরির ইতিহাস তুলে ধরা হবে মণ্ডপে। থিমের নাম দেওয়া হয়েছে পঞ্চাননের হরফ। তিন লক্ষ টাকার বাজেটে সেজে উঠছে প্যান্ডেল। এছাড়াও আগেকার দিনে যে ছাপানো মেশিন ছিল, সেটার একটি মডেল তুলে ধরা হবে ভিতরে। থিমের মণ্ডপ হলেও প্রতিমা থাকছে সাবেকি ঘরানার। বাজেট ধরা হয়েছে ৩ লক্ষ টাকা।
ডায়মন্ডহারবার পুরাতন বাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির ৬১ তম বর্ষে ডোকরা শিল্পকে তুলে ধরা হবে। জানিয়েছেন শিল্পী দেবচন্দন হালদার। বিভিন্ন সামগ্রী ব্যবহার করে ডোকরা শিল্পের কাজ ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। এখানেও প্রতিমা সাবেকি। ১২ লক্ষ টাকার বাজেট এই পুজোর।
নুনগোলা সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির এবার ১০৯ তম বর্ষ। এটাই বন্দর শহরের অন্যতম পুরনো পুজো বলে পরিচিত। একটি কাল্পনিক মন্দিরের আদলে তৈরি হচ্ছে প্যান্ডেল। আলোই হতে চলেছে এই পুজোর মূল আকর্ষণ। শিল্পী দেবচন্দনবাবু বলেন, মণ্ডপের ভিতরে ছোট ছোট আলোর প্রদীপ থাকবে যা পরিবেশকে মায়াবী করে তুলবে। পাঁচ লক্ষ টাকার বাজেটে গড়ে উঠছে প্যান্ডেল। এই পুজোতেও দেখা যাবে সাবেকি ঘরানার প্রতিমা।